বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে ’জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে চৌপাশ নাট্যাঞ্চল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে এই সন্মনানা লাভ করেছেন এই নাট্য সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাতা রাজা ফকির।
বগুড়ার সান্তাহারে চৌপাশ নাট্যাঞ্চল জন্মলাভ করেছে ২০১৩ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজা ফকিরের হতে গড়া এই নাট্য গোষ্ঠিটির যাত্রালগ্নটি মোটেই শুভ ছিল না। প্রথম দিকে সংগঠনের কার্যালয় না থাকা, অর্থনৈতিক সমস্যায় কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয় তাঁরা। এক সময় সান্তাহার ওয়াহেদ বক্স মিলানায়তনের অস্থায়ী কার্যালয় হিসাবে তাঁরা কাজ শুরু করে। সান্তাহারের বেশ কিছু প্রগতিশীল তরণ-তরুণী এই সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়। এই পযর্ন্ত তাদের ১৬টি নাটক প্রদর্শিত হয়েছে। তার মধ্যে ৮টি পথ নাটক এবং ৮টি মঞ্চ নাটক। ইতিমধ্যে তাঁরা বগুড়া, জয়পুরহাট, নওঁগা নাট্যৎসবে যোগদান করেছেন। ৮টি নাটক তাঁদের দর্শনীয় বিনিময়ে মঞ্চস্থ হয়েছে।
চৌপাশ নাট্যঞ্চলের সভাপতি রাজা ফকির শুরুতেই তার নিজ এলাকা সান্তাহার চা-বাগান কলোনিতে তাঁর নিজের লেখা প্রথমে মাদকের উপর দশ মিনিটের একটি নাটক মঞ্চায়ন করেন। প্রচুর অনুপ্রেরনা পান সেই নাটককে কেন্দ্র করে এলাকাবাসির। মুলত চৌপাশ নাট্যঞ্চলের যাত্রা এখান থেকেই। ২০০৮ সালে ঢাকায় আসেন রাজা ফকির। ঢাকার তিতুমির কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যের ওপর মার্ষ্টাস করেন তিনি। এরপর ঢাকার নাগরিক নাট্যগোষ্ঠিতে যোগদান করেন। সেখানে আসাদুজ্জামান নূর, আলী যাকের, আবুল হায়াতের মতো অভিনেতাদের সাথে কাজ করার সুযোগ হয় এবং আজ অবধি সেই নাট্যগোষ্ঠিতে কাজ করে যাচ্ছে।
২০১১ সালে রাজা ফকিরের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি সান্তাহার ফিরে আবার নাট্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। নাটকের রিহার্সেল করার জন্য একটি অফিস ভাড়া দিতেও কেউ রাজি হয়নি সে সময়। অবশেষে ওয়াহেদ বক্স মিলানায়তনের ঠাই হয় তাঁদের। সেখানে আলো,পানি,বাথরুম কোনটিই পাকাপোক্ত ছিল না। তারপরও হাল ছাড়েননি রাজা ফকির ও এই দলের সদস্যরা। সেই মিলানায়তনে মঞ্চস্থ করেন তাঁরা ’সালাম বাংলাদেশ’ ও নানা রঞের দেশ’ নামের দুটি মঞ্চ নাটক। এবারও দর্শকদের প্রচুর সাড়া পেলেন। ২০১৫ সালে ’জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে চৌপাশ নাট্যঞ্চল রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়। তারপর সি আর আই সংস্থা থেকে দফায় দফায় তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেওয়া হয়। অবশেষে ২০১৭ সালে সাভারের ’শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন একাডেমীতে’ সেই সংস্থার প্রধান সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে চৌপাশ নাট্যঞ্চল ’জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে।
রাজা ফকির জনালেন, এই অ্যাওর্য়াডটি পাবার পর আমি মনে করি আমাদের দায়িত্ব অনেকটা বেড়ে গেছে। আমরা এখন অনেক বেশি বেশি কাজ করবো নাটকের জন্য। নাটককে মানুষের দাড়গোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। আমরা নাটকের মাধমে সব সময় ভালো বার্তা দেওয়ার চেষ্ঠা করবো। নাটক করার ক্ষেত্রে কার অণুপ্রেরনা বেশি কাজ করেছে- এই প্রশ্নের জবাবে রাজা ফকির জানালেন, বাবা, মা’র অনুপ্রেরণা এ ক্ষেত্রে বেশি কাজ করেছে। এছাড়া তাঁর নিজ এলাকার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত সে। সংগঠনের সদস্যদের জন্য তেমন কোন পারিশ্রমিক সে দিতে পারে না। তারপরও সদস্যরা খুবই আন্তরিক বলে জনালেন তিনি। সান্তাহার সরকারি কলেজ সূবর্ন জয়ন্তী উৎসব ২০১৭’ অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ হয় চৌপাশ নাট্যঞ্চলের নাটক ’উইপোকা’। এই নাটকটি তাঁদের সর্বাধিক ৮ বার মঞ্চস্থ হয়েছে এবং দর্শক নন্দিত হয়েছে। ভবিষ্যৎ কি পরিকল্পনা আপনাদের- এই প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সভাপতি রাজা ফকির জানালেন, নাটকের মাধমে মাদক, বাল্যবিবাহ সহ নানা প্রকার বার্তা দিয়ে যাব আমরা। এছাড়া ভবিষ্যতে শটফিল্ম তৈরীর পরিকল্পনা আঝে তাঁদের। চৌপাশ নাট্যঞ্চল স্বপ্ন দেখে একটা সময় সারা দেশে কাজ করবে তাঁরা। সমাজের পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের নিয়ে চৌপাশ নাট্যঞ্চল কাজ করবে ভবিষ্যতে, এর জন্য সবার দোয়া, সহযোগিতা চায় তাঁরা।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন