fbpx
ধুনটবগুড়া জেলার সংবাদ

ধুনটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারী জলমহল থেকে মাছ বিক্রির অভিযোগ

বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনটে আদালতের আদেশ অমান্য করে টেংরাখালি সরকারী জলমহল থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। সোমবার সকাল ১০টায় চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের টেংরাখালি সরকারী জলমহল থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরে বিক্রি করা হয়। তবে অবৈধভাবে মাছ ধরার প্রতিবাদ করায় হুমকির মখে পড়েছে ওই এলাকার শতাধিক জেলে পরিবার।
স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নে ৪২ একর আয়তনের টেংরাখালি জলমহলটি ১৪২৪-২৯ বঙ্গাব্দ মেয়াদে পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া ধীবর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু জলমহল থেকে ওই সমিতির দূরত্ব ৬/৭ কিলোমিটার হওয়ায় তারা ওই জলমহলটি স্থানীয় আব্দুর রউফ খান নামের এক ব্যক্তিকে সাব ইজারা প্রদান করেন। একারনে টেংরাখালি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির পক্ষে নিমাই হওয়ালদার বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা (নং-৭৬৪৩/২০১৭) দায়ের করেন। ২০১৯ সালে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জলমহলটির সাব ইজারা প্রমাণিত হলে উচ্চ আদালত ওই জলমহলটির ইজারা বাতিল করে তা প্রকাশ্যে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে ইজারা প্রদানের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করেন। বগুড়া জেলা প্রশাসক ২০১৯ সালের ২৩ জুন সরেজমিন তদন্ত করে সাব ইজারা প্রমান পেয়ে একই বছরের ১১ জুলাই জেলা জলমহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় টেংরাখালি জলমহলের ইজারা বাতিল সহ জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করেন।
এরপর পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া মৎস্যজিবি সমবায় সমিতির পক্ষে নরেন্দ্র হাওয়ালহার বাদী হয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক সহ ১০ জনকে বিবাদী করে বগুড়া সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা (নং-২৮০/১৯) দায়ের করলে আদালত ওই জলমহলে প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় আব্দুর রউফ খান ও তার লোকজন ওই সরকারি জলমহল থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে আসছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় আব্দুর রউফ খান ও তার লোকজন আবারও লাঠিশোডা নিয়ে পাহারা দিয়ে জলমহল থেকে লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরে বিক্রি করেছে।
টেংরাখালি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি নিমাই হওয়ালদার জানান, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী হাইকোট ওই জলমহলে প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। আদালতের আদেশে ধুনট থানার তৎকালীন ওসি মাছ মারা বন্ধ করেন। কিন্তু এরপরেও আব্দুর রউফ খানের বাহিনী প্রকাশ্যে ওই জলমহল থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে আসছে। এবিষয়ে অভিযোগ দায়ের করলে গত ৫ জুলাই বগুড়া জেলা প্রশাসক ওই জলমহল থেকে অবৈধভাবে মাছ চুরির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মহন্তকে লিখিত নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মহন্ত সরেজমিনে তদন্ত করে মাছ চুরির জন্য ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ১৯ জুলাই ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও আব্দুর রউফ খান ও তার লোকজন সোমবার সকাল থেকে সরকারী জলমহলের লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করেছে। এবিষয়ে প্রতিবাদ করলে টেংরাখালি গ্রামের জেলে পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করছে প্রভাবশালীরা। তাই তিনি সরকারী জলমহল থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরে বিক্রি বন্ধ করতে এবং সংখ্যালঘু জেলে পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, টেংরাখালি জলমহল থেকে মাছ চুরির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ইউএনও লিখিত নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ি রবিবার এসআই নূরুজ্জামান সরেজমিনে তদন্ত করে গত ৬ মাসে জলাশয় থেকে মাছ চুরির কোন প্রমাণ পাননি। তবে সোমবার সকালে যদি কেউ জলাশয় থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, সরকারী জলমহল থেকে চুরি করে মাছ ধরে বিক্রি করার অভিযোগের তদন্ত করতে ধুনট থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 2 =

Back to top button
Close