বগুড়া সংবাদ ডট কম (মোশাররফ হোসেন মজনু, সোনাতলা) : বগুড়ার সোনাতলায় দরিদ্র পরিবারের হেলাল উদ্দিন (২৪) নামে এক বেকার যুবক টারকি মুরগী পালন করে বেকারত্ব দূর করেছে। জায়গার অভাবে সে নিজ ঘরে একটি বারান্দা তৈরি করে সেখানে কয়েকটি টারকি মুরগী পালন শুরু করেছে। উপজেলার সুজাইতপুর গ্রামের লালু মন্ডলের একমাত্র ছেলে হেলাল উদ্দিন। তার পিতার আবাদী জায়গা-জমি নেই বললেই চলে। দরিদ্র পিতা ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসার চালায়। সংসারের অভাব অনটন লাঘব করতে ছেলে হেলাল উদ্দিন টারকি মুরগী পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক নয় মাস আগে সে বগুড়ার শেরপুর থেকে প্রতিটি ৬০০ টাকা হিসেবে ১৩টি টারকি মুরগীর বাচ্চা সংগ্রহ করে আনে। কয়েকদিন পরেই ৮টি বাচ্চা মারা যায়। তখন তারা হতাশায় পড়ে। মন হয়ে যায় ভীষণ খারাপ। থাকে শুধু ৫টি বাচ্চা। এগুলো বড় হলে ডিম দিতে থাকে। এক সপ্তাহে ২৮টি ডিম দেয়। শেরপুরে একটি হ্যাচারী থেকে ডিমগুলো ফুটিয়ে বাচ্চা হলে তা ওখানেই প্রতিটি বাচ্চা ৩৫০ টাকা হিসেবে বিক্রি করে। পরবর্তীতে নিজ বাড়ি থেকেও বাচ্চা বিক্রি করছে। এ পর্যন্ত সে ২০০টি বাচ্চা বিক্রি করে লাভবান হয়েছে।

বর্তমানে তার ওই ক্ষুদ্র খামারে ছোট-বড় মিলে ৩৬টি টারকি মুরগী রয়েছে। এরমধ্যে বর্তমানে ৫টি মুরগী প্রতি সপ্তাহে বেশকিছু ডিম দিচ্ছে। ডিমগুলো ফুটিয়ে বাচ্চা বিক্রি করে তা থেকে প্রতি সপ্তাহে আয় হচ্ছে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। হেলাল উদ্দিন জানায় জেরো বয়স থেকে তিন মাস বয়সের প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি করা হয় ৩০০-৩৫০ টাকা। একটি বড় মুরগী বিক্রি করা হয় সাড়ে তিনহাজার থেকে চারহাজার টাকা পর্যন্ত। ডিম ও বাচ্চা কেনার চাহিদা আছে অনেকের। টারকি মুরগীর ব্যবসা লাভজনক। এগুলোর খাদ্য পাওয়া যায়। সে আরো জানায়, নিজ বাড়িতে জায়গা না থাকায় খামার বড় করা সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ির পাশে সামান্য জায়গা আছে। সেখানে বড় একটি সেড ঘর নির্মাণ করে বড় খামারে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা.একেএম রুহুল আমিন জানান, অন্যান্য জাতের মুরগীর তুলনায় টারকি মুরগী ও ডিমের দাম বেশি। মুরগীর আকার হয় বড়। ডিমও বেশি দেয়। রোগ বালাই কম। তাই টারকি মুরগী পালনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। সুজাইতপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনসহ উপজেলায় বর্তমানে ১০ জন টারকি মুরগীর খামার দিয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন