Breaking News

হুমকির মুখে আবাদী জমি ও তীর সংরক্ষন প্রকল্প ।। ধুনটে যমুনা ও ইছামতি নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

dhunat-02-30-10-2016

বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট, বগুড়া ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের যমুনা নদীতে ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের আরকাটিয়া-মোহনপুর গ্রামের ইছামতি নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ৪৬ কোটি টাকা ব্যায়ে সদ্য নির্মিত নদীর ডান তীর সংরক্ষন প্রকল্প সহ আবাদী জমি হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়সূত্রে জানাযায়, উপজেলার পূর্ব পাশে বহমান যমুনা নদী। রাক্ষুসে যমুনার ভাঙ্গন ঠেকাতে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ধুনট উপজেলার পুকুরিয়া থেকে ভান্ডারবাড়ী পর্যন্ত ৪৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ১২শ মিটার নদীর তীর সংরক্ষন প্রকল্পের কাজ সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই প্রকল্পের ভান্ডারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিন পাশে পুকুরিয়া গ্রামে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল বারিক, সংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রশিদ সহ কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তি যমুনার বুকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর গভীরতা সৃষ্টি হয়ে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের নিকট ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনে ইতিমধ্যেই কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত নদীর ডানতীর সংরক্ষন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে। তাছাড়া বালু বোঝাই ট্রাকগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের উপর দিয়ে যাতায়াত করার কারনে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ভান্ডারবাড়ী গ্রামের মোবারক আলী ও পুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, আমরা যমুনা তীরের মানুষ এমনিতেই ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাই। তারপর আবার ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে সরকারের বরাদ্দকৃত কোটি টাকার প্রকল্প যমুনার জলে ভেসে যাবে। এছাড়া বালু বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারনে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল বারিক বলেন, স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এছাড়া বালু উত্তোলনে তীর সংরক্ষন প্রকল্পে কোন ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে কালেরপাড়া ইউনিয়নের আরকাটিয়া-মোহনপুর গ্রামের ইছামতি নদীতে ফজলুল হক ও লাবলু মিয়া নামের আরো দুই ব্যক্তি পাশাপাশি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। আবাদী জমির তীরে ড্রেজার মেশিন বসানোর কারনে অনেক জমিতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনের কোন অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় বালু ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্ব বেড়ে গেছে। ফলে নদী ভাঙ্গন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবাদী জমি ও বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি কেউ অবগত করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।