বগুড়া সংবাদ ডটকম (গাবতলী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম লাকী) : সরকার যখন বাংলাদেশকে ডিজিটাল গড়তে নিরলসভাবে কাজ করছে, তখন বগুড়া রেলওয়ের ৪নং কাচারীর ফিল্ড কানুগো আব্দুল কাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করে এনালগ গতিতে দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। কানুগো আঃ কাদের ও রেলবিভাগের এক কর্মকর্তা রেলের পুকুরে দরপত্র ড্রপকারীদের মামলার ফাঁদে ফেলে রেলপক্ষের উকিল চিত্তরঞ্জন বসাককে ম্যানেজ করার কথা বলে মোটা অংকের টাকা পকেটস্থ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সর্বোচ্চ দরদাতারা পুকুর/জলাশয় না পেয়ে নিম্ন দরদাতারা পেলে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্ছিত হবে। কানুগো আঃ কাদেরের দুঃসাহসিক এই রাজস্ব’র অর্থ লুটপাটের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহীর মহা-ব্যবস্থাপক খায়রুল আলম (জিএম), চীফ এষ্টেট অফিসার আব্দুল মান্নান (সিইও) এবং লালমনিরহাটের ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজয়ানুল হক (ডিইও) এর নিকট অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের রেলওয়ের বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজুয়ানুল হক বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় রেলের নিয়ন্ত্রনাধীন পুকুর/জলাশয় ১৪২৪হতে ১৪২৮পর্যন্ত মোট ৫বছর মেয়াদী লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে গতবছরের ২ই আগষ্টে দৈনিক করতোয়াসহ বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে দরপত্র আহবান করেন। ঘোষিত এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৯শে আগষ্টে লালমনিরহাট বিভাগীয় ভুমি কার্যালয়ে গিয়ে অনেকে সিডিউল ড্রপ করেন। এরপর পরেই বগুড়ার ফিল্ড কানুগো আঃ কাদের রেলবিভাগের উর্ধতন এক কর্মকর্তার যোগসাজসে তাদের পোষ্য দালালদের মাধ্যমে নিম্ন দরদাতাদের স্বল্পদরে রেলের পুকুর পাইয়ে দেয়ার চুক্তিতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাবতলী রেলষ্টেশনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত (মৌজা গাবতলী, জে.এল. নং ৬৫, খতিয়ান নং ২, এস.এ দাগ নং ৪২৮/অংশ) ৩৬শতকের পুকুরে ২লক্ষ ১৮হাজার টাকা (ভ্যাটসহ) দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন গাবতলী পুরান বাজারের মৃত আব্দুস ছাত্তার সরকারের ছেলে মোঃ রায়হানুল ইসলাম। একর প্রতি ৪১হাজার ৬’শ ৬৭টাকা দর দিয়ে ২য় দরদাতা হন জনৈক আজিজার রহমান পাইকার এবং ২৪হাজার ২’শ টাকা দর দিয়ে ৩য় দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হন ফেরদৌস ওয়াহিদ ওরফে মামুন মন্ডল। দরপত্র খোলার পর পরপরই কানুগো আঃ কাদের ও রেলবিভাগের উর্ধতন এক কর্মকর্তার নাননু (৪৫) নামের এক পোষ্য দালালের মাধ্যমে ৩য় দরদাতা মামুন মন্ডলের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা রায়হানুল ইসলাম যথেষ্ট প্রমাণসহ রেলবিভাগের জিএম খায়রুল আলম, সিইও আব্দুল মান্নান এবং ডিইও রেজয়ানুল হককে জানান। তখন রেলবিভাগের উর্ধতন ওই তিন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ দরদাতা রায়হানুলকে আশ্বস্ত করে বলেন, ৩য় দরদাতা মামুন মন্ডল যাকে যতই ঘুষ দিক্না কেনো, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আপনিই পুকুরটি পাবেন। এদিকে কানুগো আঃ কাদের রেলের উর্ধতন এক কর্মকর্তার যোগসাজসী পরিকল্পনায় ৩য় দরদাতা মামুন মন্ডল ও তার বড়ভাই ফিরোজ মন্ডল তাদের অন্য ভাইদের স্বাক্ষর জাল করে গত ০৭/০৯/১৭ তারিখে জেলা বগুড়ার গাবতলী থানা সহকারী জজ আদালতে রেল বিভাগের জিএম খায়রুল আলম, সিইও আব্দুল মান্নান এবং ডিইও রেজয়ানুল হককে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১১৬/১৭(অন্য)। মামলায় উল্লেখ করা হয়, “রেল কর্তৃপক্ষ গোপনে অনিয়ম করে ২০শতকের পুকুর ৩৬শতক হিসেবে দরপত্রে উল্লেখ করে রেলের পুকুর লিজ দিচ্ছে। বিষয়টি তারা জানেন না। তাই তারা দরপত্রেও অংশগ্রহন করতে পারেননি। এখন তারাই ঐ পুকুরটি লিজ নিতে চান।” মামলাটি বর্তমানে জজকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে সরেজমিনে মামলার তফশীলভুক্ত ভুমিতে উপস্থিত হয়ে মাপযোগ করতঃ নকশাসহ প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিলের জন্য ডিইও রেজুয়ানুল হক বারবার লিখিতভাবে তাগিদপত্র পাঠালেও কানুগো আঃ কাদের ৩য় দরদাতা মামুন মন্ডলকে খুশি করতে কর্তৃপক্ষের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করছেন না। প্রতিবেদন না পাঠানোর কারণে আদালত আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে গাবতলী মডেল থানার ওসি অপারেশন (নিরস্ত্র) সনাতন চন্দ্র সরকার আদালতের আদেশটি ২৯জানুয়ারীতে নোটিশ জারী করে বলেন, বাদীপক্ষ গত ০৪/১০/১৭তারিখে আদালতে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে রেলপক্ষের উকিল চিত্ত রঞ্জন বসাক ওইদিনই আপত্তির কপি রিসিভ করলেও পরপর দুটি তারিখেও তিনি কিংবা রেলপক্ষের অন্যকেউ লিখিতভাবে কোন জবাব দাখিল করেননি। মাননীয় আদালতের সহকারী জজ মোছাঃ রেশমা খাতুন আগামী ২০ফেব্রুয়ারীতে জবাব দাখিল ও শুনানীর জন্য দিনক্ষণ ধার্য করেছেন। এরআগেই বিজ্ঞ আদালতে কানুগো আঃ কাদেরের তৈরীকৃত তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল না করলে একতরফাভাবে রেলপক্ষের বিপক্ষে আদেশ হতে পারে। তাতে সরকার হারাবে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট এর বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজুয়ানুল হক জানান, মামলার তফশীলভুক্ত জমিতে সরেজমিনে মাপযোগ করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য গতবছরের নভেম্বর মাস থেকে বেশ কয়েকবার বলা হলেও কানুগো আঃ কাদের অজ্ঞাত কারণে তা দাখিল করছেন না। ৩য় দরদাতা মামুন মন্ডলকে অডিট আপত্তি থেকে বাঁচাবার জন্য অনিয়মভাবে বকেয়া লাইসেন্স গ্রহণ করারও অভিযোগ রয়েছে কানুগো আঃ কাদেরের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে রাজশাহীর মহা-ব্যবস্থাপক খায়রুল আলমের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, কানুগো আঃ কাদেরের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা ও উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে লিখিত অভিযোগটি হাতে পেলেই তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বগুড়ার রেলওয়ের ৪নং কাচারীর ফিল্ড কানুগো আব্দুল কাদের এর সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার মোবাইল ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। রেলের ওইসব দু’একজন অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেলের উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন