fbpx
সারাদেশ

শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্রি অথবা ন্যূনতম মূল্যে সংযোগসহ হ্যান্ডসেট প্রদানের দাবি

বগুড়া সংবাদ ডট কমঃ পেঁয়াজ আমদানির মত দুই মাসের জন্য ৪জি ডিভাইস আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার করে অপারেটরদের সাথে চুক্তিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্রি অথবা ন্যূনতম মূল্যে সংযোগসহ হ্যান্ডসেট প্রদানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

আজ ১৮ আগষ্ট ২০২০ইং মঙ্গলবার, সকাল ১১:৩০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে স্বল্প খরচে নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির প্রস্তাবনা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ সংগঠনের সকল দাবির সাথে একমত পোষণ করে বলেন, দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় শিক্ষার্থীরা। তিনি সরকারের উচিত কর কমিয়ে ফ্রি অথবা স্বল্পমূল্যে হ্যান্ডসেটসহ সংযোগ প্রদান করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান মারগুব মোর্শেদ বলেন, কমিশন চাইলে ট্যারিফ শূণ্য ঘোষণা করে তরঙ্গ বরাদ্দ দিতে পারে। তা কোন আইনগত সমস্যা হবে না। এতে গ্রাহকরা উপকৃত হবে। সেই সাথে সকল শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাবে। রাষ্ট্রও পর্যাপ্ত রাজস্ব আদায় করতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিবির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কমিশনকে আমরা স্বাধীন দেখতে চাই। কমিশনের বক্তব্য সঠিক না। প্রধানমন্ত্রী বা অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনই যদি প্রয়োজন হয় তাহলে কমিশন রেখে লাভ কি? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আলাদা একটি সেল করেই তো কাজ চালানো যায়।

ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র এসোসিয়েট প্রফেসর খালিদ মাহমুদ বলেন, “শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে আমরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছি। আরো অনেক আগেই সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন ছিল। দুই বা তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সহ হ্যান্ডসেট প্রদানে সকল প্রতিবন্ধকতা নিরসন করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মজুদদার ব্যবসায়ীদের মতো আচরণ সরকারের কাছে আশা করি না। তরঙ্গ জিম্মি করে সরকার ব্যবসা করুক এটা আমরা চাই না। তাই দ্রুত জাতীয় সম্পদ তরঙ্গকে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, গত ২৫ জুলাই ২০২০ “গ্রাহক স্বার্থরক্ষায় মানসম্মত টেলিকম সেবার জন্য পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দে প্রতিবন্ধকতা নিরসনে করণীয়” শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনের সদস্য (স্পেকট্রাম), ডিজি (স্পেকট্রাম), কোয়ালিটি সার্ভিসের ডিজি, উপ-পরিচালক, সিনিয়র সহকারী পরিচালক সহ অন্যান্য স্টেক হোল্ডারবৃন্দ। উক্ত আলোচনায় কমিশনের চেয়ারম্যান সহ কমিশনের অন্যান্য অতিথিগণের বক্তব্যে যে বিষয়গুলি প্রতীয়মান হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তরঙ্গ স্বল্পতার কারণেই স্বল্প খরচে নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তি সম্ভব হচ্ছে না। সেই সাথে তরঙ্গের দাম কমানোর কথা উঠতে তারা যে যুক্তিগুলো উপস্থাপন করে তার ব্যাখ্যা আমরা তুলে ধরছি।

১) তরঙ্গের দাম কমালে অন্য অপারেটররা পূর্বে বরাদ্দকৃত তরঙ্গের মূল্য ফেরত চাইতে পারে। আমাদের বক্তব্য আইনে কোথাও এ ধরণের বাধ্যবাধকতা নেই। যদি তাই হয় তবে শেয়ার মার্কেট পতনের পর শেয়ার হোল্ডাররা তাদের ক্ষতির অংশ সরকারের কাছে ফেরত চাইতে পারতো। অতএব এই যুক্তি বাস্তবসম্মত নয়। অন্যদিকে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন অপারেটরদেরকে ১০ মেগা হার্টজ স্পেকট্রাম ফ্রি দেয়া হলেও সেই অর্থ আজও সরকার ফেরত চায় নাই। অতএব দাম কমালে টাকা ফেরত দিতে হবে এ ধরণের যুক্তি ভিত্তিহীন। সরকার চাইলে জনগণের স্বার্থে যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

২) তরঙ্গের মূল্য বাড়িয়েছে অপারেটররা। এ বক্তব্যের সাথেও আমরা একমত নই। কারণ কমিশন তরঙ্গের একটি বেজ রেট (ভিত্তি মূল্য) ঠিক করে নিলাম প্রস্তাব করে। এখানে উল্লেখ্য যে, অর্থমন্ত্রণালয় কমিশনের প্রস্তাবিত মূল্যেই অনুমোদন করে। সেই বেস রেট বা ভিত্তি মূল্যই ছিল অনেক বেশি এবং অযৌক্তিক। যার কারনে নিলামে সেই ভিত্তি মূল্যের তেমন কোনো বৃদ্ধি হয়নি এবং প্রতিযোগিতাও ছিল না। পরিণামে অপারেটররা উচ্চ মুল্যে অল্প পরিমাণ তরঙ্গ কিনেছে।

৩) তরঙ্গের দাম কমাতে বা বাড়াতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০২ অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন একটি স্বাধীন কমিশন। এ আইনের কোথাও প্রধানমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা নেই। অতএব কমিশনের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নেই। কারণ এ যাবৎ কমিশনের প্রস্তাবিত তরঙ্গমূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শুধু অনুমোদন ছাড়া আর কোন ভূমিকাই ছিল না বলে আমলা লক্ষ্য করেছি।
৪) বাল্ক (সম্পূর্ণ) তরঙ্গ যদি কেউ কেনে সেক্ষেত্রে দাম কমানো যেতে পারে। আমাদের বক্তব্য বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে কোন অপারেটর বাল্ক তরঙ্গ কিনতে সক্ষম কিনা সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। সেই সাথে কোন অপারেটর যদি বাল্ক স্পেকট্রাম কিনে তাহলে ঐ অপারেটর মনোপলি করে গ্রাহকদেরকে জিম্মি করতে পারে। অন্যদিকে অন্য অপারেটররা গ্রাহক হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই কমিশনের এ ধরণের যুক্তির সাথে আমরা একমত নই।

তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা মহামারিতে শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক, আদালত, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন সকল কার্যক্রমের একমাত্র মাধ্যম টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা। করোনা মহামারিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে এ মাধ্যম। তাই প্রয়োজন পড়েছে নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুতগতির সেবার। চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৫০ গুণ। ইতিমধ্যে ইন্টারনেটর গ্রাহক বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ২১ লক্ষ ১৩ হাজার। ডাটার ব্যবহার বেড়েছে ২৫%। বিপুল চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে গ্রাহক ভোগান্তিও বেড়েছে বহুগুণ। অন্যদিকে উচ্চমূল্য ও ইন্টারনেটের ধীরগতি থাকায় ৪৫% গ্রাহক এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সবচাইতে ক্ষতিগস্ত্র হয়েছে দেশের নতুন প্রজন্মের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী। অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও ডিভাইস স্বল্পতা দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ডাটার উচ্চমূল্য থাকার কারণে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে ইউজিসি ডিভাইস ক্রয়ে অক্ষম শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু সড়ক তৈরি না করে গাড়ি ক্রয় করে যেমন গাড়ি ব্যবহার করা যায় না, তেমনি টেলিযোগাযোগের নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন না করে শুধু ডিভাইস দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, গত ২৫ জুলাই ২০২০ “গ্রাহক স্বার্থরক্ষায় মানসম্মত টেলিকম সেবার জন্য পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দে প্রতিবন্ধকতা নিরসনে করণীয়” শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তরঙ্গের পর্যাপ্ত ব্যবহার ও মানসম্পন্ন গ্রাহক সেবা প্রাপ্তিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট উপ-পরিচালক ড. সোহেল রানার গবেষণা প্রতিবেদনের কিছু অংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। তরঙ্গ একটি মূল্যবান জাতীয় সম্পদ, যাহার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো ইহার সঠিক মূল্য নির্ধারণ। তরঙ্গের মূল্য নির্ধারণে সামান্য ভুলের জন্য দেশের রাজস্বের ক্ষতি হয়, তরঙ্গ অব্যবহৃত থাকে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীগণ ভাল সার্ভিস প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় তরঙ্গের ব্যবহার অনেক কম, প্রতি মিলিয়ন গ্রাহকের জন্য বাংলাদেশে তরঙ্গ ব্যবহার ০.৮২ মেগাহার্জ যেখানে মালয়েশিয়ায় ৭.১৬ মেগাহার্জ, থাইল্যান্ডে ৩.৬১ মেগাহার্জ, মায়ানমারে ২.৪৮ মেগাহার্জ ভিয়েতনামে ১.৪৯ মেগাহার্জ, নেপালে ১.৯৮ মেগাহার্জ, শ্রীলঙ্কায় ৬.৪ মেগাহার্জ এবং কম্বোডিয়াতে ৯.৬৯ মেগাহার্জ। নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি তিনটি পদ্ধতিতে বৃদ্ধি করা যায়। যথা- অধিক পরিমাণে তরঙ্গ ব্যবহার করে, অথবা তরঙ্গ পুনঃব্যবহার করে বিটিএস এর সংখ্যা বাড়িয়ে অথবা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কিন্তু বিটিএস এর সংখ্যা বৃদ্ধি করার একটা নির্দিষ্ট সীমা আছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রেগুলেশন অনুযায়ী একটি অপারেটরের ২ টি বিটিএস এর মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখতে হয় ৫০০ মিটার, যদি দূরত্ব ৫০০ মিটারের কম হয় তবে কো-চ্যানেল ও ধফলধপবহঃ চ্যানেল ইন্টারফেয়ারেন্স বেড়ে যায়, যার কারনে কল ড্রপ হয়। বাংলাদেশে কম তরঙ্গ ব্যবহার হওয়াতে বিটিএস এর ঘনত্ব অনেক বেশি, যার কারনে কল ড্রপ বেশি হয়। এছাড়া, তরঙ্গ কম হওয়াতে ২-জি প্রযুক্তিতে ভয়েস চ্যানেলগুলোকে হাফ রেটে রূপান্তর করা হয়ে থাকে যার কারনে নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক এর তুলনায় দ্বিগুন লোডে অপারেট হয়, যার কারনে ভয়েস কোয়ালিটি খারাপ হয় এবং কল ড্রপ হয়ে থাকে। বেশিরভাগ দেশে হাফ রেট প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয় না। তবে জনবহুল দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও তা ২৫-৩০% চ্যানেলের অধিক নয়। যার কারনে সকল গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে, যে দেশে যত বেশি তরঙ্গ বরাদ্দ থাকে সেই দেশের নেটওয়ার্কের ক্ষমতা তত বেশি এবং নেটওয়ার্ক এর অপারেশনাল কস্ট কম থাকে, এতে সেবার মান বাড়ে এবং অপারেটর সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে গ্রাহক ইউটিলিটি ও প্রডিইউসার ইউটিলিটি দুটাই বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবায় উচ্চমূল্য, ইন্টারনেটের ধীরগতি ও মানহীন হবার কারণ নিয়ে গত ৬ মাস যাবত আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আসছি। আমাদের কাছে ৩টি মূল সমস্যা প্রতীয়মান হয়েছে তা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আশা রাখছি, এ সকল সমস্যার সমাধান করা হলে গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে মানসম্মত দ্রুতগতির ইন্টারসেবা প্রদান সম্ভব।

