বগুড়া সংবাদ ডটকম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) :বগুড়া শাজাহানপুরের সুজাবাদ দহপাড়া এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানে যাওয়ার একমাত্র সরকারি রেকর্ড ভূক্ত রাস্তা দখল করে বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস এর নির্মাণাধিন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান অভিযান চালিয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিস কর্মিদের সহায়তায় এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন।
এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের মুকুন্দ গোঁসাই আশ্রমের সভাপতি মনিন্দ্রনাথ মহন্তের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বিকেলে ইউএনও’র নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণাধিন স্থাপনা সরিয়ে নিতে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মাছুদুর রহমান।
কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিয়ে পুনরায় সেখানে নির্মাণ কাজ করতে থাকলে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। কোন অবস্থাতেই হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানে যাওয়ার একমাত্র সরকারী রেকর্ড ভুক্ত রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, সুজাবাদ ও আশপাশ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি মারা গেলে লাশ সৎকারের জন্য সরকারী ওই রাস্তা দিয়েই করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত শ্মশানে নিতে হয়। এছাড়া প্রতি বছর সারদীয়া দুর্গোৎসবে অর্ধশতাধিক দুর্গা প্রতিমা বিজর্সন দিতে ওই রাস্তাটিই ব্যবহার করে থাকেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। সম্প্রতি ওই রাস্তার দু’ধারে টিএমএসএস জমি ক্রয় করে সরকারি রাস্তাটিও পুরোপুরি দখলে নিয়ে টাইলস্ কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশানে যাতায়াত এবং দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তাই হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কর্মকান্ড সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার স্বার্থে সরকারি ওই রাস্তাটি অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মুকুন্দ গোঁসাই আশ্রম কমিটির সভাপতি মনিন্দ্র নাথ মোহন্ত। যার অনুলিপি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বগুড়া, মেয়র বগুড়া পৌরসভা, উপজেলা চেয়ারম্যঅন শাজাহানপুর, অফিসার্স ইনচার্জ শাজাহানপুর থানা এবং কাউন্সিলর ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বরাবর প্রেরণ করা হয়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন