fbpx
বগুড়া জেলার সংবাদবগুড়া সদর

শামীমকে হত্যা করে আসামীদের প্রাপ্তি ১০ হাজার টাকা গামছা পার্টির হাতেই খুন হয়েছিল বগুড়া আদমদীঘির অটোচালক শামীম: গ্রেফতার ৪

সঞ্জু রায় : অটোভ্যান চালানোর মাধ্যমে যখন চালনা করতে হয় নিজের সংসার তখন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে পেটের চিন্তায় কখন যে রাত হয়ে যায় সেই দিক আর খেয়াল করার সময় থাকে না খেঁটে খাওয়া মানুষগুলোর। কিন্তু চালিকাশক্তি সেই অটোভ্যানই একদিন যে প্রাণহানীর কারণ হবে তা কি কখনো ভেবেছিল আদমদিঘীর অটোভ্যান চালক শামীম। তরতাজা একটি জীবন চলে গেলো শুধুমাত্র অটোভ্যান ছিনতাই এর জন্যে যা বিক্রি করে হত্যাকারীরা পেয়েছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। তাহলে সেটিই কি হলো নিহত শামীমের পরিশ্রমী জীবনের সর্বমোট মূল্য!
বলছি বগুড়ায় আদমদিঘীতে এই বছরের ২৪ জুন সকালে হাত-পা বাঁধা ও গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অটোচালক শামীম আলম (২৭) এর কথা। বগুড়া জেলা পুলিশের টানা ২ মাসের টানা অভিযানে অবশেষে ক্লুলেস এই হত্যা ও দস্যুতা মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে যেখানেই জানা যায় গামছা পার্টির পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের হাতেই অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খুন হয়েছিল শামীম। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ও গামছা পার্টির সক্রিয় সদস্যরা হলেন রানা (২৫), জনি (১৯), মিঠু (২২) এবং ছিনতাই এর সেই অটোভ্যানটির ক্রেতা শাহীন (৩৫)। শনিবার আদমদিঘী থানা পুলিশ উপজেলা ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
রোববার সকাল ১১টায় বগুড়া পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বিপিএম (সেবা)। জানা যায়, গত ২৪ জুন সকাল ৮টার আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের ধনতলা এলাকার ধানক্ষেতে শামীমের মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম আদমদিঘী থানায় দুর্বৃত্তদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। তার পরে দীর্ঘদিন তদন্ত করেও হত্যার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছিল না পুলিশ। অবশেষে হাল না ছাড়ার মানসিকতায় বগুড়ার নবাগত পুলিশ সুপার সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় আদমদিঘী সার্কেলের এএসপি নাজরান রউফ, ওসি জালাল উদ্দিন, ইন্সপেক্টর আলমাস আলী ও এসআই সোলাইমান আলীর সন্মিলিত প্রচেষ্টায় ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে এই হত্যার রহস্য উন্মোচিত করা হয়েছে। আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য হতে প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার জানান, ২৩ জুন পরিকল্পনা অনুযায়ী গামছা পার্টির সদস্যরা আদমদীঘি উপজেলার বাসষ্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনে মিলিত হয়ে নিহত শামীম আলমের অটো চার্জার ভ্যান গাড়িটি প্রথমে আদমদীঘি থানাধীন কড়ই বাজারে যাওয়ার জন্য ভাড়া করে। পরে কড়ই বাজারে পৌঁছানোর পরে তাকে নশরতপুর বাজারে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। প্রথমে ভ্যান গাড়িটির চালক যেতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে তাদের অনুরোধে যেতে রাজি হয়। পথিমধ্যে গামছা পার্টির একজন সদস্য প্রাকৃতিক ডাকের কথা বলে ফাঁকা স্থানে ভ্যান গাড়িটি থামায় এরপর তারা পিছন থেকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে এবং অন্যান্য আসামীরা পায়ে এবং হাতে রশি দিয়ে বেঁধে রাস্তার নিচে পতিত জমিতে শ্বাসরোধ করে শামিমকে হত্যা করে। পরে তারা শামিমের মোবাইল ও ভ্যান গাড়িটি নিয়ে চলে যায়। হত্যার পরের দিন ২৪ জুন সকালে গামছা পার্টির সদস্যরা অটোভ্যান গাড়িটি শাহীনের কাছে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে ওই ১০ হাজার টাকার মধ্যে গ্রেফতার মিঠু ৩ হাজার ও অন্য দুই আসামিরা ১ হাজার টাকা করে ভাগে পায়।
এসপি সুদীপ চক্রবর্তী আরও জানান, গ্রেফতারকৃত গামছা পার্টির সদস্যরা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করতো। তাদের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং তারা সংঘবদ্ধ চক্র কিনা সার্বিক বিষয় জানার জন্য আদালতে গ্রেফতারকৃতদের ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। পাশাপাশি এই ধরণের সকল চক্র দমনে জেলা পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করবে মর্মে জানান তিনি। প্রেস ব্রিফিং এ এসময় জেলা পুলিশের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যথাক্রমে আব্দুর রশিদ (অপরাধ), মোতাহার হোসেন (ডিএসবি) এবং জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদসহ অন্যান্যরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × four =

Back to top button
Close