কাহালুবগুড়া জেলার সংবাদবিনোদন

বগুড়ার কাহালুতে দুই বাংলার নাট্য উৎসব শুরু

বগুড়া সংবাদ ডট কম (সিজুল ইসলাম, বগুড়া) : বগুড়ার কাহালুতে উপজেলা অডিটোরিয়ামে শুরু হলো “দুই বাংলার নাট্য উৎসব ২০১৯”। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি স্বরুপ বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের অন্যতম সংগঠন কাহালু থিয়েটারের আয়োজনে এই উৎসবে দুইদিনে তিনটি নাটক মঞ্চায়িত হচ্ছে।
প্রথমে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় কাহালু থিয়েটারের নাট্যকর্মীরা।
আজ সন্ধ্যা সাতটায় উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পীচ রাইটার (সচিব) মোঃ নজরুল ইসলাম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কাহালু থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল হান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মুনসুর রহমান মুনু,কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়া লতিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সিদ্দিকী। সঞ্চালনা করেন মুনসুর রহমান তানসেন। প্রধান অতিথি এবং ভারতের বিষাণ নাট্য সংস্থাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে বগুড়া জেলা পুলিশ বিভাগ।

কাহালু থিয়েটার ড. সেলিম আল দীন রচিত এবং আব্দুল হান্নান নির্দেশিত নাটক “গ্রন্থিকগণ কহে” নাটক মঞ্চায়ন করে।

নাটকের গল্পে উঠে আসে মানিকগঞ্জের একটি যাত্রা দলের পেছনের নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকার গল্প। মড়ু ঘোষালের যাত্রা দলের নাম “দি নিউ ঘোষাল অপেরা”। সাত দিনের জন্য যাত্রা দলটির বায়না হয় কেরানীগঞ্জে। যাত্রাদলটি মহড়া শেষে কেরানীগঞ্জের পথে রওনা হয়। নায়ক শাকামালের প্রতি নায়িকা নিশির সবসময় দূর্বলতা থাকলেও সে কখনই তা মুখে প্রকাশ করেনা। এদিকে শাকামাল প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ায় নিশির প্রতি নিজের দূর্বলতা কখনই প্রকাশ করেনা। কেরানীগঞ্জে যাত্রার আসর শুরুর আগে মেলা কমিটি ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের শর্ত দেয় প্রিন্সেস নাচাতে হবে। দল টিকে রাখার তাগিদে চেয়ারম্যানের এ অন্যায় শর্ত মালিক মড়– ঘোষাল এবং কামাক্ষী মেনে নিলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শাকামাল, নিশি, শঙ্কর, চম্পা সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে। তারা জানায় সুস্থ ধারার যাত্রাপালার বিপরীতে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ নাচের কারণে দর্শকরা খারাপ অভ্যাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে যা একদিন যাত্রাশিল্প কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু মড়– ঘোষাল স্থানীয়দের শর্তের কারণে পরিস্থিতির চাপে পড়ে প্রিন্সেসকে যাত্রাপালা শুরুর আগে নাচাতে বাধ্য হয় এবং তার যাত্রাদলের অভিনয়শিল্পীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় প্রিন্সেসের নাচ ভেদ করে “রাজকন্যা চম্পাবতী” পালা দাঁড় করিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় শাকামাল, নিশি, শঙ্কর এবং চম্পা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং তারা তাদের অভিনয় নৈপুণ্যতায় দর্শকদের প্রিন্সেসের নাচকে ভুলিয়ে পুরাণ কথার “রাজকন্যা চম্পাবতী” পালা দাঁড় করিয়ে বিমোহিত করে। এরপর হঠাৎ নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যাত্রাদলের হিরোইন নিশিকে নিজের বউ দাবি করে এলাকার গজেন্দ্র নামে এক দুশ্চিরিত্র মাতাল লোক। তখন শাকামাল নিশিকে একান্তে প্রশ্ন করে ঘটনা সত্য কিনা? সেই সাথে প্রথমবারের মত সে নিশিকে জানায়, সে নিশিকে ভালবাসে আর তাকে নিয়েই সংসার করতে চায়, একসাথে একটিং করতে চায় যাত্রা করতে চায়। প্রতি উত্তরে নিশি জানায়, একদিন যাত্রাদলে তার অভিনয় দেখেই গজেন্দ্র তাকে ঘরে তুলে নেয় কিন্তু বিয়ের পর তাকে যাত্রা করতে বাঁধা দেয় কেননা সমাজে থেকে যাত্রা করা যায় না এ হলো সমাজ বিরোধী কাজ। অবশেষে নিশি অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গজেন্দ্রকে ডিভোর্স দিয়ে আবার ফিরে যায় যাত্রাদলে নিজের ভালবাসার মঞ্চে ভাললাগার আসরে। এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে সে শাকামালের প্রস্তাবকে আগ্রাহ্য করে। এসময় গজেন্দ্র এলাকার চেয়ারম্যান ও গুন্ডাপান্ডা নিয়ে আসে নিশিকে ফেরত নেবার জন্য হট্টগোল শুরু করে তখন যাত্রাদলের সকল শিল্পী এমনকি ভিলেন কামাক্ষী এবং প্রিন্সেস দিলরুবাও রুখে দাঁড়ায়। এমন দোটানায় সবার অগোচরে নিশি বিষ খেয়ে আত্নহননের পথ বেছে নেয় এবং অন্য ভুবনে যাত্রা শুরু করে।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহাজাদ আলী বাদশা, সিজুল ইসলাম, ফারহা রহমান স্মৃতি, মুনসুর রহমান তানসেন, সাইফুল ইসলাম, সায়ন্তিকা সরকার, ঐশ্বর্য লাবনী, ফরিদুর রহমান ফরিদ, গোলাম রব্বানী, আব্দুর রশিদ বুলু, আব্দুল হান্নান, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল আজিজ, মুনসুর রহমান সরদার প্রমুখ।

আবহ সঙ্গীতে আছেন সুবাস চন্দ্র দাস মিঠু, সেকেন্দার আলী মুন্সী, আব্দুল আজিজ এবং সিদ্দিকুর রহমান। নাটকটি প্রযোজনায় সহযোগিতা করছে কলেজ থিয়েটার, বগুড়া থিয়েটার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়া, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান এবং বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

এর আগে কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আব্দুল হান্নানের রূপান্তর ও নির্দেশনায় নাটক “ভয়াল রাত্রী” মঞ্চায়ন করে।

শনিবার ভারতের মালদহ গাজোলের বিষাণ নাট্য সংস্থা মঞ্চায়ন করবে নাটক “সেথুয়া”। নাটকটির দুটি মঞ্চায়ন হবে। বিকাল ৩ টায় প্রথম মঞ্চায়নে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ এবং সন্ধ্যা ৭ টায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় মঞ্চায়নে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + eight =

Back to top button
Close