বগুড়া জেলার সংবাদশেরপুর

জমির আইল উঠিয়ে দিয়ে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে — স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম

বগুড়া সংবাদ ডটকম ( শেরপুর প্রতিনিধি কামাল আহমেদ) :  স্থানীয়সরকার,পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, এমপি বলেছেন, জমরি আইল উঠিয়ে দিয়ে সমবায় ভিত্তিতে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে চাষাবাদে সাশ্রয়ী খরচে উন্নত মানরে ফলন পাওয়া সম্ভব। যা বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডমেীর পাইলট প্রকল্পে গবষেণার মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবিুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়তে সমবায়ের ভিত্তিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চাষাবাদ বাড়াতে হবে। পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিভিন্ন দেশে এখন অনেক আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আছে যে গুলো আমরা কাজে লাগাতে পারলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি দারিদ্র বিমোচন করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যতম বড় একটি প্রতিবন্ধক হলো জমি খন্ড খন্ড এবং জমির আইল। তিনি ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা গাড়িদহ ইউনিয়নের চকপাথালিয়া মাঠে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী,বগুড়া কর্তৃক গবেষণাধীন ‘কৃষি জমির আইল উঠিয়ে দিয়ে সমবায় ভিত্তিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা’র ধান কর্তনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতি মন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, শেরপুর-ধুনট এলাকার এমপি মো. হাবিবর রহমান। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. রেজাউল আহসানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব), বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবর রহমান মজনু, স্থানীয় সমবায়ী কৃষক আবুল কাশেম মন্ডল। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়ার মহা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, কৃষি জমির আইল উঠিয়ে দিয়ে প্রায় ৫.০% অব্যবহৃত উর্বর জমিকে কৃষি খাতের আওতায় নিয়ে আসা, সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদনখাতে (শ্রম, সেচ, বীজ, সার, কীটনাশক) ব্যয় কমিয়ে আনা, জন শক্তিকে প্রশিক্ষণ পূর্বক অকৃষি খাতে নুতন কর্ম-সংস্থান সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরণের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি (দ্বি-স্তর বিশিষ্ট কৃষি, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ) হস্তান্তরের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং জিআইএস ভিত্তিক মানচিত্র প্রস্তুত করণের মাধ্যমে আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পটির পাইলটিং এলাকায় ৭২ টি প্লটের মোট আয়তন ৭’শ ৫৮ শতক। সেচের পানি ধরে রাখার সুবিধাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ৭৮ টি কৃষি জমির আইল তুলে দিয়ে ২৪ টি বড় কৃষি প্লট তৈরী করা হয়েছে। এই ৭৮ টি কৃষি জমির মালিক হলেন ৪৪ জন গ্রামবাসী। সরেজমিনে ফলাফল দেখানোর জন্য আরডিএ নিজস্ব অর্থায়ানে তাদের ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে দেয়া, ধানের চারা সরবরাহ, মেশিন দিয়ে ধানের চারা লাগানো, মেশিন দিয়ে আগাছা নিড়ানো এবং মেশিন দিয়ে ধান কাটা- মাড়াই ও ঝাড়াই এর কাজে সহযোগিতা করছে। এতে কৃষি শ্রমিকের খরচ হ্রাস পাচ্ছে। এ ভাবে, প্রতিটি কাজে যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে। ফলে, কৃষক তাঁদের ফসল ফলিয়ে লাভবান হবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − nine =

Back to top button
Close