বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের জয়শিং ঘাট এলাকার বাঙ্গালী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ী ও ভিটেমাটি সহ ফসলী জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এবিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে ওই গ্রামের শতাধিক মানুষ ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
জানাগেছে, উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের জয়শিং ঘাটের বাঙ্গালী নদীতে জয়শিং গ্রামের আবু তাহের ফকিরের ছেলে ফরহাদ হোসেন দীর্ঘদিন যাবত নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। নদীর গভীর তলদেশ থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর গভীরতা সৃষ্টি হয়ে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী মানুষের বসতবাড়ী সহ ফসলী জমি হুমকির মুখে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকায় নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। এবিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে জয়শিং গ্রামের হারুনর রশিদ, আব্দুর রহিম, রফিকুল ইসলাম, হামিদুর রহমান সহ শতাধিক মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
এবিষয়ে জয়শিং গ্রামের হারুনর রশিদ বলেন, বাঙ্গালী নদীতে এভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ফরহাদ হোসেন ও আবু সেলিম নামের দুই ব্যক্তি নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারনে শুষ্ক মৌসুমেই নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী আমাদের বসতবাড়ী সহ ফসলী জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আমাদের গরীব মানুষদের বাড়ীঘর জমিজমা সবই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তবে এবিষয়ে সংবাদপত্রে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। তাই বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
তবে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, পুলিশ প্রশাসন সহ দলীয় নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বালু উত্তোলন বন্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন