বগুড়া সংবাদ ডট কম (প্রতিনিধি ফিরোজ কামাল ফারুক):- বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ঘরে-বাইরে-হাটে-মাঠে-ঘাটে সোনার আলু গোল আলু তো নয় কৃষকের কাছে এ যেন একেকটি গোলাকার সোনা। এখন উপজেলার সবত্রই চলছে আলু তোলার ধুম। সারি-সারি আলু তোলার পর বস্তাবন্দি করা থেকে শুরু করে কোল্ডষ্টোরেজ কিংবা বাজারজাত করতে আলু চাষীদের তাকানোর সময় নেই। বাড়ি-বাড়ি গোল গোল সোনার আলুর স্তুপ। প্রতি বছরের মতো এবারও নন্দীগ্রাম উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলা জুড়ে আলু তোলার উৎসব শুরু হয়েছে। কৃষকের সঙ্গে আলু তোলার কাজে কৃষাণী ও শিশুরাও নেমে পড়েছে মাঠে। বাম্পার ফলন তো রয়েছেই, তার সঙ্গে আলুর দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা। তাই তো কৃষকের ঘরে-বাইরে, হাটে-মাঠে-ঘাটে সবত্রই গোল আলু গড়াগড়ি খাচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা: মশিদুল হক জানান, চলতি বছর এই উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। আলু চাষে কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যহত ছিল। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছরও বাম্পার ফলন হয়েছে।বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে উপজেলার কহুলি, কাথম, বাদলাশন, কুন্দারহাটসহ বিভিন্নস্থানে দেখা যায়-কৃষকরা আলু তোলার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চারপাশে যে দিকে দৃষ্টি পড়ে সর্বত্র শুধুই আলু আর আলুর দৃশ্য চোখে পড়ে। দেখা গেছে- কৃষকরা মাঠের মাটি খুঁড়ে তুলে আনছে আলু। আবার আলু তোলা শেষে মাঠেই স্তুপ করে রাখছেন। পরে বস্তাবন্দি করে বিক্রির জন্য বাজারজাত করছেন। আবার কেউ কেউ এখনই বস্তাবন্দি গোল সোনা সংরক্ষনের জন্য কোল্ডষ্টোরেজে নিয়ে যাচ্ছেন। কাথম গ্রামের আলু চাষী আলহাজ্ব বুলু মিয়া জানান, দাম ভালো পাওয়ায় মাঠের আলু মাঠেই বিক্রি হচ্ছে। জমি থেকেই ডায়মন্ড আলু প্রতিমণ ৩৫০ টাকা, পাকরি আলু প্রতিমণ ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন তিনি। তবে কয়েকদিন পরে আলুর দাম আরো বাড়বে বলে তিনি জানান। তার প্রতি বিঘায় ডায়মন্ড আলু ১৩০ থেকে ১৪০ মণ করে ফলন হয়েছে। দীঘিপাড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, এবার একেকটি আলু বেশ বড় আকারে হয়েছে কোন পোকা-মাকরের বালাই নেই। সোনালী রং ধরেছে আলুতে। তাই কৃষকরা বেজায় খুশি এবার আলুতে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন