ধুনটবগুড়া জেলার সংবাদ

ধুনটে বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারনা মামলা

বগুড়া সংবাদ ডটকম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলার ছোট চাপড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে জেলা বগুড়ার বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারনা মামলা করেছে সারিয়াকান্দি উপজেলার চিলাপাড়া গ্রামের মৃত মনতেজার রহমানের ছেলে মাহাবুর রহমান। অপরদিকে তার বোন বাদি হয়ে জেলা বগুড়ার সারিয়াকান্দি পারিবারিক জজ আদালতে স্বামী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মোহরানা ও খোরপোষের দাবিতে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাসূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে সারিয়াকান্দি উপজেলার চিলাপাড়া গ্রামের মৃত মনতেজার রহমানের মেয়ে সালেহা খাতুনকে বিয়ে করে ধুনট উপজেলার ছোট চাপড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৩ সন্তানের জন্ম হয়। জাহাঙ্গীর আলম সৌদি আরবে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী সালেহা খাতুনের কাছে যৌতুকের দাবি করে। বোনের সুখের কথা ভেবে ভাই মাহাবুর রহমান এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বোন জামাই জাহাঙ্গীর আলমকে প্রদান করেন। কিন্তু বোন জামাই সৌদি আরব থেকে কিছুদিন পর আবারও দেশে ফিরে আসে। পরবর্তীতে সে আবার কাতারে যাওয়ার জন্য তার স্ত্রীর ভাই মাহাবুর রহমানের কাছ থেকে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ধার নেয়। বোন জামাই জাহাঙ্গীর আলম ২০১৫ সালের আগষ্ট মাসে ছুটিতে বাড়িতে আসলে ধারের টাকা ফেরত চায় মাহাবুর রহমান। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলম ২০১৬ সালের ১ মার্চের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সে নানা অজুহাত দেখিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী সালেহা খাতুনের ভাই মাহাবুর রহমান বাদি হয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে জেলা বগুড়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১০৭/সি-১৯ সারিয়াকান্দি।
অপরদিকে মাহবুর রহমানের বোন ছালেহা খাতুন বাদি হয়ে জেলা বগুড়ার সারিয়াকান্দি পারিবারিক জজ আদালতে স্বামী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মোহরানা ও ভরণপোষনের দাবিতে আরেকটি মামলা করেন। মামলার এজাহাওে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর কাতারে থাকা কালীন সময়ে তিথি নামের একজনের সাথে পরকিয়া সম্পর্ক করে এবং ছালেহাকে মৌখিক তালাক প্রদান করে। পরবর্তিতে জাহাঙ্গীর আলম দেশে আসলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে একই গ্রামের জনৈক তিথিকে বিবাহ করে। এ বিয়ের কথা গোপন করে স্ত্রী ছালেহাকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ছালেহা খাতুন তিন সন্তান দিয়ে ভাই মাহাবুর রহমানের বাড়ি যায়। সেখানে থেকে জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে কোন খোজ খবর নেয়নি এবং কোন রকম ভরন পোষনও প্রদান করেননি। সে দেনমোহর ও ভরণপোষনের খরচ দিতে অস্বীকার করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 4 =

Back to top button
Close