জিপি, রবি ও বাংলালিংক ১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে অবরাদ্দকৃত ২৮ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যবহার না করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ১১,৯৮৪, ৮৮৫৪ ও ৯১৯৮ টি বিটিএস সাইট স্থাপন করেছে, যেখানে দেখা যায় যে, এই ২৮ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যবহার না করে তিনটি অপারেটর সর্বমোট ১১৩৫৫টি অতিরিক্ত বিটিএস সাইট স্থাপন করেছে, যাহা বিদেশ থেকে আমদানী ও স্থাপনের জন্য সর্বমোট প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে, এই টাকার ৯০% চলে গেছে দেশের বাইরে, অথচ ২৮ মেগাহার্জ তরঙ্গ ২০১৮ সাল পর্যন্ত অব্যবহৃত থেকেছে। এখনও ১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে ৭.৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ অবরাদ্দ রয়েছে। অর্থাৎ ২৮ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যবহার করতে না পারায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬৭৫ মিলিয়ন ডলার।

মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, অধিক পরিমাণের তরঙ্গ ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হলে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ এবং সঠিক নিয়ম-নীতি। রোড ম্যাপ করার জন্য সর্বপ্রথম দরকার ট্রাফিক ফরকাস্টিং। ট্রাফিক ফরকাস্ট বরে তরঙ্গের পরিমাণ, বিটিএস সংখ্যা এবং তরঙ্গের মূল্যের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করা। স্পেকট্রাম দিয়ে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে হলে অবশ্যই স্পেকট্রাম এর দাম এমন পর্যায়ে রাখতে হবে যেটা ড়ঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃু পড়ংঃ থিওরি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ ১ মেগাহার্জ তরঙ্গের মূল্য এমন হতে হবে যা ১ মেগাহার্জ তরঙ্গের সমান ক্যাপাসিটি সৃষ্টি করতে যতগুলো বিটিএস দরকার ওই সংখ্যক বিটিএস’র ইনস্টলমেন্ট, অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষন বাবদ যে খরচ তার সমান। যদি তরঙ্গের মূল্যে ড়ঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃু পড়ংঃ এর চেয়ে বেশি হয় তাহলে কোনো অপারেটর স্পেকট্রাম কিনতে আগ্রহী হবে না। স্বল্প খরচে সকলের জন্য ব্যবহারযোগ্য নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুত গতি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যেসকল সমস্যা আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে তার মধ্যে অন্যতমÑ

১) উচ্চকর হার:
গত ৫ বছরে ৫ বার কর বাড়িয়ে সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে ২৮.৫০% আদায় করা হতো। বর্তমান অর্থবছরে আরো ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে ১০০ টাকায় ৩৩.৭৫ টাকার সাথে অপারেটরদের ওপর আরোপিত কর আদায় হচ্ছে প্রায় ৩০ টাকা।
এই উচ্চকরের সাথে রয়েছে বিটিআরসি’র রাজস্ব ভাগাভাগি, আইসিএক্স, আইজিডব্লিউ, আইআইজি, এনটিটিএন ও এমএনপি’র রাজস্ব ভাগাভাগির পর অপারেটরদের বিনিয়োগের লভ্যাংশ, শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ বাদ দিয়ে বাকি অংশ থেকে গ্রাহককে সেবা প্রদান করা হয়। বর্তমান বিশ্বে মধ্যস্বত্ত্বভোগী অপারেটরগুলি তুলে দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এখনো বিদ্যামান থাকায় সেই সাথে উচ্চ কর হারের ফলে গ্রাহকরা স্বল্পখরচে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

২) তরঙ্গ স্বল্পতা:
বিটিআরসির মে ২০২০ এর ডাটা অনুযায়ী দেশে সক্রিয় সিম রয়েছে ১৬ কোটি ১৫ লক্ষ ৬ হাজার। এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দিতে ৪টি অপারেটর যথাক্রমে গ্রামীণফোন ৩৭ মে.হা, রবি ৩৬.৪ মে.হা, বাংলালিংক ৩০.৬ মে.হা. ও টেলিটক ২৫.২ মে.হা. তরঙ্গ ব্যবহার করছে। দেশের সর্বোচ্চ গ্রাহক (৭ কোটি ৪৩ লক্ষ ৬১ হাজার) নিয়ে গ্রামীণফোন ১ মেগাহার্টজ তরঙ্গ দিয়ে ২০ লক্ষ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। অথচ এশিয়ার অন্যান্য দেশে তাদেরই প্রতিষ্ঠান টেলিনর ১ কোটি গ্রাহকের বিপরীতে ব্যবহার করছে ৬০-১০০ মে.হা. তরঙ্গ। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৫% জনগণ ৩জি ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় এবং ৮০% জনগণ ৪জি ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায়। বাংলাদেশে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গ দিয়ে গড়ে প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহককে সেবা দেওয়া হয়। যেখানে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমারে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ, নেপালে ৩ লাখ ৫০ হাজার, শ্রীলঙ্কায় ১ লাখ ৫০ হাজার, থাইল্যান্ডে ২ লাখ ৮০ হাজার, মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহককে সেবা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে মূল তরঙ্গ ব্যান্ডগুলোতে এখনো ১৯০ মেগাহার্টজের উপরে তরঙ্গ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে তরঙ্গের মূল্য প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অব্যবহৃত তরঙ্গ একদিকে যেমন গ্রাহকের কোন উপকারে আসছে না, অপরদিকে তা সরকারকেও কোন রাজস্ব দিচ্ছে না, সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রাহক, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।

৩) ডিভাইস স্বল্পতা:
দেশে বর্তমানে ৪জি নেটওয়ার্ক রয়েছে ৮০ শতাংশ। অথচ ৪জি ব্যবহারকারী ডিভাইস আছে ২০ শতাংশ। মানসম্মত ডিভাইস না থাকায় ভাল নেটওয়ার্ক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে। ভারতের জিও তাদের গ্রাহকদের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে ব্যবহারের শর্তে মাত্র ১৫০০ টাকায় ৪জি হ্যান্ডসেট সহ সংযোগ প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে ডিভাইসের মান ও ইন্টারনেটের গতি সম্পর্কে জিও জবাবদিহিতা করে। অথচ আমাদের দেশে মানসম্মত ৪জি হ্যান্ডসেট কিনতে ১৫-৩০ হাজার টাকা লাগে। উচ্চমূল্যে মানসম্মত ডিভাইস ক্রয় করা সকল গ্রাহকের পক্ষে সম্ভবপর নয়।

৪) আমলাতান্ত্রিক জটিলতা:
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০২ অনুযায়ী কমিশন একটি স্বাধীন কমিশন। বাংলাদেশ এনার্জী রেগুলেটরী কমিশনে সরকার জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধি বা কমানোর প্রস্তাব করে। যার প্রেক্ষিতে কমিশন স্টেক হোল্ডারদের মতামতের প্রেক্ষিতে মূল্য নির্ধারণ করে। কিন্তু একই ধরণের কমিশন হলেও বিটিআরসি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করে এবং মন্ত্রণালয় কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করে। অন্যদিকে গত ২৫ জুলাই ২০২০ আমাদের ভার্চুয়াল আলোচনায় কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, “তরঙ্গ বা সেবার মূল্য কমাতে গেলে অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।” স্বাধীন একটি কমিশন কেন একাধিক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।

স্বল্প খরচে নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তিতে আমাদের প্রস্তাবনা:
* টেলিযোগাযোগ সেবার উপর আরোপিত করের হার কমানো।
* ফাইবার অপটিক্যাল নেটওয়ার্কের যুক্তিসঙ্গত মূল্য নির্ধারণ করা।
* আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করা।
* নিরবিচ্ছিন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানে গ্রাহক অনুপাতে পর্যাপ্ত তরঙ্গ নিশ্চিত করা। সরকার তরঙ্গের মূল্য কমিয়ে বা বিনামূল্যে প্রদান করে অপারেটরদের সাথে বিশেষ চুক্তিতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরী প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ফ্রি বা অধিকতর কম মূল্যে গ্রাহকদের সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। সেই সাথে অব্যহৃত তরঙ্গসমূহ ব্যবহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
* পেঁয়াজ আমদানির মত দুই মাসের জন্য ৪জি ডিভাইস আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার করে অপারেটরদের সাথে চুক্তিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্রি অথবা ন্যূনতম মূল্যে সংযোগসহ হ্যান্ডসেট প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আবু সালেহ, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু বকর ছিদ্দিক, বাংলাদেশ মোবাইল রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু, কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + fourteen =

Back to top button
Close