Breaking News

নন্দীগ্রামে ৪৬ বছরেও অরক্ষিত বধ্যভূমি

nandigram-1-05-12-2016

বগুড়া সংবাদ ডট কম (নন্দীগ্রাম, বগুড়া মো: ফিরোজ কামাল ফারুক) : স্বাধীনতার ৪৬বছর পেড়িয়ে গেলেও অবহেলায় পড়ে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বামন গ্রাম ও হাটকড়ই গ্রামের বধ্যভূমি। সংস্কার না করায় বামন গ্রামের বধ্যভূমি এলাকার লোকজন খড়ের পালা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে। অনেক সময় সেখানে বাঁধা হচ্ছে গরু আর ছাগল। চারেদিকে গড়ে উঠেছে জঙ্গল। তার পাশেই সাধারন মানুষের চলাচলের মেঠো পথ। একারণে সেখানকার বধ্যভুমির স্মৃতি প্রায় মূছে যাওয়ার উপক্রম। অনেকেই ভূলে গেছেন এ বধ্যভূমির কথা। সরকারী ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন না করা হলে মুছে যাবে বধ্যভূমির স্মৃতি।
এলাকাবাসী জানায়, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১সালের ৪ঠা এপ্রিল (রোববার) গভীর রাতে পাক-হানাদার বাহীনির সদস্যরা দুটি জিপ গাড়ি নিয়ে নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের সিমলা গ্রামের মধ্যে দিয়ে ভাটরা ইউনিয়নের বামন গ্রামে যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে ভাগসিমলা রাস্তায় কাঁদাপানি থাকার কারণে জিপ গাড়ি রেখে পাক সেনারা পায়ে হেঁটে রওনা দেয়। এরপর বামন গ্রামে হিন্দুপাড়ায় আক্রমন চালিয়ে দুখ পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাশে সারিবদ্ধ করে প্রানবন্ধু চন্দ্র কবিরাজ, মনিন্দ্র চন্দ্র সাহা, প্রানকান্ত চন্দ্র প্রামানিক, পূর্ণ চন্দ্র সাহা, সুখি রবিদাস, রামদেব রবিদাস, বলরাম চন্দ্র প্রামানিক, রমানাথ সরকার ও রবি চন্দ্র প্রামানিককে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পড়ে থাকা লাশগুলি গ্রামের লোকজন তাদের খুড়ে রাখা জমি সেচের গর্তে পুতে রাখে। সেই জায়গাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই জায়গা অরক্ষিত ভাবে পড়ে রয়েছে। এদিকে সেই রাতেই হাটকড়ই হিন্দুপাড়ায় হানা দিয়ে সুরেশ চন্দ্র, বুজেশ্বর চন্দ্র, সুরেস চন্দ্র প্রামানিক ও অধির চন্দ্রকে হাটকড়ই হাইস্কুল মাঠে গুলি করে হত্যা করে। পরে তাদেরকে শ্বশানে সমাধি করা হয়।
সরকারী ভাবে কোন উদ্যোগ গ্রহন না করায় সংস্কারের অভাবে অবহেলায় পড়ে আছে বধ্যভূমিটি। শহীদ প্রানকান্ত’র ছেলে দিনেশ চন্দ্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের কোন অপরাধ ছিলনা। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এটাই ছিল তাদের একমাত্র অপরাধ। এজন্যই তাদের বাড়ি থেকে উঠিয়ে পুকুর পাড়ে নিয়ে সারিবদ্ধ রেখে গুলি করে হত্যা করে পাক-বাহীনি। শহীদ পূর্ণ চন্দ্র সাহা’র ছেলে নুনিগোপাল জানান, তৎকালীন সময়ে পাকিস্থানী হানাদাররা বামনগ্রামে হানা দিয়ে ৯ জনকে আটক করে গুলি করে হত্যা করে। আজ স্বাধীনতার ৪৬বছর পেড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনিসহ অনেকেই। ডাঃ অণীল চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবাও সেই হত্যাকান্ডের শিকার। তৎকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি অবহিত করা হলে তারা সরেজমিনে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের স্মৃতি চারনের জন্য সৃতিসৌধ স্থাপনের জন্য সরকারের নিকট আবেদন করবে বলে আমাদের আশ্বাস প্রদান করেন। সেই কথাগুলি এখন শুধু স্মৃতিতেই রয়ে গেল বাস্তবে কোন সংস্কারের ছোঁয়া লাগলোনা।
এবিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী প্রজন্মকে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে হলে অবশ্যই বধ্যভূমির স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখা জরুরি। দীর্ঘদিন পূর্বে দুটি বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে ইউএনও’র নিকট আবেদন করা হয়েছিল। আজ পর্যন্ত সে বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষন হয়নি। বর্তমানে বধ্যভূমিগুলো অযত্নেঅবহেলায় পড়ে আছে। এপ্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. শরীফুন্নেসা বলেন, এসব বধ্যভূমি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।