বগুড়া সংবাদ ডট কম: থ্যাংক্স টু আল্লাহ,ফর গিভিং মি এ লাইফ অফ ফুল অব পেইন ..বাই , এভরিওয়ান’।

এটা ছিল বগুড়ায় প্রথম শ্রেণীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রের ফেস বুকে শেষ ষ্ট্যাটাস।
এর আগে তার ষ্ট্যাটাস ছিল , আল্লাহ আমি তোমার নিকট যাহিতেছি, তবে পুরস্কার নিতে নয় , তিরস্কার নিতে……..
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার শেষ স্ট্যাটাস লিখার মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সত্য সে চলে গেছে সুন্দর এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। ৩ঘন্টা ডাক্তারদের আপ্রান চেষ্টা ও তাকে বাঁচানোর সব চেষ্টা ব্যার্থ করে দিয়ে রায়হান রাব্বী তাসিন এক বুক অভিমান নিয়ে চলে গেছে এ ধরা থেকে ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ তলা ভবনের উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্বহত্যা করেছে সে।
হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের ক্যাম্পাসে ।
রায়হান রাব্বী তাসিন (১৬) ,সে শহরের শিববাটি এলাকার বাসিন্দা ও শহরের নিউ মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী জুয়েল আহম্মেদের ছেলে । ওই প্রতিষ্ঠানে সে ৯বম শ্রেণীর (কমার্স)এর মেধাবী ছাত্র ছিল সে ।
ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ টিএসআই আজিজ মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিৎ করে জানান,গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাসিন যথারীতি স্কুলে এসেছিল । একদম শান্ত অবস্থায় সে ক্লাসে অবস্থান করে ।সে বেলা আড়াইটার দিকে সবার অগোচরে প্রতিষ্ঠানের ৫ম তলার ছাদে উঠে যায়। পরে সেখানে থেকে নিচে ঝাঁপ দেয় সে।
মূমুর্ষ অবস্থায় তাকে জরুরী ভাবে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে । সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সর্বস্ব নিয়োগ করেন । কিন্তু যে নিজেই বাঁচতেই চায়না, তাকে ডাক্তার বাঁচায় কি ভাবে? বিকেল ৫টা ৫৯মিটিটে সব আশা ত্যাগ করে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরে সে । ৬টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয় ‘সে’ আর নেই ।

কেন এ আত্বহত্যা ? এ প্রশ্ন জানা যায়নি।কোন দিন হয়তো জানাও যাবেনা আর। বাবার সাথে মায়ের বিচ্ছেদের পর ব্যাপারটি তাসিন কেমন ভাবে গ্রহন করে ছিল, তা অজানাই থেকে যাবে ।পরবর্তি সময়ে অতি আধুনিকা সৎমায়ের সংসারে সে কেমন ছিল ? সে কথা না হয় থাক এখনে!
কিন্তু একজনকে ভালবেসে তার মূল্য তাকে চুকিয়ে দিতে হল এ বিষয়টি বেশ পরিস্কার । ফেসবুকে তার শেষ ষ্ট্যটাস লিখার প্রায় ৯ঘন্টা পর সে আত্বহত্যার জন্য ৫তলা থেকে ঝাপিয়ে পরে সে।
এর আগের রাতে প্রায় ২২ঘন্টা আগে পোষ্টকরা ষ্ট্যাটাসে সে লিখেছিল তার অভিমানের অনেক কথা ।
তার সংক্ষিপ্ত কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল-*
”পরিবারের জন্য একটা বড় বোঝা কমতে যাচ্ছে। ফলে সাশ্রয় হবে প্রচুর অর্থ, সমস্যা কমবে সম্পত্তি নিয়ে ”।
*”একটা মেয়ের জন্য একটা ছায়া নিখোঁজ হয়ে যাবে, যাকে ধরা না দেওয়ার জন্য মেয়েটা সারাক্ষণ অবহেলা করতো এবং লুকিয়ে থাকতো” । *তবে কয়েক ঘন্টা পর থেকে এই আবর্জনা, পৃথিবী থেকে মোচন হতে যাচ্ছে……
আমাদের প্রশ্ন, আসলেই কি পৃথিবীর এক কোন থেকে আবর্জনা মোচন হল? সত্য কি সে পরপারে পারি জমিয়েছে তিরস্কার নিতে……..
তার জবাব কি আমরা দিতে পারব কখন???

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন