বগুড়া সংবাদ ডট কম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট (বগুড়া) থেকে) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বয়স্ক, বিধাবা ও প্রতিবন্ধি ভাতা উত্তোলনে চরম হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনের পর দিন সরাদিন অপেক্ষার পরও মিলছে না ভাতা ভোগিদের সরকারী ভাতা। ভাতা না পেয়ে অনেক অসহায় পরিবারকে মানবেতর জীবন যাপনও করতে হচ্ছে।
জানাগেছে, ধুনট পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৩৩৪ জন বয়স্ক, ৩ হাজার ১৪৪জন বিধবা ও ১ হাজার ৭১৮জন প্রতিবন্ধি ভাতা ভোগি রয়েছে। ধুনট উপজেলা সমাজসেবা অফিসের আওতায় গত ১৩ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ওই সকল ভাতা ভোগিদের সরকারী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ধুনট সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে এসব ভাতা ভোগিরা ভাতার অর্থ উত্তোলন করছে। কিন্তু ভাতা উত্তোলনে চরম হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে ভাতা ভোগিদের। দিনের পর দিন ব্যাংক ও সমাজসেবা অফিসে ঘুরেও মিলছে না তাদের ভাতা। নানা অজুহাতে তাদেরকে হয়রানী করা হচ্ছে। তবে দুস্থ অসহায় ভাতা ভোগিরা সরকারী ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
মঙ্গলবার বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করতে উপজেলা পরিষদ চত্তরে আসেন পূর্বভরনশাহী গ্রামের মৃত মহির মল্লিকের স্ত্রী ৯০ বছর বয়সের বৃদ্ধা জামেলা বেওয়া। তিনি গত তিন দিন যাবত বয়স্ক ভাতা উত্তোলনের জন্য ঘোরাঘুরি করেছেন। অবশেষে সারাদিন অপেক্ষার পর বিকাল ৫টায় মিলেছে তার বয়স্ক ভাতা। জামেলা বেওয়া বলেন, সকাল থেকে না খেয়ে উপজেলা পরিষদ চত্তরে বসে থাকার পর বিকালে ভাতা পেয়েছি। এরআগেও তিনদিন না খেয়ে সারাদিন বসে রেখেছিল।
আরেক ভুক্তভোগি আদিয়া বেগম। তিনিও বয়স্ক ভাতার বই নিয়ে ভাতা উত্তোলন করতে এসেছেন। কিন্তু দু:খ জনক তার কাছে ভাতার বই থাকলেও মাষ্টার রোলে তার নাম নেই। তাই ভাতার অর্থ না পেয়ে অসহায়ের মতো ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।
মালোপাড়া গ্রামের সতীশ হাওয়ালদারের স্ত্রী মিনকা রানী বলেন, আমার অসুস্থ বয়স্ক স্বামীকে নিয়ে ভাতা উত্তোলন করতে এসেছি। কিন্তু কয়েক দিন ঘোরার পরও আজ বলছে পরে আসতে। কিন্তু অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে আর কতো ঘুরতে হবে। সরকারী ভাতার টাকা দিয়েই স্বামীর ঔষুধ কিনতে হয়। তাই টাকা না পাওয়ায় কয়দিন যাবত মানবেতর জীবন যাবন করছি।
শুধু আদিয়া বেগম ও মিনকা রানীই নয় তাদের মতো ভূগনগাঁতি গ্রামের সকিতন বেওয়া, নসরতপুর গ্রামের মোমেনা বেগম, দিঘলকান্দি গ্রামের রহিমা বেগম ও পাঁচথুপি গ্রামের আছিয়া বেগম সহ অনেক ভাতা ভোগিকে ভাতার অর্থ না পেয়ে দিনভর অপেক্ষার পর ফিরে যেতে হয়েছে।
তবে এইসব ভাতা ভোগিদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে জানাযায়, দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর পদ শূণ্য রয়েছে। অতিরিক্ত সমাজ সেবা কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন ওবায়দুল হক। তবে তিনি সপ্তাহে দুইদিন অফিস করেন। এছাড়া অফিস সহকারীর পদে তিন জন থাকার কথা থাকলেও ১৯৮৪ সালের পর থেকে কোন অফিস সহকারী নেই। তাই অফিসের কারিগরি প্রশিক্ষক রেজাউল হকই অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনিই অফিসের প্রায় সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তবে সমাজসেবা অফিসে জনবল সংকটের কারনে ভাতা ভোগিদের হয়রানী ও দূর্ভোগ আরো বেড়েছে। তবে কোন কোন ভাতা ভোগির বই থাকলেও মাষ্টার রোলে নাম নেই। কারো নাম থাকলেও একাউন্ট হয়নি। কারো একাউন্ট থাকলেও টাকা জমা হয়নি। তবে কেন সরকারী ভাতার অর্থ উত্তোলনে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে ভাতা ভোগিদের এবিষয়ে সমাজসেবা অফিসের অফিস সহকারী (অতি:) রেজাউল হক বলেন, বিভিন্ন ভাতা বিতরণের জন্য দিনক্ষন নির্ধারন করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার, ও পৌর কাউন্সিলরদের অবহিত করা হয়। কিন্তু তারপরও নির্ধারিত দিনে ভাতা উত্তোলনের জন্য ভাতা ভোগিরা উপস্থিত না হয়ে অনেকে পরের দিন আসে। একারনে তাদেরকে ভাতা প্রদান করা সম্ভব হয়না। এছাড়া জনবল সংকটের কারনে অনেক সময় হিসাব নম্বর ও মাষ্টার রোল নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। তাই ভাতা ভোগিদের সরকারী ভাতা প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতি:) ওবায়দুল হক বলেন, সমাজসেবা অফিসের অফিস সহকারীর তিনটি পদ থাকলেও ১৯৮৪ সালের পর থেকে একজনও অফিস সহকারী নাই। তাই কাজকর্মে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া সরকারী নিয়ম অনুযায়ি ব্যাংকে ডিজিটাল হিসাব নম্বর খোলা হয়েছে। তাই ব্যাংকে একসাথে অনেক ভাতা ভোগিরা ভীড় করায় ভাতা প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে যারা ভাতা পায়নি তারা পরবর্তী নির্ধারিত দিনে ভাতা উত্তোলন করতে পারবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন