বগুড়া সংবাদ ডট কম (কাহালু প্রতিনিধি এম এ মতিন) : মহামান্য হাইকোর্টের আদেশকে অমান্য করে বগুড়ার কাহালুর কল্যাপাড়া আনোয়ারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার শিক্ষক/কর্মচারীর বেতন উত্তোলন। গত ১৩/০৬/১৬ইং তারিখে অত্র মাদ্রাসার গভনিং বডির সভায় ১০ জনের স্বাক্ষরিত রেজুলেশনের মাধ্যমে মাদ্রাসার বিপুল পরিমান অর্থ আত্নসাত করার কারণে অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অত্র মাদ্রাসার গভনিং বডির সভাপতি মোঃ ইউনুস আলী মন্ডল মহামান্য হাইকোর্টে রিট করেন। রিট নং-১৪৭১৭/১৭ইং। মহামান্য হাইকোর্টের ১০ নং ব্রেঞ্চের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও এ কে এম জাহিরুল হক গত ০৫/১১/১৭ইং তারিখে অত্র মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ ইউনুস আলী মন্ডল ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ এর যৌথ স্বাক্ষরে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক/কর্মচারীর বেতন বিল তোলার আদেশ দেন। গত ০৮/১০/১৭ইং তারিখে ভিসি ও রেজিষ্ট্রার সহায়ক কল্যাপাড়া আনোয়ারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভনিং বডির সভাপতি হিসেবে মোঃ ইউনুস আলী মন্ডলকে নির্বাচিত করেন। সে মোতাবেক গভনিং বডির মেয়াদকাল ছিল গত ২৫/১১/১৭ইং। বিধি মোতাবেক গভনিং বডির মেয়াদকাল উত্তীর্ণের পূর্বেই পুনরায় বিধি অনুযায়ী গত ১৬/১১/১৭ইং তারিখে পূর্নাঙ্গ গভনিং বডির নির্বাচন করা হয়। সুতরাং গভনিং বডির মেয়াদ আগামী ২৫/১১/২০২০ইং পর্যন্ত। গত ১৪/০১/১৮ইং তারিখে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আই.সি.টি) ও সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম সহ ৫ জন মহামান্য হাইকোর্টের ২১ নং কোর্টে সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বাতিল চাইয়া আবেদন করলে গত ১৬/০১/১৮ইং তারিখে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও এ কে এম জাহিরুল হক আবেদন বাতিল করে পূর্বের আদেশ বহাল রাখেন। গত ২২/০১/১৮ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশকে অমান্য করে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আই.সি.টি)’র স্বাক্ষরে কল্যাপাড়া আনোয়ারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার শিক্ষক/কর্মচারীর বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। গত ৩০/০১/১৮ইং তারিখে ২য় বার আবারও মহামান্য হাইকোর্টের ১০ নং কোর্টে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আই.সি.টি)’র স্বাক্ষরে বেতন বিল দেওয়ার জন্য সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম সহ ৫ জন আবেদন করলে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতিদ্বয় তাদের আবেদন শুনানীন্তে আউট অফ লিস্ট করে অত্র মাদ্রাসার গভনিং বডির সভাপতি মোঃ ইউনুস আলী মন্ডল ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ এর যৌথ স্বাক্ষরে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক/কর্মচারীর বেতন বিল তোলার পূর্বের আদেশ বহাল রাখেন। মাদ্রাসার নিকটবর্তী গ্রামে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, মোঃ ইউনুস আলী মন্ডল অত্র মাদ্রাসার গভনিং বডির সভাপতি হওয়ার পর মাদ্রসার প্রায় ১শত ৫০ বিঘা জমি বিভিন্ন লোকের মধ্যে থাকা তা বের করেন। আগে মাদ্রাসায় জমি পত্তন হতো ২/৩ লক্ষ টাকা বর্তমানে জমি পত্তন হচ্ছে প্রায় ৮/৯ লক্ষ টাকা এবং মাদ্রাসার ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। এইজন্য অত্র মাদ্রাসার কিছু অর্থ আত্নসাত শিক্ষক তাকে মেনে নিতে পারছে না বলে তারা মন্তব্য করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন