Breaking News

ঘটনার দায় স্বীকার করে সুজনের ১৬৪ধারায় জবানবন্দী প্রদান ।। দুপচাঁচিয়ায় গর্ভপাতের ঘটনায় এক যুবতীর মৃত্যু ॥ থানায় মামলা দায়ের ॥ গ্রেপ্তার ৩

Logo-2+++বগুড়া সংবাদ ডট কম (দুপচাঁচিয়া, বগুড়া আবু রায়হান) : দুপচাঁচিয়ার খানপুর গ্রামের হতদরিদ্র সফির উদ্দিনের মেয়ে শিরিন বেগম(২৫) মারা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ২৮অক্টোবর শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ওই গ্রামে রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামী ডাঃ শাহীন মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া(২২) ও আবেদ আলীর ছেলে আব্দুল খালেক(৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর ২৯ অক্টোবর শনিবার দুপুরে পুলিশ আবারও ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে ডাঃ শাহীন মিয়া(৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রামবাসী ও থানা সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের সফির উদ্দিনের মেয়ে শিরিনের সাথে একই গ্রামের ডাঃ শাহীন মিয়ার ছেলে সুজন মিয়ার বিগত ৭/৮মাস ধরে গোপন অভিসার চলছিল। এরফলে একসময় শিরিন অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। বিষয়টি শিরিনের বাবা টের পেয়ে শিরিনের প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করে শিরিন প্রায় ৪মাসের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শিরিনের দেয়া তথ্য মোতাবেক ডাঃ শাহীন মিয়াকে অবহিত করলে শাহীন মিয়া সফির উদ্দিনকে মানসম্মানের ভয় দেখিয়ে শিরিনের গর্ভপাত ঘটানোর লক্ষ্যে গত ২২অক্টোবর শনিবার বিকালে ওষুধ প্রদান করেন। সেই ওষুধ সেবন করার পর ওইদিন দিবাগত রাত ১২টায় শিরিনের গর্ভপাত হয়। এসময় ওই শিরিনের দাদী কমেলা বেগম ওই ভ্রুণ গোপনে বাড়ির পাশেই মাটিতে পুঁতে ফেলে। এরপর ২৩অক্টোবর রোববার সকাল ৭টায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিরিন মারা যায়। ডাঃ শাহীনের পরামর্শে সফির উদ্দিন তার মেয়ে শিরিন জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে প্রচার করেন এবং ওইদিন বিকেল ৪টায় দাফন সম্পন্ন করেন। এদিকে শিরিনের লাশ ধোয়ার সময় ওই গ্রামের জামায়াত নেতা শহীদুল্লার স্ত্রী শেফালী বেগম ও মৃত আয়েত আলীর স্ত্রী অবিরণ বেওয়া শরীরে অস্বাভাবিক চিহ্ন দেখতে পেয়ে কানাঘোষা শুরু করলে বিষয়টি জানা জানি হয়। এর প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারকৃত খালেক সহ ওই গ্রামের আরও কয়েকজন মাতব্বরের চাপাচাপিতে সফির উদ্দিন বিষয়টি পুলিশকে জানায়নি। কিন্তু লাশ ধোয়ায় জড়িত দুই মহিলা গর্ভপাত হওয়ার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে শিরিন মারা গেছে মর্মে গ্রামে প্রচার চালাতে থাকলে বিষয়টি তালোড়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেরুল ইসলামের দৃষ্টিগোচর হয়। তখন চেয়ারম্যান শিরিনের বাবা সফির উদ্দিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সফির উদ্দিন তার মেয়ের ডাঃ শাহীনের ছেলে সুজনের দ্বারা গর্ভবতী হওয়া এবং ডাঃ শাহীনের ওষুধ খেয়ে গর্ভপাত হওয়া সহ শিরিনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলে চেয়ারম্যান তাকে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়। চেয়ারম্যানের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী ২৮অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাতে সফির উদ্দিন থানায় এসে তার মেয়ে শিরিন মারা যাওয়ার ঘটনায় ৪জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় ২আসামী এবং পরদিন এজাহার নামীয় আরেকজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে।
থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতার কথা স্বীকার করে বলেন, মামলা দায়েরের সাথে সাথেই অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় ২আসামী এবং পরদিন দুপুরে এজাহার নামীয় আরও একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহার নামীয় পলাতক অন্য আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য জোর পুলিশী তৎপরতা চলছে। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত সুজন মিয়া বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এর নিকট ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত খালেককে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বিজ্ঞআদালতে ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।