fbpx
সারাদেশ

শেরপুরে নৌকায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান গ্রেফতার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ কলেজ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

গ্রেফতার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ কলেজ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার কাজীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়রসহ গ্রেফতার ৪

কাজীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়রসহ গ্রেফতার ৪
বগুড়া সংবাদ ডটকম (শেরপুর প্রতিনিধি)
বগুড়ার শেরপুরে নদীর মধ্যে নৌকায় জুয়া খেলার সময় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ দেয়া নিখোঁজ কলেজ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ০৭ অক্টোবর বুধবার বিকেলে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বাঙালী নদীর চকনশী এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিহত ওই শিক্ষকের নাম মো, আব্দুল হাই (৩৫)। তিনি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার আমেনা মনসুর ডিগ্রী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক মÐলের ছেলে। বর্তমানে শেরপুর শহরতলীর হামছায়াপুর এলাকায় স্ব-স্ত্রীক বসবাস করতেন।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ০৬ অক্টোবর মঙ্গলবার দিনগত রাত অনুমান রাত অনুমান ৯টার দিকে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা আওলাকান্দি ঘাট এলাকায় বাঙালী নদীর মধ্যে নৌকায় জুয়া খেলা চলছিল। গোপনে এই সংবাদ পেয়ে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গণির নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশি উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে গ্রেফতার এড়াতে কলেজ শিক্ষক আব্দুল হাইসহ বেশ কয়েক জুয়াড়ি নদীতে ঝাঁপ দেন। এরমধ্যে অন্যান্যরা সাঁতরিয়ে নদীর পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও ওই কলেজ শিক্ষক বাঙালী নদীতে নিখোঁজ হন। তবে এই অভিযানে কাজীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. তাছির উদ্দীন (৫০), ধুনট উপজেলার চাঁন্দিয়াড় গ্রামের হেলাল উদ্দীন (৩৮), শেরপুর পৌরশহরের দত্তপাড়া এলাকার মানিক তাম্বলী (৩৫), সুঘাট ইউনিয়নের আওলাকান্দি গ্রামের নৌকার মালিক রফিকুল ইসলামকে (৪০) ও একই ইউনিয়নের জয়লা আলাদি গ্রামের আব্দুল হান্নান খানকে (৩৫) আটক করে থানায় আনা হয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের তদবিরে আব্দুল হান্নানকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ নগদ সাড়ে ৩৩হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার বেশ কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত হলে কলেজ শিক্ষক আব্দুল হাই বাড়িতে না আসায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়েন তাঁর পরিবার। একপর্যায়ে গতকাল বুধবার সকালে নিহত কলেজ শিক্ষকের স্ত্রী মোছা. আসমা খাতুন থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁর স্বামী নিখোঁজের বিষয়টি জানান এবং উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। মূলত এরপরপরেই পুলিশ বিভাগে শুরু হয় তোলপাড়। ডাকা হয় স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের। তারা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নদীতে নিখোঁজ শিক্ষককে উদ্ধারের তৎপরতা চালান। প্রায় চার ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অনুমান এক কিলোমিটার দূরে চকনশী খালের মুখ থেকে নিখোঁজ ওই শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করেন। জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞ্রা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) মো. গাজিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চাইলে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞ্রা জানান, উদ্ধার হওয়া লাশটি নিখোঁজ কলেজ শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের বলে তাঁর স্বজনরা সনাক্ত করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 2 =

Back to top button
Close