Breaking News

বগুড়ায় ভাঙা রাস্তায় জনদূর্ভোগ

বগুড়া সংবাদ ডট কম : আব্দুর রহিম বগুড়া : বগুড়া শহরের ফতেহ আলী ব্রীজ থেকে সাবগ্রাম ২য় বাইপাস পর্যন্ত ৩ কি:মি: সড়ক। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী এই ৩ উপজেলায় যাতায়াতের প্রধান সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই দেড় সহস্রাধিক যানবাহন চলাচল করে থাকে। অথচ গুরুত্বপূর্ন এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দকে ভরা। রাস্তার মাঝে গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমেছে। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও বাধ্য হয়ে এ পথেই চলাচল করছে যানবাহন। ৩ কি:মি: রাস্তা যেতে কখনো ২০ মিনিট আবার কখনো আধা ঘন্টা লাগছে। এতে করে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগের শিকার এ রাস্তায় চলাচলকারীরা।
তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধি দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর এই সড়কটি মেরামত বিষয়ে কথা বলেছেন। শহরের চেলোপাড়া থেকে নারুলি হয়ে সাবগ্রামের দ্বিতীয় বাইপাস পর্যন্ত বগুড়া পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটি বগুড়া সদর উপজেলার মধ্যে হলেও জেলার গাবতলী ও সারিয়াকান্দি উপজেলা এবং সোনাতলা উপজেলার একাংশের মানুষের জেলা শহরে যাওয়া আশার একমাত্র রাস্তা এটি। অথচ এই রাস্তার বেহাল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। রাস্তার দুরাবস্থার কারণে জনজীবনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে এসেছে স্থবিরতা। তিন উপজেলার সব ধরণের পণ্য পরিবহনের ভোগান্তিতে পড়েছে ওই উপজেলাগুলোর ব্যবসায়িরা।
শহরের নারুলী, আকাশতারা, সাবগ্রামের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ, চাকুরীজীবী এবং ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। ভাঙাচোরা, এবড়োথেবড়ো, কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটেছে দুর্ঘটনা। ফতেহ আলী মাযারের সামনে, চেলোপাড়া স্ট্যান্ড, নারুলী গনকবরের সামনে, আকাশতারা ওয়াল্ড ভিশনের সামনের রাস্তা গর্ত হওয়ায় পানি জমেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই রাস্তায় পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকা এবং দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে রাস্তাটি আরো বেশি নাজুক হয়ে পড়ে। রাস্তাটির আকাশতারা এবং নারুলী অংশ বেশি খারাপ। এলাকাগুলো দীর্ঘ এক যুগ আগে পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত হলেও এখন পর্যন্ত এই রাস্তায় কোন পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই শেষ কবে এই রাস্তার সংস্কার কাজ হয়েছে এলাকাবাসী।
বগুড়া জেলা কৃষকলীগের সভাপতি আলমগীর বাদশা জানান, জনগরুত্বপূর্ন এ সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দক আরো বেড়েছে। অতিদ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। সিএনজি চালক রফিকুল বলেন, রাস্তার এমন দশার কারনে সঠিক সময়ে যাত্রী পরিবহন করা যাচ্ছে না। আবার ভাঙা রাস্তায় চলাচলে প্রায় সময় যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
নারুলী এলাকার বাসিন্দা বেসরকারী কলেজের প্রভাষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, প্রতিদিনই আধাঘন্টা বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়। চেলোপাড়া থেকে সাবগ্রাম যেতেই কখনো ২০ মিনিট আবার কখনো আধা ঘন্টা লেগে যায়। এতে করে সঠিক সময়ে প্রতিষ্ঠানে পৌছা যায় না।
সাবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মুকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় যান চলাচলে যেমন সমস্যা তেমনি জরুরী প্রয়োজন গন্তব্যস্থলে পৌছানো অথবা রোগীকে সঠিক সময়ে হাসপাতাল/ক্লিনিকে নেয়া যাচ্ছে না।
বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধি দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর নারুলীর বাসিন্দা। তিনি রাস্তার সংস্কার বিষয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন। তিনি দ্রুত রাস্তা মেরামতের দাবী জানিয়েছেন। এপ্রতিবেদককে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে তিনি এই রাস্তার বিষয়ে বলেছেন। শীঘ্রই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে মন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন।