বগুড়া সংবাদ ডট কম (সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন) : তিনি স্বাধীন বাংলার একজন গর্বিত সন্তান, যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের জাতীয় পতাকা, পেয়েছি একটি নিজেস্ব মানচিত্র। পেয়েছি স্বাধীন ভাবে চলাফেরা ও বসবাসের নিশ্চয়তা। দুঃক্ষজনক হলেও সত্য যে সেই সূর্য সৈনিক বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়া গ্রামের নজিম উদ্দিন খাজা অদৃশ্য কারনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সরকারী তালিকা ভুক্ত হতে পারেনি।

সাংবাদিক রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন এই সূর্য সন্তানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই চলাকালীন সময়ে তিনি যথাযথ ভাবে নির্ধারিত নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেন। ফরমে বলা হয়েছিলো যুদ্ধকালীন সময়ে সহযোগী তিন জন যোদ্ধাদের সুপারিশ সহ আবেদন করতে হবে। সেই মোতাবেক তিনি যুদ্ধকালীন কমান্ডার (১) মো. আব্দুল হামিদ (এফ,এফ,নং৭৪০/গেজেট নং৪৫৮,মুক্তিবার্তা নং ০৩০৬০৪০৩৩৬) এবং (২) মো. শামসুল হক, দলপ্রধান (তার সহকারী যোদ্ধা) এফ,এফ,নং৭৯/৬১ গেজেট নং৫৯৯ মুক্তিবার্তা নং ০৩০৬০৪০১ এবং(৩) বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও হাটশেরপুর ইউপি কমান্ডার মোঃ মতিউর রহমান তাকে লিখিত ভাবে সমর্থন বা সাক্ষর প্রদান করেন যে তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, তিনি আমাদের চেনাজানা, তাকে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে তালিকা ভুক্তি করা হোক।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই বাংলার বীর সেনার! মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তভুক্ত হতে পারেননি তিনি। এব্যাপারে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এছাড়া আরও বেশকিছু মুক্তিযোদ্ধা শামসুল, সোলেমান, সামাদ, সবুর এর সাথে কথা বললে তারা জানান, নাজিম আমাদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় পাকবাহিনীর সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন, অতপর আমরা তাকে উন্নত প্রশিক্ষনের জন্য ট্রেনিং করতে ইন্ডিয়ায় Patiram Youth Camp পাঠাই (সিরিয়াল নং ২৫২৭৯/ c.camp এর র্সাটোফিকেট আছে)।

মুক্তিযোদ্ধা খাজা বিনয়ী সূরে বলেন, যখন টিভি/পত্র পত্রিকায় দেখি অনেক রাজাকার বা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা সরকারী ভাতা বা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে, তখন আমার বুকের হৃদয়ে খুব যন্ত্রনা হয়, অনেক কষ্ট অনুভব করি, আর চিন্তা করি আমি হার্টের সমস্যায় চলাফেরা করতে পারিনা। টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছিনা। সেরকম কোন কাজ-কর্মও করিনা, আয় রোজগার নাই। খেয়ে না খেয়ে জীবন চলে। এক ছেলের নিম্ন আয়, সে ঠিক মতো সংসার চালায় না কখনো মাসে ১০০০/১৫০০ টাকা দেয় তা দিয়ে আমার সারা মাসের ঔষধ কিনার টাকাও হয় না! এখন জীবনের শেষ সময়ে এসেছি যেকোন সময় হয়তো আল্লাহ ডাকদিবে, শুধু আফসোস প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও শিকৃতি পাইলাম না।

সংবাদকর্মীর কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন এই মুক্তিযোদ্ধা, আমি কি মৃত্যুর আগে সরকারী গেজেট ভুক্ত হতে পারবো? বুকে ব্যথা নিয়ে আশাবাধি কোন এক দিন হয়তো সেই আশা পুরন হবে, এই প্রত্যাশা করি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রানালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সারিয়াকান্দি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সহ সকলের সহযোগিতা, সু-দৃষ্টি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আর কতটুকু চোখের জল এই দেশের মাটিতে পড়লে নজিম উদ্দিন খাজা’র কান্না সরকার পর্যন্ত পৌছবে?

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন