বগুড়া সংবাদ ডটকম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে ট্রান্সকম ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড নামে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বগুড়া শাখার ব্রাঞ্চ ইনচার্জ আফজাল হোসেনকে (৪৬) অস্ত্রের মুখে অপহরনের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় থানায় মামলা (মামলা নং-১৫) দায়ের করা হয়েছে। ট্রান্সকম ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড বগুড়া শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় অভিযান চালিয়ে ২ অপহরনকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, বগুড়া সদরের খান্দার বিলেরপাড় এলাকার মতিয়ার রহমানের পুত্র জাকির হোসেন ওরফে সুমন হাজী (৪২) এবং খান্দার পুর্বপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদ সরকারের পুত্র নাজমুল হুদা সেলিম (৪৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফুলদিঘী এলাকায় ট্রান্সকম ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড বগুড়া শাখা অফিসের ড্রাইভার মেহেদী হাসান সেলিম (২৯) কর্মরত অবস্থায় ২০১৭ সালের ২৫ মে থেকে কাউকে কিছু না বলে কাজে আসে না। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে সে আর চাকরী করবে না এবং রিজাইন লেটার দিয়ে যাবে বলে জানায়। এরপর থেকে সে দীর্ঘদিন যাবত অনুপস্থিত থাকে। হঠাৎ করে ড্রাইভার মেহেদী হাসান সেলিম ১৪ জানুয়ারী অফিসে এসে পুনরায় তাকে চাকরীতে যোগদান করাতে বলে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম এবং ব্রাঞ্চ ইনচার্জ আফজাল হোসেন প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়া তাকে পুনরায় চাকরীতে যোগদানে অস্বীকার করলে সে দেখে নেবে বলে হুমকি-ধামকি দিয়ে যায়। এমতাবস্থায় ১২ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাঞ্চ ইনচার্জ আফজাল হোসেন প্রাইভেট কার যোগে তার বড়ছেলেকে বগুড়া সরকারী আজিজুল হক কলেজে পৌছে দিয়ে অফিসে ফেরার পথে ফুলতলা মোড়ে পৌছিলে মেহেদী হাসান সেলিম তার ২ সহযোগীসহ মটরসাইকেল নিয়ে এসে প্রাইভেট কারের সামনে ব্রিগেট দিয়ে থামায়। সেখান থেকে তাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে অপহরন করে মালগ্রাম সেলিমপুর রোড হয়ে আব্দুল্লাহপুর মোড় পুকুরপাড় এলাকায় একটি টিনসেড গ্যারেজ ঘরে আটকে রাখে। সেখানে সুমন হাজী ও সেলিম এসে মারধর করে এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আফজাল হোসেনকে দিয়ে মোবাইল ফোনে তার অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে বলে। ফোন পেয়ে শরীফুল ইসলাম তার সহকর্মিদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকার জন্য সময় চেয়ে নিয়ে ব্রাঞ্চ ইনচার্জ আফজাল হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এই ঘটনা থানা পুলিশকে জানালে থানার পুলিশ ইন্সপেক্ট (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ওইদিন বিকেলে পুকুরপাড় এলাকার ওই গ্যারেজ থেকে জাকির হোসেন ওরফে সুমন হাজী (৪২) এবং নাজমুল হুদা সেলিম (৪৪)কে গ্রেফতার করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ইন্সপেক্ট (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা এলাকার দাগী সন্ত্রাসী। সুমন হাজীর বিরুদ্ধে হত্যা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন