Breaking News

কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ॥ বেপরোয়া অভিভাবকগন, বগুড়ার শাজাহানপুরে ৫ মাসে ভ্রাম্যমান আদালতে বর, কাজী ও মৌলভীসহ ৪৭ জনের জেল-জরিমানা

Logo-2+++বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর, বগুড়া জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। অশিক্ষিত-দরিদ্র অভিভাবক, একশ্রেণীর অসাধু বিবাহ রেজিষ্টার, মৌলভী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঘটকদের সহযোগীতার কারনেই হরহামেশায় ছড়িয়ে পড়ছে বাল্য বিয়ে নামক এই সামাজিক ব্যধি। অপরদিকে বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। গত ৫ মাসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৪৭ জনের জেল-জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাফিউল ইসলাম।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসের প্রথম থেকে শুরু ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ মাসের ব্যবধানে এ যাবত ৩১ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বিবাহ রেজিষ্টার, মৌলভী, বর, বর-কনের বাব-মা, আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীসহ মোট ৪৭ জনের জেল-জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাফিউল ইসলাম।
দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ২জন বিবাহ রেজিষ্টারসহ ২৮ জনের ২০দিন থেকে ৭দিন পর্যন্ত মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান এবং ১৯ জনের নিকট থেকে ২১ হাজার ৫’শত টাকা জরিমানা আদায় করেছেন তিনি।
দারিদ্রতার অজুহাতে অশিক্ষিত, অসচেতন অভিভাবকগন সমাজের কিছু অসাধু দায়িত্ত্বশীল ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতা নিয়ে নিজেদের সম্ভাবনাময়ী শিশু শিক্ষার্থীদেরকে বাল্য বিয়ে নামক সামাজিক ব্যাধি উপঢৌকন হিসেবে দিয়ে যাচ্ছেন। যার পরিনতি কি পরিমান ভয়াবহ রূপ নিতে পারে তা হয়তো তারা বুঝেও বুঝতে চাইছেন না। কিন্তু আসলে অপরাধী কারা। অশিক্ষিত, অসচেতন, দরিদ্র অভিভাবকগন নাকি সমাজের অসাধু দায়িত্ত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। আসলে অপরাধী আমরা সবাই। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলা না করে যার যার অবস্থানে বসে না থেকে সচেতনতামূলক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করলেই বাল্য বিয়ে নামক এই সামাজিক ব্যধি থেকে রক্ষা পাবে সমাজের সম্ভাবনাময়ী শিশুরা। এমনটিই মনে করছেন অনেকে।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাফিউল ইসলাম বলেন, কোন অবস্থাতেই বাল্য বিবাহের বিষয়ে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযান চালিয়ে বাল্য বিবাহের সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাল্য বিবাহ নামক এই সামাজিক ব্যধি থেকে রক্ষা পেতে চাইলে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।