Breaking News

অজ্ঞাত কারনে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন ।। শাজাহানপুরে অবৈধ ইটভাটা ও বালি-মাটি ব্যবসায়ীদের কবলে গ্রামীণ জনপদ ॥ চরম ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে অবৈধ ইটভাটা ও বালি-মাটি ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে গ্রামীণ জনপদ। ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। গ্রামীণ জনপদে অবৈধ ভাবে ইট, বালি ও মাটির ট্রাক অবাধে চলাচল করায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় এই চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে সরকারী সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার পরও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সচেতন মহল।
উপজেলার মাঝিড়া-সোনাহাটা রাস্তার দুবলাগাড়ী থেকে রঙ্গিলাঘাট পর্যন্ত, বেতগাড়ী ব্রাকের টার্ক অফিস থেকে সুজাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে বালাপাড়া পর্যন্ত, সুজাবাদ দহপাড়া হতে ঈদগাহ পর্যন্ত, দহপাড়া হতে চকপাড়া পর্যন্ত, সুজাবাদ সড়কপাড়া হতে সুজাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত, মাদলা ব্রীজের পাশ থেকে বালাপাড়া পর্যন্ত সহ ফুলকোট, রামপুর, চকজোড়া, সাজাপুর গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে সব চেয়ে বেশী।
এই অবৈধ ইটভাটা ও বালি-মাটি ব্যবসায়ীদের হাত থেকে পরিবেশ ও গ্রামীণ জনপদ রক্ষা করতে উপজেলার সুজাবাদ গ্রামবাসিরা ইতোমধ্যেই গঠন করেছে ‘সুজাবাদ বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর থেকে শুরু করে করতোয়া নদী পার হয়ে দুবলাগাড়ী, দুরুলিয়া, শাহ্নগর, বড়পাথার ও কচুয়াদহের উপর দিয়ে ধুনট উপজেলার সোনাহাটা এলাকায় পৌঁছেছে প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মাঝিড়া-সোনাহাটা রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে শাজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী, দুরুলিয়া, শাহনগর, বড়পাথার, কচুয়াদহ, বিরিকুল্যা, দরিকুল্যা, জৈন্তিবাড়ি, বিলকেশ পাথার, দহিকান্দি, নারিল্যা, চোপীনগর সহ পার্শ্ববর্তী গাবতলী ও ধুনট উপজেলার লাখো মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সদর এবং বগুড়া জেলা শহরে যাতায়াত করেন। সাধারণ পথচারি ছাড়াও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, কৃষিজীবি মানুষের উৎপাদিত শাক-সবজি বাহী যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করে।
কিন্তু এই মাঝিড়া-সোনাহাটা রাস্তার দুবলাগাড়ী থেকে রঙ্গিলাঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘ দিন যাবত সংস্কারের অভাবে এবং এই সমস্ত ইট, বালি ও মাটির ট্রাকের অবাধে বেপরোয়া চলাচল করায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়ে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এই গ্রামীণ জনপদটি। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে কাদাপানিতে নোংরা হচ্ছে পথচারিদের পোষাক পরিচ্ছদ। আর খানা খন্দকের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে অহরহ বিকল হয়ে পড়ছে গণপরিবহণ গুলো। সুস্থ মানুষেরা হয়ে পড়ছে অসুস্থ আর অসুস্থদের অবস্থা তো বলাই বাহুল্য। গর্ভবতি মহিলাদের ডাক্তারী চেকআপে যাতায়াতে যানবাহনের ঝাঁকুনীতে সময়ের আগেই রক্তক্ষরনের পাশাপাশি ডেলিভারীর মত ঘটনাও ঘটেছে বলে জানাগেছে।
মাঝিড়া-সোনাহাটা রাস্তার পাশের রাস্তা হলো দুবলাগাড়ী-মোস্তাইল রাস্তা। দেড়-দুই বছর পূর্বে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে কার্পেটিং করা হয় এই রাস্তাটির। এই রাস্তাতেও ইট, মাটি ট্রাকের অবাধ চলাচলের কারনে ইতোমধ্যেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানা-খন্দের সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায় চরম দুর্ভোগে থমকে গেছে এই সমস্ত বিস্তীর্ণ জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শুধু তাই নয়, জনদূর্ভোগে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার।
চোপীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমান জানান, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন এক ইউপি চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় পাকাকরণ হয়েছিল দুবলাগাড়ী-রঙ্গিলাঘাট রাস্তাটি। ফলে এ এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের বিশেষ করে কৃষিজীবি ও শ্রমজীবিদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছিল। পাকাকরণের পর বিগত ২২ বছরে মাত্র একবার রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না হওয়ায় এবং ইটভাটা ও বালি-মাটি ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বর্তমানে রাস্তাাটি চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।
‘সুজাবাদ বাঁচাও আন্দোলন’র আহবায়ক বগুড়া পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ আলম জানান, ভূমি আইন অমান্য করে মাটি-বালি উত্তোলন করে কৃষি জমি ধ্বংসের পাশাপাশি ইটভাটার ট্রাক ও বালি-মাটির ট্রাকের অবাধ চলাচলে সুজাবাদ এলাকার বিভিন্ন জনপদ চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারনে যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে স্থানীয় প্রশাসন সেই সমস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এই সমস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। দীর্ঘদিন থেকেই চলছে এমন অমানবিক কর্মকান্ড। বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ে নিজেদেরকেই লড়তে হবে। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে ‘সুজাবাদ বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন দাঁড় করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন জানান, রাস্তা গুলো দীর্ঘদিন আগের। সংস্কারের অভাব আর ড্রেনেস ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। তাছাড়া সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটভাটার ট্রাকের অবাধ চলাচলের কারনে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে এসমস্ত অভারলোডেড ট্রাক গুলির চলাচলে নিয়ন্ত্রণ নিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় আমি নতুন যোগদান করেছি। ইতোমধ্যে গ্রামীণ জনপদের বেহাল অবস্থার কথা জানতে পেরেছি। গ্রামীণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এই সমস্ত সমস্যাগুলির সমাধানের চেষ্টা চলছে।