বগুড়া সংবাদ ডট কম (সোনাতলা সংবাদদাতা মোশাররফ হোসেন) : নানা জনে নানা কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কেউ করে গরুর খামার। কেউ হাঁস বা মুরগীর খামার। আবার কেউ করে মাছ চাষ। আর গোলজার রহমান (৫৫) করেছেন এক ঝাঁক ভেড়ার সমন্বয়ে একটি খামার। সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের মৃত মহির উদ্দিন (মধু) বেপারীর ছেলে গোলজার রহমান। তিনি ছোট বেলা থেকে বাবার সাথে কসাইয়ের কাজ করতেন। বিয়ের পরও একই কাজ করে সংসার চালাতেন অতি কষ্টে। তাকে দীর্ঘদিন কষ্টের ঘানী টানতে হয়েছে। এমতাবস্থায় পাঁচ বছর আগে গোলজার রহমান শখ করে প্রথমে ২টি ও পরে আরো ৩টি ভেড়া কিনে নিজ বাড়িতে পালন শুরু করেন। তা থেকে অল্পদিনের মধ্যে কয়েকটি বাচ্চা জন্ম হয়। বাচ্চাগুলো যখন বড় হতে থাকে, তখন বেশ ভাল লাগে তার। তিনি দেখলেন যেহেতু কম সময়ে বেশি ভেড়া জন্ম দেয়, সেহেতু ভেড়া পালন করা লাভ আছে। তাই তিনি কসাইয়ের (মাংস বিক্রি) কাজ ছেড়ে দিয়ে ভেড়া পালনের প্রতি ঝুঁকে পড়লেন। তার ওই ৫টি ভেড়া দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু। ক্রমান্বয়ে তার খামারে ভেড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। ভেড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকায় একদিকে দেখা দেয় জায়গা সংকুলান, অন্যদিকে খাদ্যের জন্য প্রয়োজন হয় চারণভূমি। উভয় সংকট থেকে মুক্তির জন্য পরবর্র্তীতে ভেড়াগুলো নিয়ে যান পাশেই তেকানী চুকাই নগর ইউনিয়নের কাচারী বাজার এলাকায়। বর্তমানে ছোট-বড় মিলে রয়েছে তার ৯০টি ভেড়া। সেখানে নিজের কোনো জায়গা না থাকায় রাতে ভেড়াগুলো বিনা ভাড়ায় রাখেন কাচারী বাজারে জনৈক ব্যক্তির একটি ঘরে। ভেড়াগুলোর তদারকির জন্য তিনিও কাচারী বাজার এলাকায় থাকেন। পরিবারের সদস্যরা থাকে বাড়িতে। যখন এই রাখাল গোলজার সকালে ঘর থেকে ঘুম ভাঙ্গানো একঝাঁক ভেড়া তাড়িয়ে ঘাস খাওয়াতে মাঠে নিয়ে যায়, তখন এক অপরুপ দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। পথচারীদের দৃষ্টি কেড়ে নেয় অবুঝ-অবোলা প্রাণিগুলো। সারাদিন আহার শেষে বিকেলে ওগুলোকে ফিরে আনা হয় কাচারী বাজার চত্বরে। তখন কোনো ভেড়া শুয়ে/বসে থাকে। আবার কোনো ভেড়া ঘুরে-ফিরে লতাপাতা খেতে থাকে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘরে তোলা হয়। কেউ ভেড়াগুলোর ক্ষতি করে না। গোলজার রহমানের আবাদী জায়গা-জমি নেই। একমাত্র ভেড়া পালনের মধ্য দিয়ে তার সংসার। যখন তার যে টুকু টাকার প্রয়োজন হয় তখন তিনি সেই অনুযায়ী ভেড়া বিক্রি করেন। আবার কারো ভেড়া কেনার প্রয়োজন হলে গোলজার রহমানের কাছ থেকে সংগ্রহ করে থাকে। এখন আর আগের মতো সংসারে কষ্ট নেই। তিনি জানান, ভেড়া পালন লাভজনক। প্রতি ভেড়া দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এর পিছনে তেমন অর্থ ব্যয় হয় না। শুধু বন্যা ও খরা মৌসুমে খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। তখন ভূষি ও কুড়া কিনে খাওয়াতে হয়। ইরি-বোরো মৌসুমেও ভেড়ার খাদ্যের সমস্যা দেখা দেয়। তিনি আরো জানান, ভেড়া গরম সহ্য করতে পারেনা। গত গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরমে কয়েকটি ভেড়া মারা যায়। তবে কখনো রোগাক্রান্ত হলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে ডাক্তারদের সংবাদ দেয়ামাত্র তারা দ্রুত এসে ভেড়ার ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করেন।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা.রুহুল আমিন, ভিএফএ শাহজাহান আলী,আব্দুর রহমান ও মাহফুজার রহমান জানান, আমরা প্রায় প্রতিদিন গোলজার রহমানের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। ভেড়াগুলোর যখন যে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন তা আমরা যথা সময়ে দিয়ে থাকি। তারা আরো জানান, সোনাতলায় একমাত্র গোলজার রহমানের ভেড়ার খামার বড়। একসাথে এতগুলো ভেড়া অন্য কারো নেই। তিনি একজন সফল খামারি। ভেড়া পালনের মাধ্যমে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন। ভেড়া খামারীদের জন্য সরকারি ভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে গোলজার রহমানকে সুবিধা দেয়া হবে। উপজেলা প্রাণি সস্পদ অফিস জানায় গত প্রায় দুই বছর আগে ভেড়া খামারী গোলজার রহমান জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে পাঁচহাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন