বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ভোট যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন ৯জন প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের পর পরই প্রার্থীরা প্রচার প্রচারনাও শুরু করেছেন। তবে প্রচার প্রচারনায় আওয়ামীলীগ মাঠে থাকলেও অভ্যন্তরীন কোন্দল ও সহিংসতার আশংকায় এখনও পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারনা জমাতে না পেরে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি।
নির্বাচন অফিসসূত্রে জানাগেছে, শেরপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং ধুনট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বগুড়া-৫ আসনটি গঠিত। এই আসনের মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৭ জন। এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), জাতীয়পার্টির প্রার্থী সাবেক জজ তাজ মোহাম্মদ শেখ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মীর মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির আব্দুন নূর (আম), স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ মন্ডল জোন (মাথাল), ইসলামী ঐক্যজোটের নজরুল ইসলাম (মিনার), বাংলাদেশ বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টির রঞ্জন কুমার দে (কোদাল) ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সন্তোষ কুমার পাল (কাস্তে)।
এদিকে এই নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে দেশের বড় দুই দল আওয়ামীলীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষের মধ্যেই চুড়ান্ত লড়াই হবে ভোটাররা মনে করছেন। ওই দুই দলের মাঝে নির্বাচনী লাড়াইয়ে অংশ নিতে পিছিয়ে নেই জাতীয়পার্টি সহ অন্য দলের প্রার্থীরাও। তবে গত সোমবার নির্বাচনী কর্মীসভার মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ তাদের অভ্যন্তরীন কোন্দন নিরসনে উদ্দ্যোগ নিলেও বিএনপির কোন্দল নিরসনে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জানে আলম খোকার সাথে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ এখনও রয়েছে।
বিএনপির তৃণমূলের কয়েক নেতাকর্মী জানান, ২০০৮ সালের আগে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর দীর্ঘদিন তিনি এলাকায় না থাকায় ধুনট ও শেরপুর উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরও তিনি তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীদের সাথেও তেমন যোগাযোগ রাখছেন না। তাই নিজ দলের কোন্দলের সুযোগে অন্য দল রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে গত সোমবার অনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের পর মঙ্গলবার থেকে প্রার্থীরা প্রচার প্রচারনা শুরু করেছেন। তবে প্রচারনা শুরুর প্রথম দিনই মঙ্গলবার দুপুরে ধুনট বাজার এলাকায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের গাড়ী বহরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং সোমবার রাতে এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামে মুরাদ হোসেন নামের এক যুবদল নেতার বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তাই সহিংসতার আশংকায় ও অভ্যন্তরীন কোন্দলে এখনও নির্বাচনী প্রচারনা জমাতে না পেরে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি।
বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ) অভিযোগ করে বলেন, নিজ দলে কোন কোন্দল নেই। সবাইকে সাথে নিয়েই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। কিন্তু আওয়ামীলীগের লোকজন তার গাড়ী বহরে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর ও গাড়ী ভাংচুর সহ নেতাকর্মীদের বাড়ীতেও আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। তাই নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে বাধাগ্রস্থ হতে হচ্ছে। তাই তিনি নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে এবং সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামীলীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান (নৌকা) বলেন, আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আওয়ামীলীগ উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই আওয়ামীলীগ সরকার জণগনের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই সব দলের অংশ গ্রহনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সবাই প্রচারনা চালাতে পারছেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভিতরেই একাধিক গ্রুপিং রয়েছে। তাই তাদের লোকজনই তাদের ওপর হামলা করে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিএনপি প্রার্থীর গাড়ী বহরে হামলার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনে সকল প্রার্থী প্রচারনা চালাতে পারছেন এবং সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন