বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদলতে দায়ের করা জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলার সরেজমিন তদন্ত না করেই মনগড়া প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান। উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে জানিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে বলে জানানো হলেও আদৌ কোন সরেজমিন তদন্ত না করেই একটি মিথ্যা প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়েছেন তিনি।
শনিবার সন্ধায় বগুড়ার শাজাহানপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো করেন উপজেলার চৌপিনগর মধ্যপাড়ার মৃত রমজান আলীর পুত্র স্কুল শিক্ষক মিজানুর রহমান মিন্টু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাবা বেঁচে থাকালীন পরিবারের অনুমতিক্রমে চোপীনগর মৌজার সাবেক ৬৯১ নং দাগের ৪৫ শতক জমির উত্তর-পূর্ব ধারে ইটের প্রাচীর দিয়ে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেন মিজানুর রহমান মিন্টু।
বাবার মৃত্যুর পর উল্লেখিত ৪৫ শতক জমির উত্তর-পূর্ব ধারের ১২ শতক সম্পত্তি মিজানুরের নামে ১০/০৪/২০১৬ তারিখে ২৮৮১ নং হেবা দলিল করে দেন মা রেজিয়া খাতুন। বিষয়টি জানার পর মিজানুরের বড় ভাই আব্দুর রহমান একই দাগের ২৬ শতক জমি নিজ স্ত্রী সেলিনা আক্তার সেলির নামে ১১/০৪/২০১৬ তারিখে ৩০০০ নং হেবা দলিল করে দেন। ৩০০০ নং হেবা দলিলে এম.আর খতিয়ান ২৪৪ এবং ২৪৮ উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে উক্ত এম.আর খতিয়ানে ৬৯১ দাগ নাই।
তিনি আরো বলেন, উক্ত সম্পত্তির দখল বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিজানুরসহ তার দুই ভাই ও এক বোনের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্তে ৪৩পি/১৭ নং মামলা দায়ের করেন বড় ভাই আব্দুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা আক্তার শেলী। নালিশী সম্পত্তির দখল সরজমিন তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালত গত ০২/০৮/২০১৭ ইং তারিখে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
এমতাবস্থায় ইউএনও’র সাথে দেখা করলে তিনি উভয় পক্ষকে নোটীস দিয়ে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করবেন বলে জানান। একপর্যায়ে সরজমিনে না গিয়েই ১৩/১২/১৭ ইং তারিখে আদালতে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন প্রেরণ করেন ইউএনও। ওই প্রতিবেদনের কারণে মামলার বিদাবাদীগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ার পথে।
এমতাবস্থায় দাখিলকৃত প্রতিবেদন প্রত্যাহার পূর্বক নালিশী সম্পত্তির দখল সংক্রান্ত বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সরাসারি অথবা স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে পুনরায় তদন্তের জন্য সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন মিজানুর রহামন মিন্টু।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বরাবরের মত ফোন রিসিভ করেননি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন