বগুড়া জেলার সংবাদশাজাহানপুর

জমি নিয়ে বিরোধে বসতবাড়ি ভাংচুর লুটপাট ॥ আহত ১

বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট মাদারতলা পশ্চিমপাড়ায় জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ইউনুস আলী নামে এক ব্যক্তির বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পিয়ারা বেগম (৫০) নামে এক মহিলা গুরুতর হয়েছে। আহত পিয়ারা বেগম আশরাফ আলীর স্ত্রী।

এঘটনায় উভয় পক্ষের আশরাফ আলী, মোস্তাফিজার রহমান ও দবির উদ্দিন নামে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে থানা পুলিশ।

আহত পিয়ারা বেগমের ছেলে বাপ্পী জানান, তার বাবা আশরাফ আলী ও চাচা ইউনুস আলীর সাথে পৈত্রিক দখলীয় জমি-জমা নিয়ে প্রতিবেশী মজিবর রহমানের পুত্র মোস্তাফিজার রহমানের বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে থানা ও গ্রামে বেশ কয়েকবার বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে গ্রামের লোকজন জমির সমস্ত কাগজপত্র দেখে তাদের পক্ষেই রায় দেয়। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য উজ্জল হোসেনের ইন্ধনে মোস্তাফিজার রহমান ও তার ছেলেরা প্রায়ই তাদেরকে দাবান-শাষান করতো এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিত।

এমতাবস্থায় রোববার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় মোস্তাফিজার রহমান ও তার জামাই মাসুদ রানা ২০-৩০ জনের একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্রস্বস্ত্র নিয়ে এসে চাচা ইউনুস আলীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় বাধা দিতে গেলে তার মা পিয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে।

্ইউনুস আলীর বৃদ্ধ মা আয়শা বেওয়া জানান, তার বড় ছেলে আশরাফ আলী দিনমজুরের কাজ করে। ছোট ছেলে ইউনুস ঢাকায় রিক্রা চালায়। ইউনুস আলী বড় মেয়ে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় গিয়েছে। যাওয়ার সময় তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার বাবার বাড়িতে রেখে যায়। সেই স্বর্ণালংকার গুলোও লুটপাট করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা।

জালাল উদ্দিন, নুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, হবিবর রহমান সহ স্থানীয়রা জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ভাবে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সমস্ত কাগজপত্র ঠিক থাকায় আশরাফ আলী ও ইউনুস আলীর পক্ষে ভোগদখলের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। কিন্তু অপরপক্ষ মোস্তাফিজার রহমান তা না মেনে দ্বন্দ কলহে লিপ্ত রয়েছে। স্থানীয় বিচার-শালিশ না মানলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু এভাবে বহিরাগতদের ভাড়া করে নিয়ে এসে সন্ত্রাসী স্টাইলে বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও মারপিট করা ঠিক হয়নি।

সাবেক ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম নয়ন জানান, থানা পুলিশও প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়েছে। পুলিশের ভয়ে আশরাফ আলী ও তার ছেলে রাতে বাড়িতে থাকতে পারে না। পুলিশের ইন্ধনেই প্রতিপক্ষের লোকজন এভাবে হামলার সাহস পেয়েছে। যার কারণে মারপিটে গুরুতর আহত মহিলা পিয়ারা বেগমের দিনমজুর স্বামী আশরাফ আলী খবর পেয়ে কাজ ফেলে বাড়িতে এলে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য উজ্জল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইন্ধনের বিষয়টি ভিত্তিহীন। জমির কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় চুড়ান্ত মাঠ রিকোর্ড বের হলে সেসময় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে অভিযোগের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে। তবে এভাবে ভাংচুর মারপিট করে দখলের চেস্টা করা মোটেও ঠিক হয়নি।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজার রহমানের জামাই মাসুদ রানা জানান, কোন ভাংচুর মারপিট করা হয়নি। পুকুরে মাছ ছাড়ার জন্য যাওয়া হয়েছিল। নিজেরাই ভাংচুর করে অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছে।

থানার এসআই বাবর আলী ভাংচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 17 =

Back to top button
Close