বগুড়া সংবাদ ডট কম(নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি মো: ফিরোজ কামাল ফারুক): আধুনিকতার ছোয়ায় বগুড়ার নন্দীগ্রাম হাড়িয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শখের মৃৎশিল্প। আগের দিনে এই মৃৎশিল্পের কদর ছিল অনেক। কুমোররা হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরী জ্ঞান দিয়ে তৈরী করত বিভিন্ন ধররে শখের মৃৎশিল্প। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়াও তারা তৈরী করত উৎসব-পার্বনের জন্য নানা রংঙ্গের বাহারি মাটির জিনিস। এই উপজেলার কুমোর সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে তৈরী করে আসছে মাটির কলস, হাঁড়ি, সরা, বাসন-কোসন, পেয়ালা, সুরাই, মটক, পিঠে তৈরীর নানা ছাঁচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। মাটির এসব জিনিস তৈরী করতে কুমোরদের দরকার হয় যত্ন, শ্রম, মাটি ও কিছু ছোটখাট যন্ত্রপাতি। সবার আগে যেটা দরকার তা হল একটি কাঠের চাঁকা। এই চাঁকায় নরম মাটির তাল লাগিয়ে নানা রকম মাটির জিনিস তৈরী করে থাকে তারা। বর্তমানে উপজেলার কুমোরদের ঘরে ঘরে চলছে অভাব-অনটন। প্রতিনিয়ত অভাবের সাথে যুদ্ধ করে চলছে তাদের জীবন। এই মাটির জিনিস তৈরী করে সংসার চালানো এখন আর তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আগের দিনে ন্যায় এখন আর মৃৎশিল্পের তেমন কদর নেই। হাটে বাজারে তেমন বিক্রয় হয় না মাটির তৈরী জিনিসপত্র। এতে করে কুমোররা দিন দিন আগ্রহ হাড়িয়ে ফেলছে মৃৎশিল্প তৈরীতে।
কথা হয় উপজেলার আমড়া গোহাইল কুমোর পল্লীর খকেন্দ্র নাথ পাল এর সাথে তিনি বলেন, তার বাপ-দাদার আমল থেকে এই পেশার সাথে জড়িত। ছাড়তে চাইলেও এই পেশা ছাড়তে পাড়ি না। মাটির জিনিস বিক্রি করে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। তিনি আরও বলে, জীবন চালানোর তাগিদে হয়তোবা এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে হবে। সরকার যদি মৃৎশিল্পের উপর সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে তাহলে হয়তবা আমরা এই মৃৎশিল্প কে টিকিয়ে রাখতে পারব।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন