বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারপিটে আব্দুল আহাদ ওরফে সোহেল (২১) নামের এক কলেজ ছাত্র গুরুতর আহত হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। সোহেল উপজেলার বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামের আতাহার আলী মন্ডলের পুত্র। সে ডেমাজানী কমরউদ্দিন ডিগ্রী কলেজে বিএ ১ম বর্ষের ছাত্র। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সোহেলের বাবা আতাহার আলী মন্ডল।
সোহেলের মা রাশেদা বেগম জানান, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে তার ভাসুর (স্বামীর ভাই) মোতাহার আলী মন্ডলের পুত্র ভাতিজা আলমগীর বাদশা (৩২) ও তার স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ চলছিল। দূর থেকে তাদের ঝগড়া-বিবাদ শুনে বাড়িতে ফেরার সময় ভাতিজা আলমগীর বাদশা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আর বলে তুই এই ঝগড়া-বিবাদ লাগিয়েছিস। এই বলে লাঠি দিয়ে মারপিট করতে থাকে। এসময় তার চিৎকারে ছেলে সোহেল এগিয়ে এলে আলমগীর বাদশা ও আরেক ভাসুর লবাহার আলী মন্ডলের পুত্র রউফ (১৮) লাঠি দিয়ে সোহেল ও তাকে মারপিট করে। লাঠির আঘাতে সোহেলের মাথা ফেটে গেলে রক্তাক্ত অস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরো জানান, এর আগেও তার ছেলে সোহেলকে তারা মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন স্বামীর অটোভ্যান তারা চুরি করেছে। দীর্ঘদিন যাবত তারা অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে।
সোহেলের বাবা আতাহার আলী জানান, ২৫-৩০ বছর পূর্বে জমি-জমা নিয়ে বড় দুই ভাই মোতাহার ও লবাহারের সাথে তার দ্বন্দ চলছিল। সেসময় স্থানীয় ভাবে তা মিমাংসাও হয়ে যায়। কিন্তু তারা অত্যাচার চালিয়েই আসছিল। একপর্যায়ে তাদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে বসতভিটা বিক্রি করে অন্যেত্র জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। তারপরও তাদের অত্যাচার-নির্যাতন থেমে নেই। মারপিটের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে রউফ ও আলমগীর বাদশার সাথে কথা বলতে চাইলে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেলে রউফের মা জোসনা বেগম জানান, কেউ কাউকে মারেনি। পড়ে গিয়ে সোহেলের মাথা কেটে গেছে।
থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন