fbpx
সারাদেশ

ধামইরহাটে করোনা ভাইরাস আতংকের মধ্যে মাদকের জমজমাট কারবার, সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি

  বগুড়া সংবাদ ডট কম ( মাসুদ সরকার) ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি- করোনা ভাইরাসে সাধারন মানুষ প্রায় ঘরবন্দি প্রশাসন করোনা মোকাবেলায় ব্যস্ত ঠিক তখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সীমান্তের মাদক কারবারীরা। অঘোষিত দখল নিয়ে সীমান্তে জমজমাট মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মাঝে মধ্যে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি’র মাদক বিরোধী অভিযানের ব্যবসায়ী ও সেবনকারী ধরা পড়লেও মাদক পাচারের তুলনায় তা নগন্য। ধামইরহাট উপজেলা আনুমানিক ৩৫-৪০ কিলো মিটার জুড়ে রয়েছে সীমান্ত। যার প্রায় অর্ধেক ভারত সীমান্তের তারকাটার বেড়া বেষ্টিত। মাদক পাচার রুট হিসেবে পাগলা দেওয়ান, রুপনারায়নপু, আলতাদিঘী, কালুপাড়া, খয়েরবাড়ি, দাদনপুর. চকশ^দল, বাসুদেবপুর, দৃর্গাপুর, চকিলাম,চন্ডিপুর, খড়মপুর, সিন্দুর পৈয়, কৈগ্রাম, কুলফৎপুর, বস্তাবর, শিমুলতলী,মনোহরপুর, তালন্দা,রামচন্দ্রপুর, আগ্রাদ্বিগুনসহ নানান সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মাদক পাচারকারীরা সুয়োগ বুঝে মাদক পাচার করে থাকে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ও সাধারণ জনগনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন করে উঠতি বয়সী ছেলেরা মাদক ব্যবসায় জড়ীয়ে পড়েছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে সেবনকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি মাদক সেবনে শিশু কিশোরের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ছিচকে চুরি সহ নানা ধরনের অপরাধ মুলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। স্কুল/কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানান পেশার নানান বয়সের মানুষ এখন নেশার প্রতি চরম ভাবে আসক্ত। প্রতিদিন রাতের আধাঁরে সশস্ত্র মাদক পাচারকারীরা অবাধে মাদক পাচার করে থাকে। তবে এ সব মাদক পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শীর্ষ মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত যারা সব সময়ই থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। মাদক চোরাকারবারীদের মধ্যে কেউ আইনশৃংখলার হাতে ধরা পড়লে তাদের ছাড়ানোর জন্য দেন দরবার থেকে শুরু করে জেলহাজত থেকে জামিনে মুক্ত করা পর্যন্ত কাজটি করে থাকে ওইসব নেপথ্য শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদাররা। মজার ব্যাপার হলো পুলিশ বা বিজিবি’র হাতে কোন মাদক পাচার কারী ধরা পড়লে জিজ্ঞাসাবাদে গডফাদারদের নাম তারা মুখে আনতে চায়না। আবার মাদক দ্রব্য পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নারী ও শিশুদের। মাদক পাচার রোধে পুলিশ ও বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকলেও বিপরীতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ততটা রয়েছে নরম অবস্থানে। মুলত তাদের ছত্রছায়ায় ভারতীয় মাদক পাচারকারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা রাতের আধাঁরে তারকাটার বেড়ার ভিতর দিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় মাদক পৌঁছে দেয়ার কাজটি করে থাকে। ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা মাদক হাত বদল হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম গুলোতে জমা করে সময় সুজুক বুঝে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও মাদক পাচারের বিষয়ে ধামইরহাট থানার ওসি আবদুল মমিন বলেন, প্রতিদিনই মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদকসহ মাদক পাচারকারী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারও হচ্ছে এবং মামলাও হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + six =

Back to top button
Close