fbpx
শেরপুর

শেরপুরে খাল খনন নিয়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি : রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

বগুড়া সংবাদ ডটকম (শেরপুর প্রতিনিধি কামাল আহমেদ )
বগুড়ার শেরপুরে শিমলা-সাতবাড়িয়া সরকারি খাল খনন নিয়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এতে করে তৈরী হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। এমনকি যে কোন সময় এই দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ অবস্থায় বন্ধ হয়ে গেছে খাল খনন কর্মসূচি। ব্যক্তি মালিকানাধীন এক কৃষকের জমি দখল করে এই খাল খনন করা হচ্ছে মর্মে-অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক আজিজুল হক। অপরদিকে ওই খালটি খননের দাবিতে সোচ্চার আরেক পক্ষ। তাঁরাও খালটি খননের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত দাবি করেছেন।
উপজেলা কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) দপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের শিমলা-সাতবাড়িয়া নামে পরিচিত খাল খনন কর্মসূচি বিগত ১৫মে থেকে শুরু করা হয়েছে। দুই কিলোমিটার দূরত্ব এই খালটি খননের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে বিশ লাখ টাকা। আগামি ৩১ডিসেম্বরের মধ্যে খনন কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে ইতিমধ্যে খালটি খননের প্রায় আশিভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু খালের শেষপ্রান্তে ৫২শতক জমি ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করছে একটি কৃষক পরিবার। আর তাদের বাধার কারণেই খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খালের মধ্যে কৃষক আজিজুল হকের নিজস্ব জমি রয়েছে বলে দাবি করছেন। একইসঙ্গে খাল খনন করতেও নিষেধ করেছেন। এ কারণে খননকাজ বন্ধ রেখেছেন তারা।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষক আজিজুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, যে জমির ওপর দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে, তা তাঁদের পরিবারের কেনা সম্পত্তি। দু’টি দাগে তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ ৫২শতক। সর্বশেষ মাঠ খতিয়ান তাদের নামে হয়েছে। ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এ জমিতে চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। জমিটি তাদের সম্পত্তি হওয়ায় খনন কাজে তারা নিষেধ করেছেন। এছাড়া খাল খননের নকশাতেও সেটি পরিস্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। এরপরও স্থানীয় স্বার্থন্বেষী মহলের একটি মহলের প্ররোচনায় খাল খননের নকশা পরিবর্তন করে তাদের ব্যক্তি মালিকাধীন জায়গা দিয়ে খাল খননের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে আরেক পক্ষের নেতা মশিউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির দাবি, বিগত সময়ে ওই জমির ওপর দিয়ে সরকারি উদ্যোগে খাল খনন করা হয়। সে সময়ে কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু এখন আজিজুল হকের পরিবার থেকে কেনা সম্পত্তি দাবি করে বাধা দেয়া হচ্ছে। অথচ এই খাল খনন হলে গ্রামের অনেক কৃষক লাভবান হবেন। জমিতে সেচ দিতে পারবেন। পানির আর সমস্যা থাকবে না। পাশাপাশি গ্রামের জলাবদ্ধতা থাকবে না। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা হবে। তাই এই খাল খননের বাধা মেনে নেয়া হবে না। যে কোন মূল্যে খালটি খনন করতেই হবে। ঘটনাটি নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা। এই খাল খনন নিয়ে দু’পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় যে কোন সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উভয়পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি বিবাদমান দুই পক্ষকেই শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 1 =

Back to top button
Close