Breaking News

জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ ।। কাহালুতে মহিলাকে মারপিটের ঘটনার সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় মহিলার পরিবারকে সমাজত্যাগী করলেন ইউ পি সদস্য ও গ্রাম্য মাতব্বররা

Logo-2+++বগুড়া সংবাদ ডট কম (কাহালু, বগুড়া এম এ মতিন) : কাহালুর বীরকেদার ইউ পি সদস্য আনোয়ার হোসেন রিদয় কর্তৃক মহিলাকে মারপিটের ঘটনায় গত ৭ নভেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন নির্যাতিত মহিলা জাহানারা বেগম। বীরকেদার ইউ পি সদস্য আনোয়ার হোসেন রিদয় কর্তৃক মহিলাকে মারপিটের ঘটনার সংবাদ গত ১৫ নভেম্বর বগুড়ার থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় নির্যাতিত মহিলা জাহানারা বেগম এর পিতার পরিবারের ১০ সদস্যকে স্থানীয় ইউ পি সদস্য ও গ্রাম্য মাতব্বররা সমাজত্যাগী করে রেখেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাহালু উপজেলার গুড়বিশা গ্রামের কাবিল উদ্দিনের স্ত্রী জাহানারা বেগম গত রোববার তার পিতার বাড়ী উপজেলার ভোলতা গ্রামে দাওয়াত খাইতে আসেন। ঐ দিন তার পিতার জায়গা জমি বিষয়ে দরবার ছিল। বীরকেদার ইউ পি চেয়ারম্যান ছেলিম উদ্দিন এর উপস্থিতিতে জায়গা জমি বিষয়ে মিমাংসা হয়। পরে দিন বীরকেদার ইউ পি সদস্য আনোয়ার হোসেন রিদয় তার দলবল সহ জাহানারার পিতা নিজাম উদ্দিন ও তার ভাই জাকারিয়া বাড়ীতে আছে কি-না জানতে চাই। তখন জাহানারা ও তার ভাবী হাজেরা বিবি বলেন তারা বাড়ীতে নাই, কথা শেষ না হতেই ইউ পি সদস্য ও তার দলবল জাহানারার মাথায় ও বুকে এলোপাথারী ভাবে লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকে। এক সময় জাহানারা মাটিতে পড়ে যাই। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। নির্যাতিত মহিলা জাহানারা বেগম এর পিতা নিজাম উদ্দিন ও তার পরিবারকে সমাজ ত্যাগী করায় গত ৩০ নভেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার সরেজমিনে অত্র এলাকায় গিয়ে ভোলতা গ্রামের মাজেদ আলীর পুত্র আবু বক্কর, হারেজ উদ্দিনের পুত্র শহিদুল ইসলাম, রমজান সরদারের পুত্র বুলু সরদার, আবু বক্করের পুত্র সুমন, মৃতঃ জানিকুল্লাহ এর পুত্র আনছার আলী, অজি উদ্দিন এর পুত্র ইসলাম সহ প্রায় ৩০/৪০ জন ব্যক্তির সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, মারপিটের ঘটনার অভিযোগ ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় স্থানীয় ইউ পি সদস্য ও গ্রাম্য মাতব্বররা নিজাম উদ্দিনের পরিবারকে সমাজ ত্যাগী করে রেখেছে। স্থানীয় দোকানদার ইয়াছিন আলীর স্ত্রী সীমা বেগম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, ইউ পি সদস্য আনোয়ার হোসেন রিদয় ও গ্রাম্য মাতব্বররা আমাকে ও আমার স্বামীকে নিজাম উদ্দিনের পরিবারকে দোকান থেকে কোন জিনিসপত্র দিতে নিষেধ করায় আমরা তার পরিবারের কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করছি না। নিজাম উদ্দিন জানান, ইউ পি সদস্য ও তার দলবল আমার পরিবারকে সমাজ ত্যাগী করে রাখায় আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। তিনি আরও জানান, সমাজের লোকজন আমার পরিবারের সাথে কথা বলে না এবং ছেলে/মেয়ে এবং নাতি/নাতনীরা দোকানে গেলে দোকানদার তাদেরকে জিনিসপত্র দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে বীরকেদার ইউ পি সদস্য আনোয়ার হোসেন রিদয় ও বীরকেদার ইউ পি চেয়ারম্যান ছেলিম উদ্দিন এর সাথে মোবাইল ফোনে বারবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।