বগুড়া সংবাদ ডটকম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : একে তো ডাক্তার সংকট, তার উপর আবার একজন ডাক্তারও কর্মস্থলে থাকেন না। দুই এক জন ডাক্তার কর্মস্থলে থাকলেও তারা ডায়াগণষ্টিক সেন্টারে রোগী দেখতেই বেশি সময় ব্যস্ত থাকেন। তবে কোন মতে ডাক্তার পাওয়া গেলেও মেলেনা চিকিৎসা সেবা। অপারেশনের জন্য দৌড়াতে হয় জেলা শহরে। এমন চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির। তাছাড়াও রোগীদের নিন্মমানের খাবার পরিবেশন এবং ভূয়া রোগী ভর্তি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাদ্যের বিল উত্তোলন করা হচ্ছে সরকারী এই হাসপাতালে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ধুনট উপজেলার প্রায় ৪ লাখ জনগোষ্টির জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী এই হাসপাতালে ১৯জন ডাক্তারের পদ থাকলেও মাত্র ৫জন ডাক্তার দিয়েই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তন্মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন ডা: ইকবাল হাসান সনি। তাকে সর্বক্ষনিক হাসপাতালের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও তিনি হাসপাতালের সামনে ইছামতি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রোগী দেখতেই বেশি সময় ব্যয় করেন। এছাড়া হাসপাতালে ২৫জন নার্সের স্থলে রয়েছে ১৭জন। এদিকে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ডাক্তার ও জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন যাবত অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার যত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসিগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ২০০৪ সালে ৮ লাখ টাকায় ক্রয়কৃত এক্সরে মেশিনটি একদিনের জন্যও চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ইসিজি মেশিন ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও জনবলের অভাবে মেশিনগুলো দীর্ঘদিন যাবত বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে কোন জরুরী রোগীকে এখানে ভর্তি করানো হয় না। জরুরী রোগী আসলেই তাকে রেফার্ড করে বগুড়ায় পাঠানো হয়। অপরদিকে হাসপাতালে রোগীদের খাদ্য সরবরাহ নিয়েও দূর্ণীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের বিছানায় ২৬ জন রোগীর দেখা মিললেও হাসপাতালের ডাইট খাতায় রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে ৪৬জনকে। তাছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার) রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে ৪৩জনকে। তবে ওইদিন রোগী ভর্তি না হলেও আগের দিনই ওই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তারমধ্যে অধিকাংশ রোগীর নামই ভূয়া। আর এভাবেই রোগীদের খাদ্য সরবরাহের নামে ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারী টাকা আত্বসাত করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহিমা বেগমের স্বামী ময়নুদ্দিন বলেন, দুই দিন যাবত হাসপাতালে তার স্ত্রীকে ভর্তি করা হলেও রোগীকে কোন খাবার দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, রোগীদের খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন কনক এন্টারপ্রাইজের সাব ঠিকাদার উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সাবেক সহ-সভাপতি কুদরত-ই খুদা জুয়েল। তিনি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা: ইকবান হোসেন সনির সহযোগিতায় নিন্মমানের খাবার পরিবেশন এবং ভুয়া রোগী ভর্তি দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করে আসছে। এছাড়া আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ইকবাল হোসেন সনিকে সার্বক্ষনিক হাসপাতালের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও তিনি ইছামতি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে বেশিরভাগ সময় রোগী দেখেন। এতে অনেক রোগীকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ডাক্তার সংকট ও প্রয়োজনীয় ষন্ত্রপাতির বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এছাড়া খাদ্য সরবরাহ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন