fbpx
বগুড়া জেলার সংবাদশাজাহানপুর

অবুঝ দুই শিশুকে কোলে নিয়ে থানায় অসহায় মর্জিনা বেগম

শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান: গত পাঁচ মাস ধরে স্ত্রীর সাথে কোন যোগাযোগ নেই। বাবার আদর, ভালবাসা থেকে বঞ্চিত পাঁচ বছরের মেয়ে মরিয়ম ও দেড় বছরের ছেলে হোসাইন। দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করার পর থেকেই অবুঝ দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী। মাঝে মধ্যে বাড়িতে এসে যৌতুকের দাবী করে স্ত্রী, সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করতো। সর্বশেষ আদালতের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে লোকজন নিয়ে গিয়ে টেনে হিচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে স্বামী। এমতাবস্থায় অবুঝ দুই শিশুকে কোলে নিয়ে আইনী সহায়তা পেতে থানা পুলিশের আশ্রয় নেন অসহায় মর্জিনা বেগম।

মর্জিনা বেগম বগুড়ার শাজাহানপুর থানার আড়িয়া ইউনিয়নের বামুনীয়া ফকির পাড়া গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের মেয়ে।

মর্জিনা বেগম জানান, ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে বহুকষ্টে তাকে লালন-পালন করেছেন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছোট। প্রায় এক যুগ আগে প্রেম ভালবাসার সম্পর্কের জের ধরে প্রতিবেশী মৃত জনাব আলীর ছেলে ট্রাক শ্রমিক আল আমিন ফকিরের (৪০) সাথে ৩০ হাজার টাকা দেনমহরানা ধার্য করে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের পাঁচ বছরের মেয়ে ও দেড় বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। সংসার জীবনে তারা সুখেই ছিলেন। হঠাৎ করে দেড় বছর আগে হাজেরা খাতুন নামে এক নারীর সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন তার স্বামী। এনিয়ে শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ। মাঝে মধেই শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো স্বামী। এরই মধ্যে স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে হাজেরা খাতুনকে বিয়ে করেন আল আমিন। পাঁচ মাস আগে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর জেনে যান মর্জিনা বেগম। প্রতিবাদ করায় বেড়ে যায় নির্যাতনের পরিমান। এমনকি ঘরে তালা মেরে বন্দি করে রাখতো তাকে। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবী করে স্বামী। অথচ বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এবং ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেয়া হয়েছে। গত ৫ মাস সংসারের কোন ভরণ-পোষন না দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় আল আমিন। মাঝে মধ্যে এসে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিত। অবুঝ দুই শিশুর খাবার জোগাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে দিন পার করছিলেন মর্জিনা বেগম। বাবার বাড়িতে বৃদ্ধা মা, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে উধাও, বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি সব মিলিয়ে অবুঝ দুই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মর্জিনা বেগম। এমতাবস্থায় গত মঙ্গলবার সকালে পোষ্ট অফিসের পিয়ন এসে বলেন, তোমার স্বামী তোমাকে তালাক করেছেন। তোমার নামে ৩৫ হাজার টাকা এসেছে। টাকা তুলতে চাইলে তিন দিনের মধ্যে পোষ্ট অফিসে এসে স্বাক্ষর করে টাকা তুলে নাও। অথচ একদিন যেতে না যেতেই বুধবার দুপুরে স্বামী আল আমিন ফকির দলবল নিয়ে এসে পুনরায় স্ত্রীকে চুল ধরে টেনে হিচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এঘটনায় মর্জিনা বেগম আইনী সহায়তা পেতে বুধবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্বামী আল আমিন জানান, আদালতের মাধ্যমে তালাক দেয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে। কোন নির্যাতন করা হয়নি।

বাগবুল ইসলাম নাইম নামে এক প্রতিবেশী জানান, বেশ কয়েকবার তাদেরকে নিয়ে গ্রাম্য শালিশ হয়েছে। গ্রামের মাথামুরুব্বীদের সামনে আল আমিন নিজের ভূল স্বীকার করে একাধিকবার সংসার করা কথা বলে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এমতাবস্থায় অসহায় ওই নারীকে আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =

Back to top button
Close