বগুড়া সংবাদ ডট কম(ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) :বগুড়ার ধুনটের চিকাশী ইউনিয়নের আরকাটিয়া-মোহনপুর গ্রামের ইছামতি নদীতে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় যাতায়াতে দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই হাঁটু পানি মাড়িয়েই পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসীকে।
জানাগেছে, ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। নদীর পশ্চিমপাশে আরকাটিয়া ও পূর্বপাশে মোহনপুর গ্রাম। কিন্তু গ্রাম দুটিকে যুগ যুগ ধরে পৃথক করে রেখেছে ইছামতি নদী। কিন্তু তারপরও ওই নদী পার হয়ে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার মানুষকে গন্তব্যে পৌছাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষা মৌসুমে নৌকা। তাই এলাকাবাসী ওই নদী পারাপার হওয়ায় জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মানের পর নদীতে বাঁশের সাঁকো নির্মান করে। প্রতিদিন ওই সাঁকোর উপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্নভাবে শিক্ষার্থী সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো লোকজন যাতায়াত করে আসছিল। কিন্তু গত দুই দিন যাবত ওই বাঁশের সাঁকোটির মাঝখানে ভেঙ্গে যাওয়ায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে। নদীতে বর্তমানে পানি কম থাকায় এলাকাবাসী সহ শিক্ষার্থীদের হাঁটু পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌছাতে হচ্ছে। তবে লোকজন হাঁটু পানি মাড়িয়ে পারাপার হলেও মালামাল ও কৃষি পন্য পরিবহনে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।
মোহনপুর গ্রামের কৃষক আজিবর রহমান ও নজরুল ইসলাম সহ অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক নেতাই নদীতে সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটের পরে কেউই কোন কথা রাখেন না। তাই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মান করে যাতায়াত করে আসছিল। কিন্তু অতিরিক্ত চলাচলের কারনের সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে এলাকাবাসীকে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। অনেকে জরুরী প্রয়োজনে নদীর পানি মাড়িয়েই পারাপার হচ্ছে। তবে নদীতে সেতু নির্মান হলে শিক্ষার্থী সহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দূর্ভোগ লাঘব হবে।
এবিষয়ে চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল কাদির শিপন বলেন, ইছামতি নদীর ওপর ব্রীজ না থাকায় কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই বর্তমান সরকার নদীতে ব্রীজ নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করেছে এবং অতি দ্রুত নির্মান কাজ শুরু হবে। তবে নদীতে আপাতত বাঁশের সাঁকো নির্মান করে এলাকাবাসীর যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন