fbpx
বগুড়া জেলার সংবাদশাজাহানপুর

সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি পরিবার

বগুড়া সংবাদ ডট কম শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি ছেয়ে পালিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি দরিদ্র পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল ছোট হিন্দুপাড়া গ্রামে। শুধু সংখ্যালঘু ওই পরিবারটি নয় সন্ত্রাসীদের দৌরত্তে জিম্মি হয়ে পড়েছে শাবরুল এলাকার সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ।

শাবরুল ছোট হিন্দুপাড়ার পরিমল চন্দ্র দাস জানান, তার ছেলে সুমন শাবরুল বাজারে নাপিতের কাজ করে স্ত্রী ও চার বছর বয়সি এক শিশু সন্তানকে নিয়ে কোন সংসার চালান। এক মাস আগে শাবরুল কারিগর পাড়ার বিপুল হোসেনের ছেলে আপেল মাহমুদ (২৮) এবং তারেক হোসেন (৩১), মাথাইলচাপড় গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির (৩৫) এবং সাইফুল ইসলামের ছেলে সাগর হোসেন (৩২) সহ একদল সন্ত্রাসী সুমনকে নিজ বাড়ি থেকে বাবা মায়ের সামনে মারপিট করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর সুমনের মোবাইল থেকে বাবা পরিমলের কাছে ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ছেলে বাঁচাতে গরু ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনেন পরিমল। এসময় আরো ১ লক্ষ টাকা দাবী করে সন্ত্রাসীরা। না দিলে সুমনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বাকি ১ লক্ষ টাকা দিতে না পারায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতার আশংকা করে সুমন তার স্ত্রী ও ৪ বছরের শিশু সন্তানকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সুমন।

পরিমল আরো জানান, সন্তান ও নাতিদের নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চান। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে গত শুক্রবার শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসিদের কাছ থেকে জানা যায়, একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে শাবরুল, মাথাইলচাপড় ও এর আশাপাশ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ত কায়েম করে রেখেছে তারা। সন্ত্রাসীদের শত অত্যাচার সহ্য করেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।সম্প্রতি বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র সাগর, মুনির, আপেল, সেলিম ও তারেক গ্রুপের সাথে প্রতিপক্ষ টিপু, আহাদ ও সজিব গ্রুপের দ্বন্দ শুরু হয়। এনিয়ে এলাকায় আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৪ এপ্রিল টিপু, আহাদ ও সজিব গ্রুপের হাতে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হয় সাগর, মুনির, আপেল, সেলিম ও তারেক গ্রুপের সহযোগী আবু বকর সিদ্দিক। ওই মামলায় উল্লেখযোগ্য কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।সাগর, মুনির, আপেল, সেলিম ও তারেক গ্রুপ কিছুদিন আগে শাবরুল বাজারে ছিট কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। একই ভাবে শফিকুল নামে এক ট্রাক চালকের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা নেয় গ্রুপটি। কিন্তু জীবনের ভয়ে কোন অভিযোগ করেন নি তারা।

এর আগে শাবরুল বড় হিন্দুপাড়া গ্রামের এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেছিলো এই গ্রুপটি। এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারী থানায় মামলা হয়। সেই মাদলায় আসামী ছিলো আপেল মাহমুদ ও তার ভাই তারেক সহ অন্য সহযোগীরা। এছাড়াও ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর শাবরুল উত্তরপাড়া গ্রামের ওয়ালেদা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধুকে ছুরিকাঘাত করে ছিলো সন্ত্রাসী আপেল মাহমুদ। ইতিপূর্বে এই গ্রুপের অভ্যন্তরীন কোন্দলে খুন হয় ভ্যান চালক মজনু মিয়া। বাড়ির অদূরে জঙ্গলের ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়। সেই মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে চার্জশিট দিয়েছে।

শাবরুল এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলমান থাকলেও পুলিশী অভিযানে তেমন কোন সফলতা আসেনি। গত ১৫ জুলাই অভিযান চালিয়ে সন্তাসী আপেল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে মাদক মামলায় আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শাবরুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুরুজ্জামান পান্নু জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। ইতিপূর্বে স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিবাদি হয়ে উঠলে কিছুদিন থেমে ছিল। আবার তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাচ্ছে না।

আশেকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম জানান, ইতিপূর্বে সন্ত্রাসীদের দমন করতে এলাকাবাসিদের সাথে শাবরুল এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। পরবর্তিতে আশেকপুর ইউনিয়ন পরিষদে পুনরায় প্রতিবাদ সমাবেশ করতে গেলে তৎকালিন ওসি পুলিশ পাঠিয়ে সেই সমাবেশে বাধা দিয়েছে। মূলত পুলিশই সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছে। আশেকপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসী, মাদক সহ সকল প্রকার অপরাধীদের দমন করতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দীন জানান, ইতিমধ্যেই আপেল নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই এলাকার অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিমলের ছেলে সুমন এখন ইচ্ছা করলে বাড়িতে ফিরতে পারবে। তার আর কোন সমস্যা হবেনা। তাছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে তার সাথে কথা বলা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 8 =

Back to top button
Close