বগুড়া সংবাদ ডট কম(ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন ): বগুড়ার ধুনটে আছমা খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধুকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নির্যাতিত ওই গৃহবধু বাদী হয়ে তার স্বামী বকুল হোসেন (৩৫) ও ভাসুর শাহ-আলমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এরআগেই সংবাদ পেয়ে সোমবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহ-আলমকে গ্রেফতার করলেও বকুল হোসেন পালিয়ে যায়।
মামলা ও স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের মাধবডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেনের সাথে ধুনট সদরপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আছমা খাতুনের প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে লিখন আকন্দ ও লিমন আকন্দ নামের দুই ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু গত এক বছর যাবত যৌতুক দাবি করে মাঝেমধ্যেই আছমা খাতুনকে নির্যাতন করে আসছে স্বামী বকুল হোসেন। এবিষয় নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠক হলেও স্বামী বকুল হোসেন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ৯ এপ্রিল বকুল হোসেন আবারও যৌতুকের দাবিতে গৃহবধু আছমা খাতুনকে বেদম মারপিটে আহত করে। একপর্যায়ে স্বামী বকুল হোসেন তার স্ত্রীর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। এরপর গত সাতদিন যাবত ওই গৃহবধুকে ঘরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালায় পাষন্ড স্বামী বকুল হোসেন। এদিকে মেয়ের নির্যাতনের খবর শুনে তার পিতা ইসমাইল হোসেন দেখা করতে গেলেও তাকে দেখা করতে দেয়নি বকুল হোসেন। সোমবার বিকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় স্বামীর বাড়ী থেকে নির্যাতিত গৃহবধু আছমা খাতুনকে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পিতা। সোমবার রাতে এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয়। এরপর ধুনট থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই আছমা খাতুনের ভাসুর শাহ-আলমকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বকুল হোসেন আগেই পালিয়ে যায়।
স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে গৃহবধু আছমা খাতুন জানান, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত স্বামী বকুল হোসেন তাকে নির্যাতন করে আসছে। কিন্তু তার দরিদ্র পিতা যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে নির্যাতনের পর জোড়পূর্বক তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয় তার স্বামী বকুল হোসেন। এরপর তার বাড়ীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঘরে আটকে রাখা হয়। তাকে নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে তার পরিবার দেখা করতে চাইলেও দেখা করতে দেয়নি। মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার পরও ঘরে আটকে রেখে সাতদিন যাবত মারধর সহ বিভিন্নভাবে সে নির্যাতন করেছে। স্বামীর নির্যাতনের চিহ্ন পুরো শরীরেই রয়েছে জানিয়ে তিনি একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন।
গৃহবধু আছমা খাতুনের পিতা ইসমাইল হোসেন বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আমার মেয়েকে উদ্ধার করে ধুনট হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এঘটনায় আমার মেয়ে বাদি হয়ে তার স্বামী ও ভাসুরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মোহাম্মদ এরফান বলেন, সংবাদ পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন