বগুড়া সংবাদ ডটকম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগের নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারন গ্রাহককে জিম্মি করে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে পল্লী বিদ্যুতের লাইসেন্সধারী ইলেকট্রেশিয়ান ও এক শ্রেণীর দালাল চক্র নীরব এই চাঁদবাজি করে যাচ্ছে। চাঁদা দিয়েও বছরের পর বছর মিলছে না পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ। শুক্রবার সন্ধায় পাওনা টাকা চাওয়ায় পৌর এলাকার চরপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক সহ ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে পল্লী বিদ্যুতের লাইসেন্সধারী ইলেকট্রেশিয়ান দুলাল মিয়া। শুধু পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি এক ভ্যান চালকের অটো ভ্যানও ছিনতাই করেছে তার লোকজন।
জানাগেছে, পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেওয়ার কথা বলে প্রায় দুই বছর আগে চরপাড়া গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে সাইদুল ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা আদায় করে একই গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে ইলেকট্রেশিয়ান দুলাল মিয়া। কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হলেও সাইদুল ইসলামকে কোন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি দুলাল মিয়া। শুক্রবার সন্ধায় হুকুমআলী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে দুলাল মিয়া ও তার লোকজন গ্রাহক সাইদুল ইসলামকে মারধর করতে থাকে। এসময় পথচারী সাইফুল ইসলাম, সেলিম হোসেন, নান্নু মিয়া ও হান্নান মিয়া বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও তারা মারপিটে আহত করে। পরে হান্নান মিয়ার একটি অটো ভ্যান ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুলাল মিয়া ও তার লোকজন। তবে পরিস্থিতি শান্ত করলেও অটো ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
ধুনট থানার এসআই খোকন কুন্ডু বলেন, পল্লী বিদ্যুতের চাঁদা আদায় করাকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে এবং অটো ভ্যান উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এবিষয়ে কেউ অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, পল্লী বিদ্যুতের লাইসেন্সধারী ইলেকট্রেশিয়ান দুলাল মিয়া শুধু সাইদুল ইসলামের কাছ থেকেই নয় সে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের কয়েক শত গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তেমনি একজন প্রতারনার শিকার মথুরাপুর ইউনিয়নের পীরহাটি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে খোকন মিয়া। তার গ্রামে ৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য ইলেকট্রেশিয়ান দুলাল মিয়া হাতিয়ে নিয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছরেও সে কোন বৈদ্যুতিক খুঁটি দিতে না পারলেও মাত্র ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে।
প্রতারনার শিকার খোকন মিয়া বলেন, দুলাল মিয়া ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে বাকি ৬৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সে বর্তমানে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেছে।
এদিকে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগে কথা বলে একইভাবে উল্লাপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার মন্টু মিয়ার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা, একই গ্রামের কাশেম মোনকারের ছেলে মঞ্জু মিয়ার থেকে ৫ হাজার টাকা, হাফিজার রহমানের থেকে ৩ হাজার টাকা, চরপাড়া গ্রামের ভুলু মিয়ার ছেলে সুলতান মাহমুদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, একই গ্রামের সিরাজ মন্ডলের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, চালাপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর থেকে ৪ হাজার টাকা সহ উপজেলার কয়েক শত গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইলেকট্রেশিয়ান দুলাল মিয়া। কিন্তু এসব গ্রাহকদের দুই তিন বছরেও কোন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি দুলাল মিয়া।
এবিষয়ে ইলেকট্রেশিয়ান দুলাল মিয়া বলেন, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের খরচের জন্য কিছু টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া কিছু কাগজপত্র সমস্যার কারনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
শুধু ইলেকট্রেশিয়াল দুলাল মিয়াই নয় তার মতো ধুনট পল্লী বিদ্যুতের লাইসেন্সধারী ৯জন ইলেকট্রেশিয়ান সহ একটি দালাল চক্র বিদ্যুৎ সংযোগের নামে সাধারন মানুষের কাছ থেকে প্রতারনা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি ভুয়া লাইসেন্সে এক ব্যক্তিকে সেচ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মকর্তাকে বদলীও করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই পল্লী বিদ্যুতের দূর্ণীতি।
ধুনট পল্লী বিদ্যুতের এজিএম বিজয় কুন্ডু বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য লাইসেন্সধারী ইলেকট্রেশিয়ানরা কোন টাকা আদায় করতে পারবে না। তারা শুধু রিপোর্ট দিলে গ্রাহকের কাছ থেকে সামাস্য কিছু পারিশ্রমিক পাবে। তবে কোন ইলেকট্রেশিয়ানের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে চাঁদা আদায়ের লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন