বগুড়া সংবাদ ডট কম (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রশিদুর রহমান রানা) : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে অবৈধ গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং নলকূপ বন্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সহ বিভিন্ন মহলে ধড়না দিয়েও কার্যকরি কোন ফলাফল না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের পঞ্চদাশ মৌজার ১৫৭২নং দাগের জমিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক অনুমোদিত ভাবে ১৯৭৫ সাল থেকে উক্ত গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. এরশাদ আলী গভীর নলকূপ পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু উক্ত অনুমোদিত গভীর নলকূপের স্কীমের মধ্যে মাত্র ৫৫৩ ফুট দূরত্বের মধ্যে একই গ্রামের মৃত তায়েব আলীর ছেলে মো. তোজাম্মেল হক ফকির বিধিবিধান অমান্য করে গভীর নলকূপ স্থাপন করে। সেচ কমিটি হতে কোনরূপ অনুমোদন না নিয়েই শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগও প্রদান করা হয় তাতে।
এ বিষয়ে প্রথমে ভুক্তভোগী এরশাদ আলী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে উক্ত গভীর নলকূপের লাইসেন্স (লাইসেন্স নং-৪১) প্রদানে পদ্ধতিগত ত্র“টি আছে বিধায় উপজেলা সেচ কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে ১৬ আগস্ট ’১০ তারিখে লাইসেন্স এর কার্যকারিতা বাতিল করে। লাইসেন্স বাতিল করা হলেও তখনও নলকূপের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি অজানা কারণে। যাতে করে তখনও প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী এরশাদ আলী। সেক্ষেত্রে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় বিষয়টি আলোচনা করলে উক্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর ’১৪ তারিখে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে এসবের কোনরূপ তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় উক্ত গভীর নলকূপটি পুনঃস্থাপিত করে তোজাম্মেল হক ফকির। যা সেচ নীতিমালা পরিপন্থি।
এবিষয়ে এরশাদ আলী আবারো ৩০ অক্টোবর ’১৭ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য ও অভিযোগ শাখার সহকারী কমিশনার মো. তাজ উদ্দিন উক্ত অবৈধ নলকূপের বিদ্যুৎ বিচ্ছিকরণ সহ জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পত্রমূলে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজারকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষ উক্ত গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে বরংচ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। উক্তরূপ অবস্থায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কর্তৃক আবারো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য বলা হয়।
কিন্তু এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. এরশাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছিল বিধায় ১১ ফেব্র“য়ারী ’১৮ তারিখে আবারো শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর উক্ত অবৈধ গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন জানায়। যার অনুলিপি বগুড়া জেলা প্রশাসক, শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বগুড়া বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে এরশাদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি যে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি তা দেখার বোধহয় আর কেউ নাই। অনেক আগে থেকেই ডিসি স্যার ইউএনও স্যারদের কাছে অবৈধ গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের ব্যাপারে অনুরোধ-আবেদন করলেও এতদিনে কোন কাজ হয়নি। জানিনা আল্লাহ্ আরো কতদিন এভাবে রাখবে এভাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ম্যানেজার আব্দুল মতিন বলেন, উভয় পক্ষের মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান অবস্থায় রয়েছে। যেহেতু মামলা স্টে অবস্থায় আছে সেহেতু আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারছিনা। আদালত থেকে সিদ্ধান্ত আসলে আমরা অবশ্যই তা করব।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন