বগুড়া জেলার সংবাদশেরপুর

উপজেলা প্রাণীসম্পদদের কারিগরি সহযোগিতায় এক ছাগল থেকে সফল খামারি মজিদার গল্প

বগুড়া সংবাদ ডটকম ( শেরপুর প্রতিনিধি কামাল আহমেদ)সংসার কি জিনিস বুঝে উঠার আগেই বিয়ে হয় মজিদা খাতুনের। বাপের বাড়ী ছেড়ে থেকে স্বামীর বাড়ী গেলেও অভাব ছিল নিত্য সঙ্গী। স্বামীর তেমন কোন উপার্জন না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে পরিবার থেকে তাদেরকে আলাদা করে দেয়া হয়। একটি কুঁড়ে ঘরে স্বামীকে নিয়ে শুরু করেন নতুন সংসার। হতাশা থাকলেও ভেঙ্গে পড়েননি। বাবার উপহার দেয়া ১টি ছাগল একমাত্র সম্বল। উপজেলা প্রাণীসম্পদদের কারিগরি সহযোগিতায় সেই একটি ছাগল থেকে আজ ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৪০টি উন্নত জাতের ছাগল, ৫টি গরু ও ১শ ২টি দেশি মুরগীর মালিক মজিদা খাতুন। বাড়ির সামনে গড়ে তুলছেন বিশাল খামার। এ যেন এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন। আমরা যার এই গল্পের কথা লিখছি তিনি হলেন উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী কলোনী পাড়া গ্রামের জুলফিকার আলীর স্ত্রী মজিদা খাতুন। তার দেখা দেখি উপজেলা প্রাণীসম্পদদের কারিগরি সহযোগিতায় এখন গ্রামের প্রায় অনেক পরিবার উন্নত জাতের ছাগল, গরু ও দেশি মুরগি লালন-পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পরিশ্রম করলে কোনো কিছুই যে বাধা হতে পারে না তার জ্বলন্ত উদাহরণ আজকের এই সফল খামারি মজিদা খাতুন। সরেজমিন দেখা যায়, মজিদা খাতুন ছাগল, গরু ও মুরগিকে খাবার দেয়া ও পরিচর্যার থেকে শুরু করে সব কাজ তিনি নিজেই করেন। বসে নেই তার স্বামীও। খামার পরিচর্যায় তিনিও বেশ ব্যস্ত। তাদের খামারগুলোই যেন সবকিছু।মজিদা খাতুন জানান, এখন আমার বয়স বয়স ৪৫ বছর। বিয়ে হয়েছে ২৫ বছর আগে। কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বিবাহিত জীবনের শুরু। শশুরের সংসার থেকে আলাদা হয়ে সম্বল বলতে একটি কুড়ে ঘর আর
তার স্বামীর সামান্য উপার্জন। এরই মধ্যে জন্ম হয় তাদের প্রথম মেয়ে সন্তান। আরও কঠিন হয়ে পরে তাদের সাংসারিক জীবন। বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া ১ টি সেখান থেকেই বদলে যেতে থাকে জীবনের গতিপথ। প্রথম বছরেই ছাগলটি ৩ টি বাচ্চা দেয় এবং পরবর্তী গত প্রায় ২০ বছরের মধ্যে উপজেলা প্রাণীসম্পদদের কারিগরি সহযোগিতায় ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫-৪০টি। ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে তাদের সংসারে আসতে থাকে স্বচ্ছলতা। এর মধ্যে তিনি একটি গাভীও কিনেন এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গাভীর সংখ্যা এবং তৈরী করি দেশী মুরগির খামার। আজ আমি ২ ছেলে ১ মেয়ের জননী। এগুলো দিয়েই আজ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ভালো ঘরে, বড় ছেলেকে বিকাশের এজেন্ট ও ছোট একটি মোবাইলের দোকান করে দিয়েছি। ছোট ছেলেটি প্যারামেডিকেল থেকে পাশ করে বর্তমানে ইনটার্নী করছে। প্রায় ১৫ বছর আগে ছাগল বিক্রির জমানো ৭০ হাজার টাকা দিয়ে শেরপুর শহরের পাশেই ১৬ শতক জায়গাও কিনেছি যার বর্তমান মুল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। মজিদা খাতুন কোরবানী ঈদের আগে ১১ টি খাঁসি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪শ টাকা এবং ১ টি ষাঁড় ১ লাখ ১ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। শুধু তাই নয়, মজিদাখাতুন প্রযুক্তির ব্যবহারও করবেন। লাগাবেন সেন্সর। চাগল ও গরুর পেটে বসানো হবে ‘সেন্সর চিপ’। এই সেন্সরই তাকে মোবাইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে কখন ছাগল ও গরুকে খাবার দেয়া প্রয়োজন। গরু অসুস্থ হলেও সেই সেন্সরের মাধ্যমে তা জানা যাবে।

আর ছাগল ও গরু ‘চুরি’ সে তো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার! সেই সেন্সরের মাধ্যমে মজিদা খাতুন জানতে পারবেন ছাগল ও গরু কোথায় আছে? এ ব্যাপারে জাতীয় পার্যায়ে জনপ্রশাসন পদক (ব্যাক্তিগত শ্রেনী) উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ রায়হান বলেন, তার পরিশ্রম আর উপজেলা প্রাণীসম্পদদের কারিগরি সহযোগিতায় আজ মজিদারসহ অনেকে সাবলম্বী। শেরপুর উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: আমির হামজা জানান গত কোরবানি ঈদের আগে এই সাহসী মহিলার সাথে উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিসে তার প্রথম পরিচয় হয়। তিনি গর্বিত হয়েছেন এমন একজন সাহসী,আত্মবিশ্বাসী নারীর সাথে পরিচিত হয়ে। তিনি শুনেছেন মজিদা খাতুনের কঠিন সময় পার করে আসার সেই সফলতার গল্প। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আমির হামজা বলেন আসুন আমরা সবাই এইসব সংগ্রামী, সাহসী নারীদের খুঁজে বের করে স্যালুট জানাই। এম সাহসী নারীরা আজ দেশকে উন্নত দেশে রুপান্তর করতে এক দৃষ্টান্ত ভুমিকা রেখেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 2 =

Back to top button
Close