বগুড়া সংবাদ ডট কম(ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন): বগুড়ার ধুনট উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসারকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও ধুনট ডিগ্রী কলেজের সাবেক জিএস ফেরদৌস আলম শ্যামলকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ধুনট উপজেলা হিসাব রক্ষন কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত ফেরদৌস আলম শ্যামল ধুনট অফিসারপাড়া এলাকার মরহুম আব্দুল কাদের মাষ্টারের ছেলে। জানাগেছে, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদারীর দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জিএস ফেরদৌস আলম শ্যামল। তার ২০১৬ সালের মে মাসে রোগীদের খাদ্য সরবরাহের ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ফেরদৌস আলম শ্যামল উপজেলা হিসাব রক্ষন কার্যালয়ে তার বকেয়া বিলের অনুমোদন নিতে যায়। এসময় হিসাব রক্ষন অফিসের অডিটর তৌফিকুল ইসলামের সাথে বকেয়া বিল সংক্রান্ত বিষয়ে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে।এবিষয়ে আটককৃত ফেরদৌস আলম শ্যামল বলেন, ধুনট হাসপালে রোগীদের খাদ্য সরবরাহের ২০১৬ সালের মে মাসের ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। ওই বকেয়া বিল ঢাকা থেকে অনুমোদন নিয়ে ধুনট উপজেলা হিসাব রক্ষন কার্যালয়ে বিলটি অনুমোদনের জন্য যাই। কিন্তু আমার বিলটি অনুমোদন না দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত হয়রানী করে আসছে। মঙ্গলবার বিলটি অনুমোদনের জন্য আবারও অফিসে গেলে অডিটর তৌফিকুল ইসলাম আমার কাছে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। আমি তাকে বিল উত্তোলনের পর টাকা দিতে চাইলে সে আমাকে বরাদ্দ নাই বলে কয়েক দিন পরে আসতে বলে। তবে এবিষয় নিয়ে শুধু তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে কোন প্রকার মারধর কিংবা লাঞ্চিত করা হয়নি। কিন্তু তারপরও তারা আমাকে রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র করে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি যতদিন ওই হাসপাতালের খাদ্যের বিল উত্তোলন করেছি তত দিনই তাদেরকে ঘুষ দিয়েছি। ওই অফিসে ঘুষ না দিলে যে কোন সরকারী বিল কিংবা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীতের বেতনের বিলে অনুমোদন না দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানী করে। তাই বাধ্য হয়েই তাদেরকে ঘুষ দিতে হয়।
তবে হিসাব রক্ষন অফিসের অডিটর তৌফিকুল ইসলাম ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মাসের শেষে ২৫ তারিখের পর থেকে সরকারী-কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিতে অফিসের অনেক কাজ করতে হয়। তাই ফেরদৌস আলম শ্যামলকে কয়েক দিন পর আসতে বলেছিলাম। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতে থাকে এবং একপর্যায়ে তিনি আমাকে লাঞ্চিতও করেন। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফারুকুল ইসলাম জানান, সরকারী এক কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন