বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) ঃ বগুড়া শাজাহানপুরের শরলীয়া বিল খনন ও পাড় বাধাই কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে জাল-জালিয়াতীর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রওশন আরা এবং ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ সোমবার বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর এই অভিযোগ দায়ের করেন। যার অনুলিপি সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়, ঢাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শাজাহানপুর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বগুড়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, শাজাহানপুর এবং সহকারী পরিচালক, দূর্নীতি দমন কমিশন, সেউজগাড়ী বগুড়া বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের আরডিএ প্রকল্পের অধীনে শাজাহানপুর উপজেলাধিন আমরুল ইউনিয়নের অন্তর্গত নগরকান্দি মৌজার ৫৫/১২২৯ দাগে ০১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত ৩.৬৮ একর শরলীয়া বিল খনন ও পাড় বাধাই প্রসঙ্গে গত বছরের ১৬ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রি বরাবর প্রস্তাবনা পত্র প্রেরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. আলতাব আলী। এরপর মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রি নারায়ন চন্দ্রের স্বাক্ষরিত সুপারিশের মাধ্যমে গত ১৮ নভেম্বর আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রওশন আরাকে দলনেতা এবং ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদকে উপ-দলনেতা করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বিল খনন ও পাড় বাধাই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জোর সুপারিশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. আলতাব আলী। সে মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ২৮ জানুয়ারী নিয়ম মাফিক এমপির সুপারিশ পত্র জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সকল প্রস্তুতি শুরু করেন। এমতাবস্থায় এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় এলসিএস কমিটির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮ ফেব্রুয়ারী তারিখের স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত সুপারিশ পত্রের মাধ্যমে রামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদকে দলনেতা ও একই গ্রামের তরিকুল ইসলামকে উপ-দলনেতা করে ১৫ সদস্য বিশিস্ট প্রকল্প কমিটি এবং ফুলকোট গ্রামের বেনোজিরকে দলনেতা ও রামপুর গ্রামের তরিকুল ইসলামকে উপ-দলনেতা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও এলসিএস কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে উদ্বোধনের মাধ্যমে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্যের পূর্বের সুপারিশ পত্রে এবং মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন পত্রে আরডিএ প্রকল্পের আওতায় লেখা থাকলেও এমপির পরের সুপারিশ পত্রে এফসিডিআই প্রকল্পের আওতায় লেখা রয়েছে। অভিযোগকারী রওশন আরা ও আব্দুর রশিদ জানান, প্রকল্পের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু এফসিডিআই প্রকল্পের আর্থিক ক্ষমতা সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা। তাই বরাদ্দ অনুযায়ী অফসিডিআই প্রকল্পের মাধ্যমে এই খনন প্রকল্প কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের পূর্বের সুপারিশ পত্রে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রির সুপারিশ রয়েছে কিন্তু পরের সুপারিশ পত্রে মন্ত্রির সুপারিশ নাই। বাংলাদেশের সর্বত্র এইরুপ প্রকল্পের কাজ মে মাস নাগাদ শুরু হয়ে জুন মাসের শেষের দিকে তা সম্পন্ন হয়। অথচ বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের সাথে লিয়াজো করে প্যাকো লাগিয়ে ফেব্রুয়ারী মাসেই তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের ২টি সুপারিশ পত্রের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমান কমিটি গঠনের অনেক আগেই পূর্বের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্বের কমিটি বাতিল করা হয়েছে কিনা তা লিখিত বা মৌখিক ভাবে জানানো হয়নি। বর্তমান কমিটিতে ডেমাজানী আসাতননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে দলনেতা করা হয়েছে। এছাড়া শরলীয়া বিলটি রামপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সুপারিশ পত্রে সমিতির নাম উল্লেখ নাই। সম্পূর্ণ জালা-জালিয়াতীর মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ জানান, শরলীয়া বিলটি রামপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারাদারই খনন প্রকল্প করবে এটাই নিয়ম। এখানে এমপির ডিও লেটারের প্রয়োজন নাই। তাছাড়া পূর্বের ডিও লেটার বাতিল করে পুনরায় ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. আলতাব আলীর সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন