বগুড়া সংবাদ ডটকম (জিয়াউর রহমান, শাজাহানপুর  প্রতিনিধি:) বগুড়ার শাজাহানপুরে আবাদী জমি, রাস্তা-ঘাট ও পরিবেশ রক্ষার্থে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে গত দু’দিনে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে শুধুমাত্র আইওয়াস করে মাঠ ছেড়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অপদিকে কৌশল পরিবর্তন করেছে অবৈধ মাটি-বালি ব্যবসায়ীরা। দিনে যেমন তেমন রাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। ফলে সারা রাত মাটি পরিবহনে নিয়োজিত লক্কর-ঝক্কর ট্রাকের দাপাদাপিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারন মানুষ ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার আড়িয়া বাজার হতে ডেমাজানী-ফুলকোট রোড, দুবলাগাড়ী হতে চোপীনগর-কামারপাড়া রোড, দুবলাগাড়ী হতে খলিশাকান্দি রোড, সাজাপুর একটেল টাওয়ারের পাশ দিয়ে সাজাপুর চারমাথা রোডে সারা রাত ধরে শতাধিক ড্রাম ট্রাক বেপরোয়া ভাবে যাতায়াত করে। এসমস্ত ট্রাকের বেশির ভাগ চালক লাইসেন্স বিহিন ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় দূর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক বেশী। বাধা দিতে গিলে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের ভাড়া করা লোকজনের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

উপজেলার দুবলাগাড়ী, খলিশাকান্দি, চোপিনগর, এলাকার হেলাল উদ্দিন, মিন্টু মিয়া, সানাউল হক খোকা, আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মোল্যা সহ অনেকে জানান, দুবলাগাড়ী হতে খলিকান্দি সড়ক, দুবলাগাড়ী হতে চোপীনগর, কামারপাড়া সড়কে সারা রাত ধরে বেপরোয়া ভাবে মাটির ট্রাক যাতায়াত করে। মাঝে মধ্যে দু’ এক দিন বন্ধ থাকে। আবার হঠাৎ করে ৩০-৪০ টি ড্রাম ট্রাক এক সাথে বেপরোয়া ভাবে যাতায়াত করে। প্রতি মূহুর্তে এভাবে ট্রাক যাতায়াত করায় রাস্তার পাশে বাড়ি-ঘরের মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে ভূমিদস্যুদের ভাড়া করা লোকজন এসে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়।
আল আমিন নামে এক যুবলীগ নেতা জানান, সাজাপুর একটেল টাওয়ারের পাশ দিয়ে সাজাপুর চারমাথা সড়কে একই ভাবে মাটির ট্রাক যাতায়াত করে। এতে করে রাস্তা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি বলেন রাস্তা তার একার নয়। যারা মাটি কাটছে তাদেরকে ধরে বেঁধে রাখেন দিনের বেলা পুলিশ দিয়ে উদ্ধার করা হবে বলে জানান তিনি।
ডেমাজানী এলাকার আমান উল্যা আমান জানান, ডেমাজানী স্কুলের পূর্ব পাশে রাস্তার বাঁকে তার বাড়ি। ট্রাক যাওয়া এবং আসার সময় রাস্তার বাঁকে এসে দু’দিক থেকে বিকট শব্দে হুইসিল দেয়। প্রতি মূহুর্তে এভাবে ট্রাক যাতায়াত করায় রাতে ঘুমের ব্যঘাত হচ্ছে।
ডেমাজানী এলাকার বাসিন্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল মান্নান ফকির, ডেমাজানী জন কল্যাণ সমিতির সাধার সম্পাদক সাইফুল ইসলা বিমান ও ডেমাজানী কমর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএম শফিকুত তারিক জানান, আমরা হতবাক হয়ে যাই। লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তারপরও কেন বন্ধ হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। এইচএসসি পরিক্ষা চলছে, সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, রাতের ঘুমের ব্যঘাত ঘটছে কিন্তু প্রশাসন কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এটা কেনো?
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ইউএনও’র পক্ষে একক ভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। ইউএনও সব পারে না। এমপি সাহেবকে বলেন।
স্থানীয় এমপি এড. আলতাফ আলীর সাথে কথা বললে তিনি নিজে ফোন না করে ওসি সাহেবকে ফোন ধরিয়ে দিতে বলেন।
থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম অন্যের ফোনে এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এটা তার কাজ নয়। পুলিশ মাটির ট্রাক বন্ধ করে দেবে এটা কোন আইনে আছে। রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলবে এটাই স্বাভাবিক। স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণে যদি আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটে তখন পুলিশ যাবে।
এমতাবস্থায় অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকার কথা বললেও মাত্র দু’দিনে অভিযান চালিয়ে শুধুমাত্র আইওয়াস করে মাঠ ছেড়ে দেয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন