বগুড়া সংবাদ ডট কম(সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন) : বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চর এলাকায় উৎপাদিত মরিচের চাহিদা সারাদেশে। জেলার মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর চরে সবচেয়ে বেশি মরিচের আবাদ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম ভাল পাওয়ায় খুশি মরিচ চাষিরা। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বগুড়ার উৎপাদিত মরিচ সরবরাহ করা হচ্ছে।
উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে এই উপজেলায় ৩হাজার ৪শ ৯০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও অধিক জমিতে এ বছর মরিচ আবাদ করা হয়েছে। ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখছে। মরিচ অর্থকরী ফসল হওয়ায় অনেক চাষি মরিচ আবাদ করে নিজেদের ভাগ্যবদল করে ফেলেছে। সরেজমিনে চর এলাকার মরিচের আবাদ পরিদর্শন কালে দেখা যায়, এখন পাকা মরিচ গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। চাষিরা গাছ থেকে পাকা মরিচ সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে। এসময় কথা হয়, হাটশেরপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. হায়দার আলীর সাথে। তিনি জানান, চরে মরিচ আবাদ একটি লাভজনক ফসল। যমুনার চর এলাকায় বর্ষাকালে পলি মাটি জমে উঠায় জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই মরিচ আবাদ করতে খরচ কম হয় ও ভাল ফলন পাওয়া যায়। মরিচ আবাদ করে তিনি সহ চরের অনেকে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে ফেলেছেন। চরের আরো কয়েকজন কৃষকের সাথে প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৪শ কেজি শুকনা মরিচ উৎপাদন হচ্ছে। মরিচের বাজার মূল্য ভালো পাওয়ায় খরচ মিটিয়ে চাষিরা লাভের মুখ দেখছেন। এছাড়াও যুমনা নদীর চরে মরিচের খেত ঘুরে দেখা যায় স্থানীয় মৌসুম ব্যবসায়ীরা খেত থেকেই কাঁচা ও পাকা মরিচ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করছে। এতে সহজেই কৃষকরা তাদের ফসল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছে। উপজেলার কৃষি অফিসার মো. শাহাদুজ্জামান জানান, চরে পলি মাটির হওয়ায় অল্প খরচে মরিচ আবাদ করা যায়। ফলে মরিচের দানা ও ফলন বৃদ্ধি হয়। এছাড়াও আবহাওয়া ও মাটি মরিচ চাষের উপযুক্ত। কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে সার ও বালাইনাশক সহজ লভ্য হওয়ায় চাষিরা ভলো ফলন পেয়েছে। এবছর মরিচের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন