fbpx
শেরপুর

শেরপুরে মহিলা কলেজের দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকে স্থায়ী বহিস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুরে টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরী মহিলা অনার্স কলেজের অর্থ আত্মসাতকারী দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ একেএম নূরুল ইসলামকে স্থায়ী বহিস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা এগারোটায় শহরের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও গভর্নিং বডির সদস্যরা ছাড়াও নানা শ্রেণীপেশার মানুষও অংশ নেন।
অত্র কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন কর্মসূচিতে শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরী মহিলা অনার্স কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স.ম হাফিজুল ইসলাম, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রহুল আমিন, শিক্ষক মো. লিটন মিয়া প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় অধ্যক্ষ নূরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। শুধু এটি করলেই হবে না। তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করতে হবে। সেইসঙ্গে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন বক্তারা।
জানতে চাইলে গভর্নিং বডির সদস্য এড. গোলাম ফারুক বলেন, নূরুল ইসলাম কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে লিপ্ত হন। ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১৮সালের পর থেকে বিভিন্ন খাত থেকে রশিদমূলে ১৯লাখ ৬৫হাজার ৫৩৭ টাকা আদায় করেন। কিন্তু সেই টাকা কলেজের ব্যাংক হিসেবে জমা না করে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। এসব বিষয়ে গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে দুইবার তাকে শোকজ করা হয়। কিন্তু সন্তোষজনক জবাব দেননি। তাই চলতি মাসের ২২ সেপ্টেম্বর গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নূরল ইসলামকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
গভর্নিং বডির আরেক সদস্য ও সাবেক অধ্যক্ষ স.ম হাফিজুল ইসলাম বলেন, নিজের অপকর্ম ঢাকতেই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আলহাজ¦ মজিবর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে নেমেছেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ নূরুল ইসলাম। এরই অংশ হিসেবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে কাল্পনিক অভিযোগ করা হয়। যা সম্পুর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতিষ্ঠানের টাকা নয়-ছয় করে পার পাওয়া যাবে না দাবি করে তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটি তার অনিয়ম-দুর্নীতিগুলোর প্রমাণ পেয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রতিবেদনও দিয়েছেন। সে আলোকে গভর্নিং বডি প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। পরবর্তীতে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সব নিয়ম-কানুন মেনেই অধ্যক্ষের পদ থেকে তাকে স্থায়ী বহিস্কার করা হবে।
অত্র প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ মজিবর রহমান মজনু প্রসঙ্গে বলেন, কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক সিরাজুল ইসলাম মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এরপর গভনিং বডির সভার সিদ্ধান্তে ওই প্রদর্শক সিরাজুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া সত্তে¡ও অধ্যক্ষ তার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ব্যতি রেখেই বিধি বহির্ভূতভাবে তাকে বেতন ভাতা প্রদান করেছেন। এমনকি গভর্নিং বডির সদস্যদের অসম্মান, অবজ্ঞা ও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে শেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। এছাড়া কলেজের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বিভিন্ন নথি বাড়িতে আটকে রেখেছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যহৃত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের এসাইমেন্টের খাতা নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ না করে গোপনে বিক্রি করে সেই্ টাকাও আত্মসাত করেছেন বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য বিষয়ে জানতে চাইলে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অন্যায়ভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষা করার জন্যই সম্পুর্ণ বিধিবর্হিভূতভাবে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ কলেজের ফান্ডে আড়াই কোটি টাকা জমা রয়েছে। সেসব টাকা হরিলুট করতেই গভর্নিং বডির সভাপতি মজিবর রহমান মজনু নানা পরিকল্পনা করেন। এহেন কর্মকাÐে আমি সম্মতি না দেওয়ায় ওই সভাপতি বিক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

five × two =

Back to top button
Close