বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : ৮ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে পুলিশের গ্রেফতার আতংকে বিএনপি নেতা শুন্য হয়ে পড়েছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা। পুলিশ সন্ত্রাসী স্টাইলে লাঠিসোটা নিয়ে মটরসাইকেল মহড়া, ভাংচুর ও মারপিট করছে বলে অভিযোগ বিএনপির। এপর্যন্ত প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ভাংচুর ও মারপিটের ঘটনা অস্বীকার করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের ন্যায় বগুড়ার শাজাহানপুরেও যে কোন ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় গোয়েন্দা নজরদারী ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরীর পাশাপাশি গ্রেফতার অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। ১ ফ্রেব্রুয়ারী রাত থেকে শুরু করে ৬ ফেব্রুয়ারী রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় অর্ধশত বিএনপি নেতা-কর্মিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য সরবরাহ না করায় গ্রেফতারের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সুত্র বলছে গ্রেফতারের সংখ্যা আরো বেশী।
এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জাহিদুর রহমান, আমিনুর রহমান, আহাদ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল হান্নান নামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৬ জন নেতা-কর্মিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন, মাঝিড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক খায়রুল বাশার ও বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশীর নামে সন্ত্রাসী স্টাইলে ভাংচুর ও মারপিট করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অপরদিকে বুধবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল বাশারের নয়মাইলস্থ বাড়িতেও তল্লাসী চালিয়েছে পুলিশ।
এমতাবস্থায় পুলিশের গ্রেফতার আতংকে বাড়ি-ঘর ছেড়েছে বিএনপি নেতা-কর্মিরা।
বিএনপি নেতা মিন্টুর বৃদ্ধ বাবা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করে ২০-২৫টি মটরসাইকেল যোগে ৪০-৪৫ জন পুলিশ হাতে হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত ভাবে বাড়ি ভিতর প্রবেশের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে মিন্টুর মা ও তার স্ত্রীকে মারপিট করে এবং দরজা-জানালা ভাংচুর করে। এসময় মিন্টুর এসএসসি পরিক্ষার্থী মেয়ে সহ পরিবারের লোকজন অতংকিত হয়ে পড়ে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেনের ভাই জানান, একই ভাবে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে পাকঘরের চুলা ও গ্রীলের দরজা ভাংচুর করে।
এবিষয়ে থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি ভাংচুর ও মারপিটের কথা অস্বীকার করে বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এবং তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। জান মাল রক্ষায় পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতির কারনে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলেও মনে করেন তিনি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন