Breaking News

সারিয়াকান্দিতে শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে বাঙালি নদীর ওপর নির্মিত ৩১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ

sariakandi-21-10-2016

বগুড়া সংবাদ ডট কম (সারিয়াকান্দি, বগুড়া মাহমুদুল হাসান মুনজু) : হামাগেরে (আমাদের)এলাকায় অনেক এমপি ছিল, মন্ত্রী ছিল, কাজের কাজ কেউ করেনি। এমপি-মন্ত্রী হলেই হয়না। সবলোক দিয়ে সবকাজ হয়না। কন্তু হামাগেরে (আমাদের) এমপি মান্নান অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। তার প্রচেষ্টায় মাছিরপাড়া গাঁওত ব্রীজটা দিয়ে এক ইউনিয়নের লোক অন্য ইউনিয়নে যাবার ব্যবস্থা করলো। মান্নান এমপি নাহলে একাজ কোনদিনই হতোনা। হাসিমুখে কথাগুলো বলছিলেন আর রশিদিয়ে নৌকা টানছিলেন মাছিরপাড়া গ্রামের রমিছ আলী। আর সারাদিন পিঠফাঁটা রোদে কাজ করে বাড়ী আসতে যখন নদী পার হতে হয়। এর চেয়ে দু:খ আর কি থাকে। এক গাঁওত থেকে আরেক গাঁওত কামলা দিবের পাইনে। এই ব্রীজটি হলে হামাগেরে দু:খটা ঘুচবি।কথাগুলো বলছিলেন কুতুবপুর ইনিয়নের উত্তরপাড়ার ইউনুছ মোল্লা। শুধু রমিছ আলী আর ইউনুছ মোল্লাই না সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ভায়া কুতুবপুর ইউনিয়নে মাছিরপাড়ায় বাঙালি নদীতে ব্রীজ নির্মাণের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ছে। লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের পথ সুগম হতে যাচ্ছে। কবে ব্রীজটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে সে অপেক্ষার প্রহর গুনছে এলাকাবাসি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর(এলজিইডি) সূত্রে জানাগেছে, প্রায় ২৮ কোটি ব্যয়ে ৩১৫ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু করা হয়। ২০১৬ সালের মে মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। নদীতে পানি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন্ জটিলতার কারণে কাজটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি। চলতি বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণেরপুরোকাজ সমাপ্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টসূত্রে জানাগেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (জিওবি)-এর অর্থায়নে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়ন ভায়া কুতুবপুর ইউনিয়নের মাছিরপাড়া মৌজায় বাঙালি নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের জন্য ওই প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়।এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ওই সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ারুত তারিক মোহাম্মদ বলেন, ব্রীজটি নির্মাণ হলে শুধু দুটি ইউনিয়ন নয় উত্তরাঞ্চল ও দক্ষীন অঞ্চলের লোকজন এই সেতু হয়ে সহজেই জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারবে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সেতু নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা- রামপুরার পুরকৌশল প্রযুক্তি লিমিটেড-এর ইঞ্জিনিয়ার আবু ওবায়েদ খাঁন জানান, ইতোমধ্যে ব্রীজের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে আরো ৮টি গার্ডারের কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। পানি কমার সাথে সাথে বাঁকি কাজগুলো দ্রুতই শেষ করা হবে। খুব শিগগিরই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো: শহিদুল হক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে। কাজটির সময়সীমা আর বাড়ানো যাবেনা। সেজন্য যথেষ্ট লোকবল নিয়োগ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই মাছিরপাড়ায় বাঙালি নদীর ওপর নির্মিত ব্রীজটির কাজ সম্পন্ন করা হবে ।