বগুড়া সংবাদ ডট কম (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রশিদুর রহমান রানা) : বগুড়ার শিবগঞ্জের পল্লীতে কাজী কোল্ড ষ্টোর এর কনডেনসার কয়েল পানির ঝর্ণা মেরামতের সময় ট্যাংকির পানি হতে সৃষ্টি এ্যামোনিয়া জাতীয় গ্যাস বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে প্রায় একশত বিঘা জমির আলু ও বাগানের গাছ পুরে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার বিহার ইউনিয়নের ধামাহার কাজী কোল্ড ষ্টোর বিগত ৩ বছর যাবৎ চালু করা হয়েছে। কিন্তু ষ্টোর চালুর পর থেকে আলুর গুণগত মান সঠিক না থাকার কারণে ষ্টোরের যন্ত্রপাতি মাঝে মধ্যে নষ্ট হওয়ার ফলে ষ্টোর কর্তৃপক্ষ কনডেনসার কয়েল পানির ঝর্ণা মেরামত করার সময় গতকাল ট্যাংকির পানি এ্যামোনিয়া জাতীয় গ্যাসে পরিণতি হয়ে বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে আশপাশের প্রায় ৫০ জন কৃষকের ১ শত বিঘা জমির আলু গাছ, ধানের চারা ও মেহগনি, ইউকালেক্টর এর বাগান পুরে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ধামাহার গ্রামের মোঃ হবিবর রহমান এর ৩ বিঘা, রফিকুল ইসলাম এর ২ বিঘা, আমজাদ হোসেনের ১০ বিঘা, খয়বর আলীর ৩ বিঘা ও গোলাপ হোসেন এর ২৫ শতক জমির মেহগনি ইউকালেক্টর বাগান ও সিরাজুল ইসলামের ২০ শতক ধান বীজ সহ এ রকম প্রায় ৫০ জন কৃষকের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ওই গ্রামের কৃষক এসকেনদার আলী বলেন, আমি সমিতির থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছি কিন্তু হঠাৎ ষ্টোর কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ দূর্ঘটনায় আলু নষ্ট হওয়ায় আমি ব্যাপক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছি, তিনি আরো বলেন, আমি কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো তা আমার জানা নেই। বেশ কয়েক কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করে বলেন, আর মাত্র ২০ দিন পর আমাদের ঘরে নতুন আলু ওঠার কথা কিন্তু এই ষ্টোরের এ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে আমাদের সকল আশা-ভরসা ভেস্তে গেছে, তারা আরো বলেন আমাদের প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকা, তাই ষ্টোর কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে তারা ক্ষতি পূরণের দাবী জানান। এব্যাপারে কাজী কোল্ড ষ্টোরের ম্যানেজার আবু তাহের বলেন, এই ষ্টোর ছোট আকারে করা হয়েছে। মাত্র ২০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা যায়। তিনি আরো বলেন, আমরা সুনামের সহিত ষ্টোর পরিচালনা করে আসছি মেশিন নষ্ট হওয়ার কারণে মেরামতের সময় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকদের নামের তালিকা প্রস্তুত করেছি এবং তাদের সঙ্গে আমাদের সমোঝতা বৈঠক চলছে। তবে সাধ্যমত তাদের ক্ষতি পূরনের চেষ্টা করবো। ষ্টোরের পানির ঝর্ণার কাজের ঠিকাদার নারায়নগঞ্জ জেলার ফালগুনী এন্টার প্রাইজের তত্ত্বাবধানে ম্যানেজার মোঃ ছামছুল আলম বুলবুল এ প্রতিবেদক কে বলেন ষ্টোরের সংরক্ষিত আলুর গুণগত মান সঠিক রাখার লক্ষে আমরা কনডেনসার কয়েল এর কাজ করার সময় পানির ট্যাংকিতে সরবরাহ করার সময় পানির ট্যাংকিতে সরবরাহ করে থাকি কিন্তু বাতাসের সঙ্গে বাষ্পীয় হয়ে পার্শ্ববর্তী আলুর জমির ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাছুদ আহম্মদ বলেন বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। আলুর গাছগুলো এ্যামোনিয়া জাতীয় গ্যাসের কারণে নষ্ট হয়েছে। তবে নষ্ট গাছগুলোর ফলন সঠিক ভাবে হবে না বলে তিনি জানান।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন