বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়ার শাজাহানপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘদিনের গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযান চালিয়েছে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। শনিবার সকাল থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত হয়েছে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। দু’দিনব্যাপি উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ঢাকা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী (উপসচিব)। অপরদিকে সওজ’র উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগন।
উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তানিমুল হক, শাজাহানপুর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাছুদুর রহমান, শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম। আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন র‌্যাব, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা।
উচ্ছেদ অভিযানের ১ম দিন শনিবার সকালে নয়মাইল এলাকায় অভিযান চলাকালে অবৈধ স্থাপনার সাথে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে থাকা স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হচ্ছে এমন অভিযোগে উত্তেজিত হয়ে উঠে স্থানীয় জনতা। একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে সওজ’র অভিযানে অংশ নেয়া একজন চালক আহত হন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল বাশারকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় সওজ বগুড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তানিমুল হক বাদি হয়ে শাজাহানপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অবৈধ স্থাপনার সাথে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে থাকা স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হচ্ছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ঢাকা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ফারুকী (উপসচিব) জানান, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে থাকা কোন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি। এসময় ‘মহাসড়কের ১০ মিটারের মধ্যে কোন হাট বাজার ও বানিজ্যিক স্থাপনা তৈরীর অনুমতি দেয়া যাবে না’ মর্মে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের একটি চিঠি দেখান তিনি।
অপরদিকে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের এই নির্দেশ উচ্ছেদ অভিযানের আগে মাইকিং করে প্রচার করা হয়নি এবং উচ্ছেদ অভিযানে দু’এক জায়গায় এই নির্দেশ মানা হলেও অনেক স্থানে তা মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
আড়িয়া বাজার এলাকায় সওজ’র উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হঠাৎ করে এলজিডি সড়কের (আড়িয়া বাজার থেকে ডেমাজানী) দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয় হয়। এতে অনাকাংখিত ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা।
এবিষয়ে উচ্ছেদ অভিযানের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামানের নিকট জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামানের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সওজ’র উচ্ছেদ অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট থাকা অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশের কোন গ্রহন যোগ্যতা আছে কি না এবং এলজিডি সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায় কিনা এবিষয়ে কোন সদোত্তর দিতে পারেননি নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বরাবরের মত ফোন রিসিভ করেননি।
এমতাবস্থায় সওজ’র অভিযানে এসে বিনা নোটিশে হঠাৎ করে এলজিডি সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুধু স্বেচ্ছাচারিতাই নয় অনধিকার চর্চা বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকা হওয়ায় বি-ব্লকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত না হলেও মাঝিড়ার সাজাপুর এলাকায় সওজ’র ১০-১২ ফিট সম্পত্তির ভিতর অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ভবন বহাল তবিয়তে থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ভবনের আশপাশে অন্যান্য স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হলেও ভবন মালিকের অনুরোধে শুধুমাত্র ভবনের গেট ভাংচুর করে চলে যাওয়ায় এটাকে আইওয়াশ বলে মন্তব্য করেন প্রত্যক্ষদর্শিরা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, সময় স্বল্পতার কারনে এবং বিল্ডিংয়ের নীচতলায় সাব-রেজিষ্টার অফিসের সরকারী কাগজপত্র থাকায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তা সড়িয়ে নিতে লিখিত ভাবে বলা হয়েছে। আইওয়াশ নয় সিগন্যাল হিসেবে বিল্ডিংয়ের কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা সড়িয়ে না নিলে তা উচ্ছেদ করা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন